Chtnews24.com
রাঙ্গামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্নিমা উদযাপিত
Wednesday, 24 Oct 2018 20:24 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

রাঙ্গামাটিঃ-আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। নানান ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার ও শাখা বন বিহারগুলোতে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্নিমা যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। প্রবারণা হল আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিন মাস বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা (ভিক্ষু-শ্রমন) বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করে। এসময় পূণ্যার্থীদের সাধু সাধু ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে বিহারগুলোর প্রাঙ্গণ।
বুধবার (২৪ অক্টোবর) সকালে প্রবারনা পূর্নিমা উপলক্ষে রাঙ্গামাটি রাজ বন বিহার, মৈত্রী বিহার, আনন্দ বিহারসহ জুরাছড়ি সুবলং শাখা বন বিহারে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান মহাস্থবির বরণ ও সন্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বুদ্ধ পুজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘদান, অষ্ট পরিস্কার দান, বুদ্ধমুর্তি, হাজার প্রদীপ দানসহ নানান দান কার্য সম্পাদন করা হয়।
এসময় রাজবন বিহারে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাজবন বিহারের উপাসক-উপাসিকা কার্যনিবার্হী পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান, সাবেক মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ানসহ ধর্মপ্রাণ হাজারো পূণ্যার্থী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন।
পরে ধর্মসভায় রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালঙ্কার মহাথের জাতি ধর্ম বর্ণ সকলের উদ্দেশ্যে বুদ্ধের শান্তির বাণী প্রচার করেন এবং দেশ জাতি ও সকলের জন্য প্রার্থনা করেন। ধর্মসভা শেষে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। সন্ধ্যায় আকাশ প্রদীপ প্রজ্জলন করা হবে।
এদিকে সকালে প্রবারনা পূর্নিমা উপলক্ষে রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি সুবলং শাখা বন বিহারে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মহাস্থবির বরণ ও সন্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বুদ্ধ পুজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘদান, অষ্ট পরিস্কার দান, বুদ্ধমুর্তি, হাজার প্রদীপ দানসহ নানান দান কার্য সম্পাদন করা হয়।
এছাড়া অনুষ্ঠানে সুবলং শাখা বন বিহার অধ্যক্ষ বুদ্ধশ্রী ভিক্ষুসহ ৩ জন বুদ্ধ ভিক্ষুকে মহাস্থবির বরণ ও বিহার পরিচালনা কমিটি ধল কুমার চাকমাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ধর্মসভা শেষে প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয়। সন্ধ্যায় আকাশ প্রদীপ প্রজ্জলন করা হবে।
অনুষ্ঠানে ধমীয় দেশনা দেন সুবলং শাখা বন বিহার অধ্যক্ষ বুদ্ধশ্রী মহাস্থবির, আর্য্যনন্দ মহাস্থবির, প্রিয়তিষ্য মহাস্থবির।
বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা এই প্রবারণা পূর্নিমার মধ্য দিয়ে সকল প্রকার লোভ, হিংসা, মোহ সংঘাতসহ যাবতীয় খারাপ কাজ পরিহার করে সৎ পথে চলতে ও মৈত্রীপূর্ন মনোভাব নিয়ে একে অপরে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার হিতোপদেশ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবর্তক চাকমা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে হাজারো পূণ্যার্থী নারী-পুরুষ সাধু সাধু ধ্বনীতে মুখরিত করে রাখে পুরো এলাকা।
উল্লেখ্য, বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা (ভিক্ষু-শ্রমন) তিন মাস বর্ষাবাস পালন শেষে এ প্রবারণা পূর্নিমা উদযাপন করা হয়ে থাকে। এর পর থেকে দীর্ঘ এক মাসব্যাপী বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে উদযাপিত হয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ কঠিন চীবর দান।