শনিবার, ২৩ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১৮, ০১:০৪:৩১

নিবন্ধন চাইছে ৭৬ দলঃ বাতিল হচ্ছে ১৯ দলের আবেদন

নিবন্ধন চাইছে ৭৬ দলঃ বাতিল হচ্ছে ১৯ দলের আবেদন

ডেস্ক রিপোর্টঃ-একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেতে ৭৬টি দল আবেদন করলেও এরমধ্যে ১৯টি  আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিয়ম মেনে ট্রেজারি চালান জমা না দেয়ায় ১৪টি এবং স্বাক্ষরবিহীন আবেদন জমা দেয়ার কারণে আরো পাঁচটি আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকিদের অধিকাংশই নিবন্ধনের শর্ত পূরণে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় সংশোধনের জন্য ১৫ দিন সময় পাচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত কমিটি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এ সুপারিশ করেছে।
বাছাই কমিটির প্রধান এবং ইসি কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, কমিটির পক্ষ থেকে যাদের আবেদনে বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে তাদেরগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকিদের সংশোধনের সুযোগ দিতে ১৫ দিন সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কারণ (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২) আরপিও’তে নির্দিষ্ট কিছু ভুলের জন্য সংশোধনের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বাছাই কমিটির প্রস্তাব কমিশন সভায় পাঠানো হবে। সেখানেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ইসি সংশোধন করে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে। পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও নির্দিষ্ট কিছু পদে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়। সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্যদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হয়।
আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ৩০ অক্টোবর নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আগ্রহীদের কাছে আবেদন চেয়েছিল ইসি। আবেদন করার শেষ সময় ছিল ৩০ ডিসেম্বর। সে অনুযায়ী ৭৬টি দল নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধনের আবেদন করে। চলতি মাসেই নিবন্ধন চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ও ছুটির দিন শনিবার ইসির নিবন্ধন যাচাই-বাছাই কমিটি কয়েক দফা বৈঠকে বসে। নিবন্ধন ফি, গঠনতন্ত্র ও আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দু’টি দলের বাইরে অধিকাংশই চাহিদা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৪টি রাজনৈতিক দল আবেদনের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকার নিবন্ধন ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেয়নি। দলগুলো হচ্ছে-তৃণমূল ন্যাশনাল পার্টি (আনারস), গণতান্ত্রিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভ্যাসানী) (রিক্সা), বাংলাদেশ ঘুষ নির্মূল পার্টি (বিজিএনপি) (ঝাড়ু), বাংলাদেশ সততা দল (বিএইচপি) (আনারস), বাংলাদেশ হিন্দুলীগ (হাত), বাংলাদেশ জনতা ফ্রন্ট (ছাতা), জাতীয় পরিবার কল্যাণ পার্টি (জেপিকেপি) (গলদা চিংড়ি), বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি (বিআইপি) (গমের শীষ), বাংলাদেশ শান্তির দল (চাঁদ), কৃষক শ্রমিক পার্টি (হুক্কা), জনস্বার্থে বাংলাদেশ (মোবাইল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএনডিপি) (স্যাটেলাইট), বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট-বিডিএম (প্রতীক চায়নি) ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ভাসানী ন্যাপ (প্রতীক চায়নি)। এছাড়া নির্ধারিত ফরমে আবেদন না করায় সুশীল সামাজিক আন্দোলন-এসএসএ (প্রতীক শার্ট) দলটির আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি (কলম), বাংলাদেশ তৃণমূল কংগ্রেস (গমের ছড়া বা হাতপাঞ্জা) ও মৌলিক বাংলা (মাথাল) এই তিনটি দলের আবেদনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর না থাকায় এসব দল নিবন্ধন পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি। ন্যাপ-ভাসানীর আবেদন অসম্পূর্ণ ও গঠনতন্ত্রের কপি জমা না দেয়ায় এ দলটির নিবন্ধন আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনানুযায়ী সংশোধনের সুযোগ দেয়া হলেও অনেকগুলো দল খসড়া গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছে। ১৫ দিন সময়ের মধ্যে দলের কাউন্সিল ডেকে গঠনতন্ত্র পাস করানো সম্ভব হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও বেশকিছু দল পূর্ণাঙ্গ কমিটি  দেয়নি; আবার কেউ কেউ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ (বি) ধারা অনুসরণ করে গঠনতন্ত্র জমা দেয়নি।
অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন উপযোগী হিসেবে যাদের বাছাই করা হবে, তাদের মাঠ পর্যায়ের কার্যালয় ও কমিটি রয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখা হবে। তাদের বিষয়ে দাবি-আপত্তি শেষে নিবন্ধন দেয়া হবে।
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে, নিবন্ধন পেতে হলে একটি দলকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনো নির্বাচনে অন্তত একটি সংসদীয় আসন পেতে হবে, অথবা যে কোনো একটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওই আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের ৫ শতাংশ পেতে হবে, অথবা দলের একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকতে হবে, অন্তত ২১টি প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা কমিটি থাকতে হবে এবং অন্তত ১০০ উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনের প্রমাণিক দলিল থাকতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, তিনটির মধ্যে একটি শর্ত পূরণ হলেই নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
বর্তমানে কমিশনে ৪০টি নিবন্ধিত দল রয়েছে। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনের সময় মাত্র দুটি দল নিবন্ধন পায়। আর ২০০৮ সালের নিবন্ধন পাওয়া ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের নিবন্ধন আদালতের আদেশে বাতিল করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

  সরকার চায়, বিএনপি নির্বাচনে না আসুক-মির্জা ফখরুল

  বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ও সিএমএইচকে সরকার অযথাই বিতর্কিত করছে-খালেদা জিয়া

  অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি-ওবায়দুল কাদের

  সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বেগম জিয়াকে সুচিকিৎসা নিতে বাধা দিচ্ছে-রিজভী

  খালেদা জিয়ার ঈদের দিন যেভাবে কাটলো

  খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না-নাসিম

  ওটা জেলখানা, কারো বাসভবন নয়-সেতুমন্ত্রী

  স্বজনদের সঙ্গে ঈদের দিন প্রায় দুই ঘণ্টা কাটল খালেদা জিয়ার

  খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পেলেন না ফখরুলরা

  দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খালেদা জিয়া-রিজভী

  ঈদের দিন খালেদার সাক্ষাৎ চান বিএনপি নেতারা

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ হচ্ছে, এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বাস্তবে তা ঘটবে বলে মনে করেন?