Chtnews24.com
লামায় বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত
Sunday, 15 Apr 2018 19:44 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামাঃ-“মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা” নতুন বছরের শুরুর লগ্নে ধুয়ে মুছে পবিত্র হোক ধরণী, কবিগুরুর এমনই আকুতি আমাদের বাঙালি সত্তাকে প্রতি বছরেই নিয়ে যায় ঐতিহ্যের দিকে। পহেলা বৈশাখ উদযাপন আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রবাহকে বাঁচিয়ে রাখে।
১৪২৫ বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে বান্দরবানের লামায়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা, পান্তাভাত, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সরকারী-বেসরকারী অধিদপ্তর, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, এনজিও ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উক্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করে নেয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক সহস্রাধিক মানুষের জন্য পান্তাভাতের আয়োজন করা হয়। সকলস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান সমূহ আনন্দের মিলনমেলায় রুপ নেয়।
বৈশাখের প্রথম প্রহরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিনব্যাপী নববর্ষের সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীরা সঙ্গীতানুষ্ঠানে গান, নৃত্য, কবিতা আবৃতি ও কৌতুক পরিবেশন করে দর্শকদের আনন্দ দেন।  
বর্ষ বরণের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ জান্নাত রুমি। প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী। আরো উপস্থিত ছিলেন, লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সায়েদ ইকবাল, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন, ১৭ আনসার ব্যাটেলিয়ানের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মিজানুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ মাহাবুবুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া সহ প্রমূখ।
এদিকে প্রতিবারের মতো লামার সাবেক বিলছড়ি বৌদ্ধ বিহারের উদ্যোগে ৩দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। লামা উপজেলা সহ আশে-পাশের বেশ কয়েকটি জেলার হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মেলা প্রাঙ্গন হয়ে ওঠে সরগরম। মেলায় ছোটদের টমটম গাড়ি, বাঁশি, মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও ব্যাংক, মাটির ঘোড়া, মাছ, টিনের তৈরি জাহাজ, কাঁচের তৈরি খেলনা, নানা রংয়ের কাঁচের চুড়ি, বাহারি খাবার, ঘর সাজানো সরঞ্জাম সহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পহেলা বৈশাখকে বরণ করতে সকালে আলাদা আলাদা র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।