Chtnews24.com
সংবাদকর্মীদের লেখনির মাধ্যমে জনগণ সচেতন হওয়ায় একটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে-মোঃ আলমগীর কবীর
Tuesday, 09 Jul 2019 15:02 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

রাঙ্গামাটিঃ-রাঙ্গামাটিতে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (বিআরসি) পদে নিয়োগের ব্যাপারে সংবাদকর্মীরা ব্যাপকভাবে প্রচার করায় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে একটি স্বচ্ছ ও আর্থিক লেনদেন মুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর। তিনি বলেন, মাননীয় আইজিপি স্যার যে নিদের্শনা দিয়েছিলেন তা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে একটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেছি।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিকদের নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এ এস পি সার্কেল জাহাঙ্গীর কামাল, এ এস পি রণজিৎ কুমার পালিত, রাঙ্গামাটি কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর জাহেদুল হক রনি, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সত্যজিৎ বড়ুয়া, প্রবীন সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি অলি আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম শামসুল আলম, কোষাধ্যক্ষ পুলক চক্রবর্তী, প্রেস ক্লাবের সদস্য সৈয়দ মাহাবুব আহামদ, রাঙ্গামাটি সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নন্দন দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বাহাদুর, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান, সাধারণ সম্পাদক হিমেল চাকমা, কোষাধ্যক্ষ আলমগীর মানিকসহ রাঙ্গামাটিতে কর্মরত সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবির আরো বলেন, রাঙ্গামাটিতে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (বিআরসি) পদে নিয়োগের ব্যাপারে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। এছাড়া জেলা তথ্য অফিস/আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্রের মধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সকল থানার আশে পাশে এলাকায় মাইকিং করে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে পুলিশ সুপার, রাঙ্গামাটি ফেসবুক পেইজেও প্রচার করা হয় যে ২৪ জুন তারিখে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় পুরুষ/নারী কনস্টেবল পদে ভর্তির জন্য প্রার্থী বাছাই করা হবে এবং শারীরিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সাপেক্ষে এবং নিয়োগ সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার বিধি-বিধান অনুসরণ করে যোগ্য প্রার্থীদেরকে চুড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে। তিনি আরো বলেন, কোন ব্যক্তি/গোষ্ঠি যদি অর্থের বিনিময়ে চাকরী পেয়ে দেয়ার আশ্বাস প্রদান করে এবং এব্যাপারে প্রার্থী যদি সম্মতি প্রদান করে এটা নিশ্চিত যে তিনি প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সকলকে আগাম সতর্কতা প্রদান করা হয়।
তিনি আরো বলেন, যে কোন পর্যায়ে কোন প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্য মিথ্যা, ভুল, প্রার্থীর কোন প্রতারণা প্রমাণ হলে তাকে নিয়োগের অযোগ্য/বহিস্কার/চাকুরীচ্যুতসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি সবাইকে সর্তক করে দিয়েছিলেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন ব্যক্তি বা পুলিশ সদস্য অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ, বিভাগীয় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবে না।
আর এরই আলোকে গত ২৪ জুন সুখীনীলগঞ্জ পুলিশ লাইন্স মাঠে ৬০৪জন প্রার্থী অংশগ্রহন করেন। তার মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ৫১০জন এবং নারী প্রার্থী ৯৪জন ছিল। প্রাথমিক ভাবে পুরুষ ৩১৪জন এবং নারী ৫৩জন মোট ৩৬৭ জন নির্বাচিত হয়। প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ১৬৯ জন উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় চুড়ান্ত ভাবে ৯৩জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিল। এর মধ্যে পুরুষ সাধারণ কোটায় ৭৫জন, পুরুষ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩জন, পুরুষ পোষ্য কোটায় ১জন ও মহিলা সাধারণ কোটা ১৪জন মোট ৯৩জন উত্তীর্ণ হন। এছাড়া সাধারণ কোটা অপেক্ষামান (পুরুষ) ১০জন, পোষ্য কোটা অপেক্ষামান (পুরুষ) ১জনসহ ১০৪ জন প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত করা হয় বলে জানান তিনি।