মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯, ০৮:৫১:২৩

আমরাই রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী-বিএনপি নেতা খসরু

আমরাই রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী-বিএনপি নেতা খসরু

ডেস্ক রিপোর্টঃ-ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিজেদের ওপর ‘আস্থা হারিয়ে’ প্রতিপক্ষকে ‘রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে ধ্বংস করার’ পথ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
টানা ১০ বছরের বেশি ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা যে ‘ত্যাগ-তিতিক্ষার পরিচয় দিচ্ছেন’, তাতে তারাই এখন রাজনৈতিকভাবে ‘অনেক বেশি শক্তিশালী’ বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
বুধবার (১৩ মার্চ) ঢাকায় এক আলোচনা সভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম পর্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ‘ভোট কারচুপির’ অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক শক্তিমত্তা নিয়ে তুলনামূলক ওই চিত্র দেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) আজকে দিশেহারা। তাদের অ্যাকশন যেগুলো দেখছেন এগুলো হচ্ছে দিশেহারা অবস্থানের অ্যাকশন। কারণ মানুষ যখন নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে সে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে না, তাকে ধ্বংস করে দিতে চায়। কারণ সে রাজনৈতিকভাবে প্রকাশ করতে পারছে না বিধায় তাকে ধ্বংস করতে চায়। এজন্য বেগম খালেদা জিয়াকে ধ্বংস করতে হবে, তারেক রহমান সাহেবকে ধ্বংস করতে হবে।
কারণ তাদের (সরকার) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকার কোনো সুযোগ নাই। তারা জনগণের ভোটে যখন নির্বাচিত হবে না তখন রাত্রে তাদের ব্যালট বাক্স ভর্তি করতে হবে, পরের দিন তাদের পোলিং স্টেশন দখল করতে হবে এবং সেই কাজ করার জন্য তারা একটি প্রকল্প সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে আপনারা সেটা দেখেছেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আজকে বিএনপির সামনে তাদের (আওয়ামী লীগ) টিকে থাকার সুযোগ নাই। আজকে আমরা (বিএনপি) অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের নেতা-কর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষা তারা বার বার প্রমাণ করেছে এবং ইদানিং যেসব নির্বাচন হয়েছে সেখানেও তারা প্রমাণ করেছে।
যখন এক নায়কতন্ত্র তার চরম শীর্ষ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে, যেটা আমরা বাংলাদেশের মধ্যে দেখতে পারছি, তখন মনে করবেন তার ভঙ্গুরতাই সবচাইতে বেশি। তার পতন ততই কাছে এসেছে, তার পতন অনিবার্য এবং অতিসত্বর তা হবেই।
এই অবস্থার উত্তরণে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নাগরিক কর্তব্য জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
‘গণশুনানির নামে প্রতারণা’
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানির নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বার বার বাড়াচ্ছে। গণশুনানি হচ্ছে- কত বড় একটা প্রতারণা দেখেন! গণশুনানির নাম দিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এর থেকে বড় প্রতারণা কী হতে পারে? কত গুণ বাড়াচ্ছে!
আমি সরকারি পরিসংখ্যান দেখে বলছি, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। তার ‍উপরে আপনি বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছেন, গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছেন। সব কিছু আপনি যে, দরিদ্র মানুষ, নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জীবনযাত্রার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে? সব কিছু উপেক্ষা করে যেহেতু তাদের জবাবদিহি নেই, তারা কিন্তু প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশের মানুষের সমস্ত সম্পদ এখন ‘কয়েক শতাংশ মানুষের হাতে’ পুঞ্জিভূত হচ্ছে।
এরা হাজার কোটি লক্ষ কোটি টাকার মানুষ হয়ে যাচ্ছে। এরা কারা আমরা সবাই জানি। এদের জন্য সরকারের সমস্ত নীতিমালা প্রণীত হচ্ছে। এদের সুবিধার্থে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। এই যে একটা দেশে যে চক্র সৃষ্টি হয়েছে এই কয়েক শতাংশ ধনী লোক, কিছু সরকারি কর্মকর্তা-রাজনীতিবিদ- এদের যে একটা নেক্সাস।
এরাই কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, দেশও পরিচালনা করছে ওরা, দেশের সমস্ত নীতিমালা-সিদ্ধান্ত তারাই নিচ্ছে। দেশের মানুষের সাথে এর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। কারণ মানুষের তো মালিকানাই নাই। এই অবস্থায় গিয়ে আমরা যে পৌঁছেছি এটা হচ্ছে নিম্নগামী একটা যাত্রা। এটা কোথায় গিয়ে ক্রাস করবে, সেটা আমরা কেউ জানি না।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৩তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।
সংগঠনের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জেবা আমিন খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে এখন টাকা থাকলে সব রকম অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। আপনি কি তা ঠিক মনে করেন?