মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৮, ০৭:৩১:০২

সন্ধ্যার পরেই বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতে পারে-ফখরুল

সন্ধ্যার পরেই বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতে পারে-ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্টঃ-একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বুধবারই ঘোষণা হতে পারে বলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বলছি যে, আমাদের এখন পর্যন্ত তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। আমরা এখন পর্যন্ত মনোনয়নের তালিকা চূড়ান্ত করতে পারিনি।
“আশা করছি যে, আজকের মধ্যে করে ফেলতে পারব। যদি করে ফেলতে পারি তাহলে সন্ধ্যার পরে আমরা আপনাদের জানাব।”
এক দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে বহু মামলা রয়েছে। সে বিষয়টি বিবেচনা করে নির্বাচনে প্রায় প্রতি আসনেই একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয় দলটি।
৩০০ আসনের এই নির্বাচনে সাড়ে ছয়শ’র বেশি প্রার্থী ধানের শীষের প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেন, যাদের মধ্যে বিএনপির পাশাপাশি তাদের জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও রয়েছেন। গত রোববার বাছাইয়ে ১৪১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর এখন তাদের বৈধ প্রার্থী রয়েছে ৫৫৫ জন।
এরা ছাড়াও ১৮ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের জন্য কিছু আসন ছাড়তে হবে বিএনপি। এর বাইরে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে তারা ভোটে যাওয়ায় ওই সব দল ও প্ল্যাটফর্মের সংগঠকদেরও কিছু আসন দিতে হবে তাদের।
নির্বাচনের পরিবেশ দিন দিন ‘আরও খারাপের’ দিকে নেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, নির্বাচন একটা প্রহসনে পরিণত হতে চলেছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরে থাকুক এখন চেষ্টা করা হচ্ছে এটাকে আরো কী করে খারাপ করা যায়। খানা-খন্দ আরো খোঁড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
“নির্বাচন কমিশন পরিপত্র জারি করছে বিভিন্ন সময়ে। সে পরিপত্রগুলো কখনোই নির্বাচনের সহায়ক নয়।”
নির্বাচন বিধিতে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে প্রতীক বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগ প্রতিদিনই নির্বিঘ্নে তা করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, আপনারা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে মৌলিক নীতিগত অবলিগেশন থাকে, দেশবাসীর কাছে বলুন, আমরা নিরপেক্ষভাবে, মুক্তভাবে, স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। তাহলে আপনাদের দায়িত্ব যেটা পদত্যাগ করা উচিৎ।
“অন্যথায় সংবিধান আপনাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে সেই দায়িত্ব নিয়ে আপনারা নির্বাচনটাকে নিরপেক্ষ করার সমস্ত ব্যবস্থা করুন। আমরা কমিশনকে বার বার বলেছি যে, আপনাদের দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা যা বলবেন সেইভাবে আপনারা কাজ করবেন, তাহলে এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।”
ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ‘একদলীয় ও একতরফা’ নির্বাচন করার চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, “আমরা নির্বাচনে এসেছি আমাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে। একদিকে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে, হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রেখেছে। আমরা জোর দিয়ে বলছি, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হোক, আটক নেতা-কর্মীদের মুক্ত করা হোক।”
প্রতিদিন নতুন নতুন মামলা দিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এতো হীনমন্যতা কেন? এতো ভয় কেন? তার একটাই কারণ যদি সুষ্ঠু নির্বাচন, জনগণ যদি ভোটকেন্দ্রে যায় তাহলে তারা কোনোমতেই এই নির্বাচনে সফল হতে পারবে না, তাদের ভরাডুবি হবে।”
ভোটারদের প্রতি আহ্বান রেখে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই দেশ আপনাদের। আপনারা দেশের মালিক। আপনাদের নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে, এটা নাগরিক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব। আমরা সেই আহ্বানই জানাচ্ছি যে, নির্বাচনের দিন বেরিয়ে আসুন, ভোটকেন্দ্রে যান, ভোট নিশ্চিত করুন, ভোট সুরক্ষা করুন।”

এই বিভাগের আরও খবর

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিএনপির বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন বানচালের জন্য তারা এসব অজুহাত তুলছে। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?