Chtnews24.com
ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় ভরপুর কক্সবাজার
Thursday, 06 Jun 2019 17:33 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

কক্সবাজারঃ-পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত ও দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার এখন লাখো পর্যটকে ভরা। ঈদের প্রথম দিন নানা বয়সী পর্যটকদের ঢল নামে কক্সবাজারের সমুদ্র তীরসহ প্রতিটি পর্যটন স্পটে। এখন নানা বয়সী পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজার। সকাল থেকে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও শৈবাল পয়েন্টে গা ভাসিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছেন তারা। একইভাবে শহর থেকে দূরে হিমছড়ি ও ইনানী সৈকতেও বিস্তৃত হয়েছে পর্যটকদের পদচারণা। আর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আগত পর্যটকেরা সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানীর পাথুরে সৈকত, ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক, রামু বৌদ্ধ বিহার, সেন্টমার্টিন, মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোতেও ভিড় জমিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে অনুযায়ী, কক্সবাজারের প্রায় ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে ৩ লক্ষাধিকের বেশি পর্যটকের ধারণ ক্ষমতা থাকলেও এখন অবস্থান করছে লক্ষাধিক পর্যটক।  আগত পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে সর্তক অবস্থায় রয়েছে দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ। মোতায়ন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পর্যটক স্পটগুলো ঢাকা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামরার আওতায়। যাতে করে কেউ পর্যটক হয়রানি করে পার পেতে না পারে। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে সী-বিচে। লাইফগার্ডগুলো সর্তক অবস্থায় রয়েছে ভেসে যাওয়া পর্যটকদের রক্ষার্থে। সবমিলে বেড়াতে আসা পর্যটকদের শতভাগ সেবা প্রদানের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকায় ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকেরা নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে নীল সাগরের সুণীল জলরাশিতে অবিরত ঢেউ এর মাঝে বাধভাঙ্গা আনন্দে মেতেছে। আর ঘুরে বেড়াচ্ছে শহর সহ জেলার পর্যটক স্পটগুলোতে। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সোমাইয়া জাহান জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসে খুবই ভাল লাগছে। এখানে না আসলে বুঝতামনা এই সমুদ্র সৈকত কত সুন্দর।
ঢাকা কাজী নজরুল কলেজ ছাত্র তুষার জানান, তারা কলেজ বন্ধুরা দলবেধে বেড়াতে এসেছে। সকাল থেকে থেকে থেকে বৃষ্টি হলেও তাদের আনন্দের কমতি হচ্ছেনা। একই ভাবে তারা গতবছরও এসেছিল আর ইচ্ছেমত আনন্দ করেছে। তারা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও সেন্টমার্টিন সহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরতে যাবে।
কক্সবাজার কটেজ মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহম্মদ নোবেল জানান, পর্যটকদের বিচরণস্থানগুলো সিসিটিভি ক্যামরার আওতায় আনার পাশাপাশি প্রশাসনকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের যৌথ প্রচেষ্টা থাকবে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমন নিশ্চিত করা। যাতে করে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা ভ্রমন শেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান জানান, ঈদে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদে ভ্রমন নিশ্চিতে শহরসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ট্যুরিস্ট পুলিশ সহ অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসা সহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্র সৈকত এলাকায় ২৪ ঘন্টা টুরিষ্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। বীচ বাইক নিয়ে টহল অব্যাহত রেখেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফ গার্ড কর্মী নিয়োজিত রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমন নিশ্চিতে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া বন্ধ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছে। সকলের প্রত্যাশা বেড়াতে আসা পর্যটকেরা ভ্রমণ শেষে যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে।