Chtnews24.com
সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত রাখাইন জলকেলি উৎসব
Thursday, 18 Apr 2019 20:54 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

কক্সবাজারঃ-পুরোনো বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে কক্সবাজারে উদযাপিত হচ্ছে রাখাইন জলকেলী উৎসব। বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়া তিনদিনের এই উৎসবে আনন্দে মেতে উঠেছে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ। বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ রাখাইন জলকেলি উৎসব জেলার রাখাইন-বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এতে রাখাইন পল্লীসমূহ রূপ নিয়েছে সর্বজনীন অহিংস কেন্দ্রবিন্দুতে।
রাখাইন নববর্ষ ১৩৮১ কে স্বাগত জানাতে বুধবার থেকে টাকা তিনদিন ধরে চলছে ‘মাহা সাং গ্রেং পোওয়ে’ বা জলকেলী উৎসব।
শহরের রাখাইন পাড়া, টেকপাড়া, হাঙ্গর পাড়া, বার্মিজ স্কুল এলাকা, আরডিএফ প্রাঙ্গণ, ক্যাং পাড়া ও বৈদ্যঘোনাস্থ থংরো পাড়াসহ পুরো রাখাইন পাড়ায় চলছে এ উৎসব।
রাখাইন তরুণ-তরুণীরা নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান করে সেজেগুজে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবং রাখাইন পল্লীতে তৈরি করা জলকেলী উৎসবের প্যান্ডেলে গিয়ে একে অপরকে পানি নিক্ষেপের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে। এসময় নাচ-গানসহ চলে আনন্দঘন অনুষ্ঠান। প্রতিদিন দুপুর থেকে ঐতিহ্যবাহী রঙিন পোশাক পরে স্ব-স্ব রাখাইন পল্লীতে বাদ্য বাজনার তালে তালে দলবেঁধে ছুটে যায় রাখাইন তরুণ-তরুণীরা। তারা একে অপরকে জল ছিটিয়ে পুরোনো বছরের হতাশা দূর করে নব আলোকে পথ চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কের মং ছেন রাখাইন বলেন, আমারা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্যদিয়ে পুরনো দিনের সকল ব্যাথা, বেদনা, হিংসা ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। এটি আমাদের কাছে খুবই পবিত্র এবং আনন্দের।
একইভাবে মংকাসিং নামে রাখাইন যুবক জানান, এ উৎসবে সকল ধর্মের লোকজন অংশগ্রহণ করে। এর মাধ্যমে সবার মাঝে একটি সুন্দর সর্ম্পক তৈরি হয়।
জলকেলী উৎসবে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতি’র মাধ্যমে নির্ভয়ে উৎসব পালনের আহ্বান জানান রাখাইন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন। তিনি বলেন, ‘আনন্দের সাথে সবাই সম্প্রীতির মাধ্যমে নির্ভয়ে এ উৎসব পালন করছেন। 
জলকেলী উৎসবে নিরাপত্তার ব্যাপারে কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, জলকেলী উৎসব উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকদারী আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ দায়িত্ব পালন করছে র‌্যাব।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ রাখাইন উৎসব পরিণত হয়েছে সকল সম্প্রদায়ের মিলনমেলায়।