মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১৯ জুন, ২০১৭, ১০:১৭:০৬

মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় আ'লীগ সাংসদরা

মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় আ'লীগ সাংসদরা

ঢাকা: মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় আ'লীগ সাংসদরাইয়াছিন রানা জনবিচ্ছিন্ন, বিতর্কিত ও নিষ্ক্রিয় সাংসদদের একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না_ হাইকমান্ডের এমন হুশিয়ারির পর নড়েচড়ে বসেছেন অনেকেই।
তাই নির্বাচন এখনো বেশ অনেকটা দূরে থাকলেও তাদের কেউ কেউ আগেভাগেই সাংগঠনিক কর্মকা-ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী কে হতে পারেন সেদিকে তীক্ষ্ন নজর রাখছেন।
দলটির একাধিক সূত্র জানান, আগামী নির্বাচনে বর্তমান প্রায় শতাধিক সাংসদ দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। কারা এই সাংসদ এ ব্যাপারে দলের নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য না থাকলেও গণমাধ্যমে অনেকের নাম আলোচিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যেসব সংসদ সদস্য আগে মাসে একবারও নিজ এলাকায় যেতেন না; যারা এলাকায় নিজ গ-ির নেতাকর্মী ছাড়া কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন না এবং যোগাযোগও করতেন না; তারা সবাই এখন নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয়। না চাইতেই এলাকার পক্ষ-বিপক্ষ সব নেতাকর্মীর সঙ্গেই যোগাযোগ করছেন। রমজানের বেশির ভাগ দিন এলাকার অনুষ্ঠানগুলোতে ইফতার করছেন। বিভিন্ন উপায়ে নেতাকর্মীদের কাছে টেনে নিজস্ব বলয় তৈরির চেষ্টা করছেন।
তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধমকে কাজ হয়েছে। মনোনয়ন না পাবার ভয় ঢুকেছে সাংসদদের মনে। আগে সাংসদরা যে রকম 'ড্যাম কেয়ার' ভাব দেখাতেন এখন তা অনেকটা কমেছে। তারা নিজে থেকেই এখন এলাকার খোঁজখবর নেন এবং সমস্যা সমাধান করে উন্নয়নের চেষ্টা করছেন।
তৃণমূল নেতারা আরও জানান,
প্রতিটি আসনেই দলের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা রয়েছেন। তারা ইতোমধ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজ নিজ বলয় তৈরি করছেন। এতে দলে বিভক্তি ও কোন্দল বাড়ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে তত বিভক্তি আরও বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এদিকে বিপুলসংখ্যক সাংসদ আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন না এমন খবরে উৎফুল্ল দলটির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। আগামী দিনের সাংসদ প্রার্থী হিসেবে নিজের প্রচার-প্রচারণায় কোন ঘাটতি রাখছেন না। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন যাতে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের খবরের তালিকায় তার নাম থাকে। এছাড়া একদিকে দলের হাই-কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য। পাশাপাশি নিজ আসনের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ করে সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি করছেন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহসম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বিতর্কিত ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের মনোনয়ন না দেয়ার কথা বলে দেশে সুষ্ঠু ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।
রাজনৈদিক বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের নির্বাচনের মনোনয়ন না দেবার বিষয়ে দলের অবস্থান রাজনীতির জন্য ভালো; কিন্তু ক্ষতিকর দিকও আছে। যেসব সাংসদ মনে করছেন আগামীতে দলের মনোনয়ন পাবেন না তারা আরও বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়বেন। কারণ তিনি চিন্তা করবেন এবারই তার শেষ সময়। এছাড়া তার বিপক্ষে যারা নির্বাচন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন যাতে তিনি প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা না করেন।
বিশ্লেষকরা বলেন, নির্বাচনের দেড় বছর আগে থেকে কে দলের মনোনয়ন পাবেন আর কে পাবেন না এমন আলোচনা ক্ষমতাসীন দলের একটি সুন্দর রাজনৈতিক কৌশল। যার উদ্দেশ্য সংসদ সদস্য এবং নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশী সকলকেই নির্বাচনমুখী করা এবং দলের মধ্য থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবেন এমন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করা।
একাধিক জরিপ করে দলটি দেখেছে, অনেক সাংসদদের সঙ্গে জনগণের এবং দলের নেতাকর্মীদেরও যথেষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এছাড়া এই জনবিচ্ছিন্ন কাতারের সংসদ সদস্যরা যে তৃণমূল পর্যায়ে কোন্দলের অন্যতম একটি কারণ তা চিহ্নিত করতে পেরেছে দলটি। নীতি-নির্ধারকরা বুঝতে পেরেছেন দলের সাংসদদের মাঝে ক্ষমতায় থাকার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, যা দলের জন্য ক্ষতিকর। আগে সময় থাকতেই সাংসদদের সতর্ক করে দেয়া, নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করা, এলাকাগুলোতে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নির্বাচনে মনোনয়ন হতে কেউ বঞ্চিত দলকে দোষারোপ করতে না পারেন এবং বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন না করেন তাই এই ব্যবস্থা বা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে ।
এসব বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান বলেন, দলে যারা বিভক্তি তৈরি করছেন তাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিলে জয় তুলে আনা বেশ কঠিন। কারণ যার এলাকায় রাজনৈতিক অবস্থান নেই তিনি নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন খুব কম। এছাড়া কোন্দলরত প্রার্থীরা নিজেরা মনোনয়ন না পেলে দলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে হারানোর চেষ্টা করবেন। তাই এক্ষেত্রে দলকে অবশ্যই শক্ত অবস্থান নিতে হবে।
তিনি বলেন, যেসব সাংসদ ও নেতারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত; যখন তারা বুঝবেন আগামীতে মনোনয়ন পাবেন না তখন তারা আরও বেশি ডেসপারেট হয়ে অপরাধ বেশি করবেন এবং পকেট ভারী করার চেষ্টা করবেন। তাই সর্বপ্রথম এদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, না হলে নির্বাচনের সময়ও তারা অপকর্ম করবেন।
এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কমান্ডকেও মনোনয়ন দেবার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এলাকাতে অবস্থান রয়েছে এমন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে। এছাড়া দলের প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের কাজে লাগানো নিশ্চিত করা এবং দলের কেউ যাতে তার বিপক্ষে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন না করে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ যায়যায়দিনকে বলেন, সভানেত্রী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন, দল সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। লক্ষ করবেন, আগামী নির্বাচনের কারণেই সব নেতা, দলের সাংসদরা আগের চেয়ে এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়ে দিয়েছেন। জনসম্পৃক্ততামূলক কাজে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তারা চান সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হোক। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

  প্রধান বিচারপতিকে চাপ দিয়ে ইচ্ছাপূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে-রিজভী

  ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে জাতীয় সংসদকে অবমাননা করা হয়েছে-হানিফ

  রায়ের পর্যবেক্ষণ আড়াল করতে জিয়ার প্রসঙ্গ টানা-মির্জা ফখরুল

  রায় না পড়েই বিএনপি লাফাচ্ছে-ওবায়দুল কাদের

  রায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ নজিরবিহীন-মির্জা ফখরুল

  বন্যার্তদের দিকে সরকারের তেমন নজর নেই-মির্জা ফখরুল

  যতদিন ভুয়া জন্মদিন পালন, ততদিন আলোচনা নয়-ওবায়দুল কাদের

  খালেদার জন্মদিনে এবার কর্মসূচি নেই বিএনপির

  ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে-আইনমন্ত্রী

  জিয়ার মরণোত্তর বিচার দাবি হানিফের

  ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই-ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

  0

  0

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?