Chtnews24.com
মহালছড়িতে ধুমনীঘাট-মনাটেক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা পর্যটকদের আনন্দ বাড়বে
Monday, 26 Nov 2018 18:24 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, মহালছড়ি থেকে ফিরেঃ-খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার ধুমনীঘাট। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি চারদিকে জঙ্গলময় পার্বত্য অঞ্চল পাহাড়ের বুকে শুধু পাথর আর পাথর, পাথরের বুক ছিরে প্রবাহিত পাথুরে ঝর্ণা। রয়েছে পাখির কলকাকলী, দুর্গমতা, দুর্বোধ্যতা ও রোমাঞ্চকরতা, আছে ধর্মীয় বিশুদ্ধ কাহিনী, পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা, কিন্তু শুধু নেই যাতায়াতের জন্য রাস্তা, খাগড়াছড়ির প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ, তবে চলমান সিন্ধুকছড়ি-মহালছড়ি রাস্তার কাজ শেষ হলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, ধুমনীঘাট, মহালছড়ি উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৩কিলোমিটার দুরে পাহাড় বেষ্টিত দুর্গম এলাকা। আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দিনে চলতো।
ধর্মীয় কীর্তনসহ নানা ধরণের আরাধনা। কতিথ আছে হিন্দু ধর্মের রাম, তার স্ত্রী সীতা এবং তার ছোটভাই লক্ষণ বনবাসকালীন সময়ের একটি অংশ কাটিয়েছিলেন এই দুর্গম ধুমনীঘাটে। স্থানীয়দের দেখানোমতে পাথরের উপরে এখনো সীতার পায়ের চাপ, রাম ও লক্ষণের বসার পাথর, শিবলিঙ্গসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক স্থাপনা দেখা যায়। এছাড়া পাথুরে পাহাড়ের চারদিক সবুজাব গাছপালা, পাখির কিছির-মিছির, পাথরের গা বেয়ে প্রবাহিত ঝর্ণা দেখা যায়। স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দিনে ধুমনীঘাটে আসে, বিভিন্ন ধর্মীয় ক্রিয়া কর্মাদি পালন করে। শীতকালে স্থানটি পর্যটকদের জন্য পর্যটন স্পট হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হলে পাল্টে যেতে পারে পুরো এলাকার দৃশ্য। তবে এ্যাডভ্যাঞ্চারর্স মনোভাবের পর্যটকগণ এখানে আসলে মুগ্ধ হবেন বলে বিশাস করছেন-অনেকেই।
অন্যদিকে, কাপ্তাই লেক বেষ্টিত মনাটেক এলাকার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছে প্রকৃতি প্রেমীরা। মহালছড়ি সদর থেকে প্রায় ৫কিলোমিটার দুরের এই এলাকাটিতে পর্যটকদের আকর্ষন করতে নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছে। ইতিমধ্যে মহালছড়ি উপজেলা প্রশাসন মনাটেক এলাকায় গোলঘর, বসার জন্য ট্ইালস করা বেঞ্চসহ নানা স্থাপনা তৈরি করছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ সৌন্দর্য় উপভোগ এখন আর স্থানীয়দের মধ্যে সীমিত নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে আজ মনাটেক বা ধুমনীঘাটের রূপ বৈচিত্রের কথা সবার জানা হচ্ছে।
স্থানীয় হেডম্যান কর্মচরন ত্রিপুরা ও এলঅকাবাসী সত্য কুমার চাকমা বলেন, তাদের এলাকাটি অত্যন্ত সুন্দর। তারা তাদের বাবা, মা, দাদা-দাদী থেকে জেনেছেন এখানে রাম-লক্ষন ও সীতা বনবাসকালীন সময় কাটিয়েছিলেন। এখানে এখনো বিভিন্ন সময় পূজা-অর্চনা ও গান-বাজনা হতো। স্থানীয়রা এখানে আসে। তবে পর্যটন স্পট হিসেবে স্থানটির উন্নয়ন হলে তাদেরসহ পুরো এলাকার উন্নয়ন হবে।ফেনী থেকে আসা পর্যটক হাসনাইন পাটোয়ারী বলেন প্রথমবার এসে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় নিদর্শনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পাহাড়, ঝর্ণা, পাখির কলতান, গাছ-গাছালী দেখে মুগ্ধ হয়েছে। ধুমনীঘাটে আসা-যাওয়ার জন্য রাস্তাঘাট ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
স্থানীয় পর্যটক অনুপ মহাজন বলেন ধুমনীঘাট নানা কারণে ইতিহাসের অংশ। কারণ হিন্দু ধর্মের রাম, তার স্ত্রী সীতা এবং তার ছোটভাই লক্ষণ বনবাসকালীন সময়ের একটি অংশ কাটিয়েছিলেন এই দুর্গম ধুমনীঘাটে। এখানে পাথরের উপরে এখনো সীতার পায়ের চাপ, রাম ও লক্ষণের বসার পাথর, শিবলিঙ্গসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক স্থাপনা দেখা যায়। তাছাড়া পাহাড়-পাথর-ঝর্ণার যে অপূর্ব মিলন তা এখানে না আসলে অনুভব করা যাবেনা। ধুমনীঘাট ও মনাটেক লেকের স্থাপনার উন্নয়ন হলে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি-বান্দরবানের দৃশ্য পর্যটকেরা একসাথেই নিতে পারবেন। তিনি রাস্তার উন্নয়নের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
মহালছড়ি উপজেলার সাংবাদিক শাহদাত হোসেন জানান, মহালছড়ি উপজেলার ধুমনীঘাট, মনাটেক, ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন লেক এক কথায় অপরূপ। এসব লেকের দৃশ্য যেকোন পর্যটকের প্রাণ ছুঁয়ে যাবে এবং আনন্দের সীমা থাকবেনা। তবে স্থানগুলোকে পর্যটকদের নিকট আকর্ষনীয় করতে, পর্যটক বান্ধব করতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। মহালছড়ি উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়ন করে পর্যটকদের জন্য খুলে দিতে পারলে পর্যটকগণ একসাথে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না নাজনীন উর্মি বলেন ধুমনীঘাটের বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টিতে আছে। সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি রাস্তার কাজ শেষ হলে ধুমনীঘাট স্পটে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি আরো বলেন ধুমনীঘাট স্পটের পাশাপাশি প্রশাসন মনাটেক লেক পর্যটন স্পটে কিছু উন্নয়ন কাজ করেছে। স্থানগুলো উন্নয়নের জন্য প্রশাসন আরো কাজ করবেন। এই স্থানগুলোর উন্নয়ন সম্ভব হলে পর্যটকেরা আনন্দ পাবে।পর্যটন মন্ত্রনালয়ের নিকট আমরা স্থানগুলোর বিবরণ পাঠিয়ে দেব এবং পর্যটন মন্ত্রনালয়ের পরিকল্পনামতে আমরা স্থানগুলোর উন্নয়ন করবো এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হবে।