Chtnews24.com
শুভ মাঘী পূর্ণিমায় রাঙ্গামাটির আনন্দ বিহারে দিনব্যাপী ৮৪তম ঐতিহ্যবাহী ব্যুহচক্র মেলা
Tuesday, 19 Feb 2019 21:02 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

রাঙ্গামাটিঃ-শুভ মাঘী পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় রাঙ্গমাটির আনন্দ বিহারে মাঠে উৎসব ও আনন্দঘন পরিবেশে ৮৪তম ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন ব্যুহচক্র মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সকালে সার্বজনীন শুভ মাঘী পুর্ণিমা ও ব্যুহচক্র উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আনন্দ বিহারের ফিতা কেটে দিনব্যাপী ব্যুহচক্র মেলা উদ্বোধন করেন আনন্দ বিহারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি  কাজল তালুকদার।
এসময় আনন্দ বিহারে অধ্যক্ষ ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো, সাধারণ সম্পাদক জয়াকর চাকমা, আনন্দ বিহারের ভিক্ষু সংঘসহ কমিটি সদস্য ও সদস্যাবৃন্দসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ব্যুহচক্র মেলা সবার জন্য উম্মুক্ত করে দিলে মেলায় অংশ নিতে শত শত ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারী-পুরুষ যোগ দিয়ে চক্রবাক বা প্যাঁচঘরকে দল বেধে ঘুরতে শুরু করে। এসময় শত শত পূর্ণার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে পড়ে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ। দিনব্যাপী অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিল ভোরে প্রার্থনা ও সুত্রপাঠ, বুদ্ধ পতাকা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘকে প্রাতঃরাশ, দানীয় সামগ্রী গ্রহন বুদ্ধপূজা ও সংঘদানের প্রস্তুতি, শীল প্রার্থনা, শীল গ্রহন, সংঘদান, ব্যুহচক্র উৎসর্গ ও ভিক্ষু সংঘের ধর্ম দেশনা, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান ও ধর্মীয় আলোচনা সভা।
প্রাচীন ঐতিহ্য নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধুমাত্র আনন্দ বিহারে প্রতিবছর শুভ মাঘী পূর্ণিমা উপলক্ষে এই ব্যুহচক্র মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। মেলা উদ্বোধনের পর শুভ মাঘী পূর্ণিমার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নয়, অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনের অংশগ্রহণে এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন মেলায় পরিণত হয়। মেলা উপলক্ষ্যে আনন্দ বিহারের পাশে পাশে বসে হরেক রকম পন্যের সমাহার ও খাবারের দোকান।
উল্লেখ্য, ব্যুহচক্র মেলা উপলক্ষে আনন্দ বিহার মাঠে এক রকমের চক্রবাক বা প্যাঁচঘর তৈরী করা হয়। তার মাঝখানে কারুকার্য দিয়ে মন্দির তৈরি করে সেখানে রাখা হয় বৌদ্ধকে। আর এই চক্রবাক বা প্যাঁচঘরকে দল বেঁধে ঘুরে অভিষ্টস্থানে পৌঁছাতে হয়। আবার দলে দলে ঘুরে বাইরে বেরিয়ে আসতে হয়। এতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে লোভ-দ্বেষ-মোহ ও হিংসামুক্ত জীবন গড়ার জন্য মহান পুণ্যদানে অংশীদার হওয়া যাবে এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের।
বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, এই চক্র আবর্তন করে যে চক্রের বাঁধা অতিক্রম করে অভিষ্টস্থানে পৌঁছাতে পারে তিনিই পূণ্যের অধিকারী। কোনো লোক চাইলেই বহু আকাঙ্খিত পূণ্যতা লাভ করতে পারে না। সংসার চক্রে ঘুরতে ঘুরতে জীবদ্দশার ভালো কর্মের প্রভাবে একপর্যায়ে মানুষ পূণ্যতা লাভ করতে সক্ষম হয়, আবার পুর্নজন্ম গ্রহণ করে মর্ত্যলোকে ফিরে আসে। তাই এই বিশ্বাস থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এই পূণ্য অর্জন করতেই এই বহুচক্র আবর্তনে অংশ নেয়। পুণ্যের আশায় অনেকই তা অতিক্রম করতে পারে। আবার যাতের মধ্যে পাপি ব্যক্তি তারা সহজে তা অতিক্রম করতে পারেনা। ব্যুহচক্রের ভেতরে আটকা পড়ে এবং আরেকটি রাস্তা দিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে আসতে হয়।