সোমবার, ২৮ মে ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮, ০১:২৫:২১

সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরো ধ্বংস করে দিয়েছে-ফখরুল

সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরো ধ্বংস করে দিয়েছে-ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্টঃ-সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অযোগ্যতার কারণে পুলিশের হামলার মাধ্যমে বিএনপি কর্মীদের দাঁড়াতে দেয়নি। বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। ভোটার দের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেরাই নৌকা প্রতিকে সিল মেরেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সোনা মোতায়েন করতে হবে। সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। তা না হলে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। খুলনায় সেনা মোতায়েন থাকলে ফলাফল যাই হোক ভোট ব্যবস্থা এমন হতো না। বিরোধী দল সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতো।
মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনে কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমকে সরকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সেটা প্রমাণ হয়েছে যখন আমরা ওখান থেকে খবর পাচ্ছি এক ধরনের, সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হচ্ছে আরেক ধরনের, এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রচার হয়েছে আবার ভিন্নভাবে। আসলে তারা আসল ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার করতে দেয়নি।
তিনি বলেন, যখন সংবাদ এলো ১টার পর একের পর এক কেন্দ্র দখল হয়েছে। তখন সিইসিকে ফোন করি, বলি খুলনা নির্বাচনে অনিয়মের কথা। তিনি আমাকে বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। আমি যখন বললাম আমি আপনাকে সোর্স বলছি তখন সিইসি নূরুল হুদা বলেন, কোনো টিভি চ্যানেলে দেখায়নি। তখন আমি সংবাদ মাধ্যমগুলোর নাম বললে তিনি বলেন আমি দেখছি। এখনো তিনি দেখছেন। এর আগে গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের বিষয়ে জানালে তিনি তখনো বলেছেন আমি দেখছি। তিনি শুধুই দেখছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার পুলিশকে বিরোধী দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বেশির ভাগ জায়গায় পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের ওপর চড়াও হচ্ছে। এটা কখনো একটা জাতির জন্য ভালো কিছু ভয়ে আনবে না। কিন্তু এখন দেখি পুলিশ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রটেক্ট করছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা নিরপেক্ষ সরকারের জন্য আন্দোলন করেছেন তিনিই ক্ষমতায় এসে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিল করেছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে যাতে একদলীয় ভোট করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের যে দোহায় দেয়া হয় সেখানেও বলা ছিলো জাতীয় স্বার্থে ২টি নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার। কিন্তু সেটিও তারা মানেনি।
তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এমনকি সাবেক সিইসি শামসুল হুদা ও কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বলেছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। বাংলাদেশে এখন একটা ফ্যাসিবাদ চলছে, কোনো স্বাভাবিক অবস্থা নেই। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাধীনভাবে চালাতে পারছে না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, বার বার আমরা সরকারকে বলছি আসুন আলোচনা করুন, কিভাবে একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায় সেটির পথ বের করি। কিন্তু সরকার এসবে কর্ণপাত করছে না। গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে আছে। কিন্তু সাময়িক এভাবে থাকা গেলেও বেশিদিন এভাবে ক্ষমতা দখল করো থাকা যায় না।
দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি অনেক বেশি অসুস্থ কিন্তু সরকার এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা বার বার সরকারকে বলছি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তাকে মুক্তি দিন। খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। কারণ দেশের প্রধান নেত্রীকে মুক্তি না দিলে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? তাই নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হলে আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। এ সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। না হলে কোনো অবস্থাতেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না।

এই বিভাগের আরও খবর

  ক্ষমতায় টিকে থাকার দেনদরবার করতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর-রিজভী

  আওয়ামী লীগে মনোনয়ন পেতে ছয় যোগ্যতাঃ যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে দুই দল

  খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একমাত্র পথ রাজপথ-মওদুদ

  বিরোধী দল নির্মূল করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে সরকার-মির্জা ফখরুল

  মাদক সম্রাট সংসদেই অাছে, তাদের ফাঁসি দেন-এরশাদ

  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিএনপি দমনের কাজে ব্যবহার করছে সরকার-মির্জা ফখরুল

  নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরির জন্য ক্রসফায়ার চলছে-রিজভী

  বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন বিরোধী দলগুলোর জন্য আত্মঘাতী-রিজভী

  পবিত্র রমজানেও খালেদা জিয়ার ওপর চলছে সর্বোচ্চ জুলুম-রিজভী

  হেরে গেলেই বিএনপি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে-ওবায়দুল কাদের

  নির্বাচন কমিশন ভেঙ্গে নতুন কমিশন গঠন করতে হবে-মির্জা ফখরুল

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ হচ্ছে, এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বাস্তবে তা ঘটবে বলে মনে করেন?