বুধবার, ২৫ এপ্রিল ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০১ এপ্রিল, ২০১৮, ০১:৪৭:৩৯

কী হবে খালেদা জিয়ার? এ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন

কী হবে খালেদা জিয়ার? এ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্টঃ-কী হবে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার? তিনি কি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন? তার শারীরিক অবস্থাই বা এখন কেমন? অসুস্থ থাকলে তার চিকিৎসা কোথায় হবে-দেশে না বিদেশে? এ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের। আগ্রহের শেষ নেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলেও।
বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক ‘সুস্থতা’ নিয়ে পুরোটাই রহস্যে ঘেরা। এ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপও বইছে। গত বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে নেওয়া হয়নি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হয়নি একই কারণে। কারাকর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, সুস্থ আছেন বেগম খালেদা জিয়া। তবে পারিবারিক সদস্যদের বাইরে দলীয় নেতাদের সাক্ষাতে বাধা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। বেগম জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।
গত বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের পূর্ব নির্ধারিত সাক্ষাৎ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বাতিল করায় বিএনপিতে সন্দেহ আরও পাকাপোক্ত হয়েছে। দলটি দাবিই করে বসে, গোপনে বেগম জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল সরকার। তবে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বেগম জিয়ার অসুস্থতার খবর নাকচ করে দিয়েছেন। সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার নতুন ভবন উদ্বোধনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার কোনো গুরুতর সমস্যার কথা আমরা শুনিনি, যার জন্য তাকে বিদেশে পাঠাতে হবে। তিনি (খালেদা জিয়া) জানিয়েছিলেন অসুস্থ বোধ করছেন। তার অনুরোধে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। ডাক্তার জানিয়েছেন, তিনি আগের রোগে ভুগছেন। নতুন কোনো রোগ তার মধ্যে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান শুভ বলেন, বার্ধক্যজনিত কয়েকটি সমস্যা ছাড়া বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট স্বাভাবিক। তিনি নিয়ম মতো খাবার খাচ্ছেন। একই বক্তব্য কারাগারের দুজন পদস্থ কর্মকর্তার। তাদের দাবি, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বাইরে পাল্টাপাল্টি যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রশ্ন তুলে বলেন, এ নিয়ে সরকার সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। এ কারণেই সন্দেহ আরও বেড়েছে। তা ছাড়া তাঁর অসুস্থতা যদি নাই থাকে, তাহলে বৃহস্পতিবার আদালতে কেন আনা হলো না। তখন তো অসুস্থতার কথাই বলা হয় আদালতকে। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থাকা উচিত। গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াত পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ ছয়জন স্বজন তার সঙ্গে কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন। বাকিরা হলেন, নাতনি জাহিয়া রহমান, ভাই শামীম এস্কান্দার, ভাবী কানিজ ফাতেমা, শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভিক এস্কান্দার ও ভাগ্নে ডা. মো. মামুন। এই প্রথম কোকোর স্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে গেলেন। প্রায় ৩০ মিনিটকাল অবস্থানের সময় তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন ও কথা বলেন।
পরিবারের এক সদস্য জানান, বেগম জিয়া শারীরিকভাবে মোটামুটি ভালোই আছেন। তবে হাঁটুতে একটু ব্যথা আছে। এটা আগেই ছিল। নাজিম উদ্দীন রোডের ১৭ একর জমির ওপর পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ৫২ দিন ধরে বন্দী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সেখানে কীভাবে সময় পার করছেন এই নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দেখভাল করার জন্য একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন চিকিৎসক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চাইলেই তাদের ডেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিচ্ছেন। এর বাইরে নিয়ম মতো খাবার গ্রহণসহ সবকিছুই স্বাভাবিক তার।
সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন কি না তা স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের আগে তার মুক্তি মিলবে কি না তাও পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না। বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, সরকার চাইছে, বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখেই নির্বাচন। সেখানে তারা বিএনপির একটি অংশকেও চায়। এ জন্য তারা বিএনপির কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। একইভাবে বিএনপি জোটের নেতাদেরও খালেদা জিয়া বিহীন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে জোটের ছোট বড় দলের নেতাদের সঙ্গেও নানাভাবে কথাবার্তা চলছে। এ নিয়ে নানা প্রলোভনের পাশাপাশি ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে বলে জানান বিএনপি ও জোটের নেতারা।
বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, সরকার যত চেষ্টাই করুক বিএনপি ভাঙবে না। এমনকি জোটও ভাঙবে না। এর আগেও সরকার একাধিকবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বিএনপির কেউই দল ত্যাগ করেনি। জোটও অটুট রয়েছে। এগুলো হচ্ছে একটি অপপ্রচার। তা ছাড়া বেগম জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। বিএনপি এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিএনপির সামনে এখন তিনটি এজেন্ডা রয়েছে। প্রথম এজেন্ডা হচ্ছে- বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সরকার যত কৌশল আর ষড়যন্ত্রই করুক না কেন-বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখতে পারবে না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনেও যাবে না। দ্বিতীয়ত, একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায় করতে হবে। তৃতীয়ত, দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায়।

এই বিভাগের আরও খবর

  পাসপোর্ট জমা দিয়ে ট্রাভেল পারমিট নিয়েছেন তারেক রহমান-মির্জা ফখরুল

  তারেকের পাসপোর্ট জমা দেয়ার প্রমাণ ‍দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি

  খালেদা জিয়ার কিছু হলে সমস্ত দায় সরকারের-মির্জা ফখরুল

  গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন-মির্জা ফখরুল

  লন্ডনে বসে বাংলাদেশকে অশান্ত'র ষড়যন্ত্র করছে তারেক রহমান-হানিফ

  সিটি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সেনা চায় বিএনপি

  মির্জা ফখরুলের মা আর নেই

  মেডিকেল রিপোর্টে খালেদা জিয়ার ঘাড়ে, কোমরের হাড়ে সমস্যা পাওয়া গেছে

  ‘খালেদা জিয়া যে কোনও সময় হার্ট অ্যাটাক-পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হতে পারেন’

  শুধু মুক্তিযোদ্ধা, নারী, নৃ-গোষ্ঠীর কোটার পক্ষে বিএনপি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

সাবেক সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ প্লেটে তুলে দেওয়া যায় না; রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নামলে খেলতে খেলতেই সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়। আপনি কি তা মনে করেন?