মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৮, ০৯:০৪:৩১

‘খালেদা জিয়া যে কোনও সময় হার্ট অ্যাটাক-পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হতে পারেন’

‘খালেদা জিয়া যে কোনও সময় হার্ট অ্যাটাক-পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হতে পারেন’

ডেস্ক রিপোর্টঃ-বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিরূপ ও নিপীড়নমূলক পরিবেশে রাখার ফলে তার আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি বিভাগের সাবেক ডিন প্রফেসর ডা. সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, সূর্যের আলো ছাড়া স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের ভয়ঙ্কর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালশিয়ামের শূন্যতা দেখা দিতে পারে,যা তার হাড়ের জন্যে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এই বয়স ও স্বাস্থ্যগত অবস্থায় ব্যক্তিগত পরিচর্যার বিষয়টি সুচিকিৎসার স্বার্থেই গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে এবং তা কেবল পারিবারিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগেই নিশ্চিত করা সম্ভব। খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই কারাগারের বসবাস অযোগ্যতা ছাড়াও নিয়মিত চিকিৎসার কোনও সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে তাঁর সু-চিকিৎসার অধিকারের বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে আপডেট জানাতে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকেরা বয়সজনিত নানা রোগে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যেকোনও সময় আঘাতজনিত পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আগে থেকে বেশ কিছু ক্রনিক রোগে ভুগছেন বেগম খালেদা জিয়া। নতুন করে ঘাড়, মেরুদণ্ড ও স্নায়ুবিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকেরা তার রোগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তারা নতুন করে চিকিৎসা শুরু করেছেন। তারা মামুলি কিছু পরীক্ষা যেমন রক্ত ও এক্স-রে করতে দিয়েছেন। এ ধরনের পরীক্ষা দিয়ে একজন বয়স্ক মানুষের রোগ নিরূপণ করা যাবে না। এমআরআই, সিটি স্ক্যান করে দেখতে হবে তার শরীরে কী ধরনের অর্থোপেডিক ও নিউরোলজিক্যাল সমস্যা তৈরী হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার লিভার, কিডনি, ফুসফুস, হাঁটু কী অবস্থায় তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। মুলত: বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষাটা ছিল একেবারেই লোক দেখানো। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা তার সাথে থাকলেও তাদের কোনো পরামর্শ নেয়া হয়নি। অথচ তারাই জানেন, কীভাবে চিকিৎসা করতে হবে, তার কী প্রয়োজন। ফলে সরকার বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল ও তার চিকিৎসার ব্যাপারে যত্নবান প্রমাণ করতে হলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের ভূমিকা উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। বিষয়টি উপেক্ষা করলে সব পরিণতিতে সরকারের দায়ী হওয়ার প্রমাণ মিলবে।
চিকিৎসকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বয়সজনিত নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত একজন বয়স্ক নারীর এই নির্জন মানবেতর করাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে, তা সাধারণ মানুষকেও গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, এই পিচ্ছিল স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে যেকোনও সময়ে পড়ে গিয়ে তার হাটু, উরুসন্ধি, হাত ও মেরুদণ্ডের হাড়ভাঙাসহ মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডে আঘাতজনিত পক্ষাঘাত রোগ ঘটতে পারে। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষন্নতাসহ নানা মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভবনা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
ডা. সাইফুল ইসলাম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে আরও বলেন, বিরূপ, নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে খালেদা জিয়ার আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরনো, পরিত্যক্ত দূষণযুক্ত ভবনের বিষাক্ত পরিবেশে তার মারাত্মক ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু দ্বারা ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার সম্ভবনা বেশ প্রবল হয়ে উঠতে পারে।
লিখিত বক্তব্যে ডা. সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল নানা রোগে ভুগছেন। তিনি কোনও সাধারণ রোগী নন। চিকিৎসকদের পরিভাষায়, তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগী। সে হিসেবে সুচিকিৎসার স্বার্থে তার একান্ত ব্যক্তিগত পরিচর্যার সব সুবিধা নিশ্চিত করা সব সভ্য, গণতান্ত্রিক ও মানবিকতাবোধসম্পন্ন জাতির কর্তব্য।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেবশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. এ মান্নান মিঞা, অধ্যাপক ডা. মো. সাহাব উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. শহিদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, অধ্যাপক ডা. এ কে এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমূখ।

এই বিভাগের আরও খবর

  যেকোনো মুহূর্তে সরকার হুড়মুড় করে পড়ে যাবে-রিজভী

  ফেসবুকে গুজব-মিথ্যাচার শক্ত হাতে দমন করা হবে-তথ্যমন্ত্রী

  বিএনপির নির্বাচনে আসার পথে বাধা সৃষ্টি করছে আওয়ামী লীগ- মির্জা ফখরুল

  উনি মারাত্মক কথা বলেছেন, ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে ফখরুল

  বিএনপি ওয়ান ইলেভেনের মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্ত করছে-কাদের

  নির্বাচনের আগে সংলাপের সম্ভাবনা নেই-ইসি

  বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে-ওবায়দুল কাদের

  নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচনের তফসিল

  খালেদা জিয়া ৭৪ বছরে পা রাখলেন

  ১/১১-এর চেয়েও খারাপ বর্তমান সরকার: মির্জা ফখরুল

  দুঃস্বপ্ন দেখছে বিএনপি-ওবায়দুল কাদের

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

অনগ্রসর বিবেচনায় নারী, নৃগোষ্ঠীদের জন্য জন্য সরকারি চাকরিতে যে কোটা রয়েছে, তা তুলে দেওয়ার পক্ষে মত জানিয়ে কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, অনগ্রসররা এখন অগ্রসর হয়ে গেছে। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?