Chtnews24.com
খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ বিহার ও মুর্তি ভাংচুর, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
Wednesday, 24 Oct 2018 18:01 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

খাগড়াছড়িঃ-আসন্ন ১১তম জাতীয় সংসদ নিবাচনকে সামনে রেখে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়। পার্বত্য ভুমি বিরোধকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছে কুচক্রী মহল।
আর এরই রেশ ধরে গত সোমবার (২২ অক্টোবর) খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নে দূর্গম কুকিছড়া এলাকায় দিবাগত রাতে নব-নির্মিত বৌদ্ধ মন্দিরটি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় বিহারের ৮ফুট উচ্চতার বৌদ্ধ মূর্তিটি ও গুটিয়েছে তারা।
এই ঘটনার পর এলাকা জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে, শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে অপপ্রচার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গনমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সকলকে শান্ত থাকার আহবান জানান তারা।
বিহার সংলগ্ন স্থানীয় তানিয়ং মারমা জানান, রাতের আধাঁরে সাদা পোশাকে কিছু লোক এসে এ ধবংস যজ্ঞ চালায়। এসময় ভয়ে তারা কেউ ঘর থেকে বাহির হয়নি। দুর্বৃত্তরা মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করে মন্দিরে ঘর এবং মন্দিরে থাকা জিনিসপত্র ও এসময় বিহারের ৮ফুট উচ্চতার বৌদ্ধ মূর্তিটিও গুটিয়েছে তারা।
এদিকে বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুরের প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করে মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। মিছিলটি গুইমারা রামসু বাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে উপজেলা প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী শথ শত নারী-পুরুষ মিছিলটি নিয়ে গুইমারা রিজিয়নের সংরিক্ষত এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ তাদের ব্যরিকেড দিয়ে আটকে দেয়। এসময় উত্তেজিত জনতা গুইমারা ব্রীজের যান চলাচল বন্ধ করে প্রতিবাদ সভা করে।
এতে বক্তব্য রাখেন, গুইমারা দেওয়ানপাড়া মিশন বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু জ্যোতিসারা ভান্তে, কুকিছড়া পালিতুল সুরক্ষিত বৌদ্ধ বিহারের প্রধান আগাচারা ভিক্ষু, নাক্রাইপাড়া বৌদ্ধা বিহারের প্রধান ক্ষেমাছাড়া ভিক্ষু প্রমুখ। বক্তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন। একই সাথে ৭দিনের মধ্যে বৌদ্ধ মুর্তি স্থাপনের জোর দাবী জানান তারা।
অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাহ উদ্দিন, গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া, গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গিয়াস উদ্দিন, গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেমং মারমা, সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমা, হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন।  
বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়াও প্রশাসনে পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নতুন বুদ্ধ মূর্তি স্থাপনের করা হবে বলে আশ্বাস্ত করা হয়।  
মাটিরাঙ্গা সেনা জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রাইসুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা বাহিনী পাহাড়ে শান্তি সম্প্রীতি রক্ষায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দূস্কৃতিকারী নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে প্রশাসনের উপর দায় চাপানের চেষ্টা করছে। এভাবে নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে অপপ্রচার কারো কাম্য হতে পারেনা। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে। তাই সবাইকে ধৈর্য্যসহকারে শান্ত থাকার আহবান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, একদিন পর বুদ্ধা-ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এবং ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা, এ উৎসবটিকে ভুন্ডুল করার জন্য যারাএ নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের কোন ভাবেই ছাড়া দেয়া হবেনা। এসময় ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনসহ বুদ্ধ মুর্তিটি পুনঃস্থাপনের ঘোষনা দেয় হয়।