Chtnews24.com
খাগড়াছড়িতে বন্যার কিছুটা উন্নতি হলেও দীঘিনালায় অবনতি
Wednesday, 13 Jun 2018 21:19 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

খাগড়াছড়িঃ-খাগড়াছড়ি জেলা সদরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও দীঘিনালা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো পুরো জেলায় দেড় হাজার পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। বন্যার্তদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে এ পর্যন্ত ২১ মেট্টিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সড়কের ওপর পানি থাকায় মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি-ফেনী-ঢাকা সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যহত হলেও বুধবার (১৩ জুন) সকাল থেকে যানবাহন চলাচল করতে শুরু করেছে। তবে, খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। খাগড়াছড়ি-পানছড়ি, দীঘিনালা-লংগদু ও দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কে সরাসরি গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফেনি নদীতে পানি ফুসে ওঠায় জেলার রামগড়ের বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠেছে। সেখানে ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে অন্তত ৩০০ পরিবার। রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন মিয়া জানান, বন্যার্তদের জন্য শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দীঘিনালা উপজেলায় উজানের পানি নেমে আসায় উপজেলার কোথাও কোথাও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার মেরুং, ছোট মেরুং, হাসিনসনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার অন্তত ১৫টি উচু জায়গায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
পানি বৃদ্ধির কারণে দীঘিনালার অভ্যন্তরীন সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যহত হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি ওঠায় দীঘিনালার সাথে মেরুং, রাঙ্গামাটির লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। কবাখালি এলাকায় সড়কে পানির কারণে বাঘাইছড়ি, সাজেকের সঙ্গে যানবাহন চলাচল এখনো শুরু হয়নি।
এদিকে খাগড়াছড়িতে প্রস্তুতিমূলক বিশেষ সভা জেলা প্রশাসক মোঃ রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্টিত হয়েছে। সভায় জানানো হয়, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত জেলার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৯৭টি পরিবার অবস্থান করছিল। একই সাথে ৬টি উদ্ধারকারী বোট ও ৩টি নতুন আশ্রয় কেন্দ্র নির্মানের প্রস্তাব পাঠানো হবে।
এদিকে খাগড়াছড়িতে সেনা সদর জোনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে দুপুরে খিচুরী ও ডিম বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ি সদরের ৩নং গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে এসব খাবার বিতরণ করা হয়।
আর্মি লেফটেন্যান্ট আহসান জানান, গত মঙ্গলবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ২৫০ জনকে সদর জোনের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে ৩নং গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞানরঞ্জন ত্রিপুরা জানান, এ ইউনিয়নে ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১২৫০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।