বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ০৮:৩৫:৩৪

জীবন ইয়ুথ ফাউন্ডেশন - পাহাড়ে সাজিদের গ্রীন আর্মির গল্প

জীবন ইয়ুথ ফাউন্ডেশন - পাহাড়ে সাজিদের গ্রীন আর্মির গল্প

শামসুল আলম:- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জেলা রাঙ্গামাটির সন্তান সাজিদ-বিন-জাহিদ (মিকি)। রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যয়নরত । রাঙ্গামাটি সবচেয়ে বড় জেলা হওয়া সত্বেও এখানে রক্ত সংরক্ষণের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা ছিলো না, এখনো যে সুযোগ-সুবিধা আছে তা নিতান্তই স্বল্প। পাহাড়ের দুর্গম উপজেলাগুলো থেকে আসা রোগীদের পড়তে হতো চরম বিপাকে। নিয়মিত ব্যাপার বনে যাওয়া এই সমস্যা নিরসনে সাজিদ-বিন-জাহিদ (মিকি) ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন স্বেচ্ছায় রক্তদানভিত্তিক সামাজিক সংগঠন 'জীবন'। জীবন সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় দশ হাজারের বেশি ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছে সংগঠনের সদস্যরা। বর্তমানে সংগঠনটির ১৫০০ নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী ও ৫০০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা আছেন। এ ছাড়াও ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সংগঠনটি। জীবনের একাধিক উদ্যোগের মাধ্যমে, এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি নারীকে মাসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন করেছে। পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি জনপদের মানুষকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং সময়সাপেক্ষ। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাজিদ বলেন, 'এই ধরনের কার্যক্রম পাহাড়ে নতুনত্ব ও সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। মানুষের আস্থা অর্জনের পূর্বশর্তই তাদের নিঃস্বার্থভাবে সেবাদান নিশ্চিত করা। এছাড়া পাহাড়ের সর্বত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক সমভাবে কাজ না করায়, স্বেচ্ছাসেবীদের কাজ করাও হয়ে ওঠে দুষ্কর। আমাদের কাজের অনেকটাই অনলাইন নির্ভর এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরাও অগ্রণী ভূমিকা রেখে যাচ্ছি। আমরা কাজ করেছি নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে।' করোনার সময়ের শুরু থেকেই তৎপর ছিলো জীবন-এর গ্রীন আর্মি। তারা স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে করোনা সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা ও মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালিয়েছে। মাস্ক বিতরণ, স্যানিটাইজার তৈরি ও জনগণের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া, রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্য বিভাগকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে জীবনের স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়মিত কাজ করেছে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করেছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'জীবন' তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত থেকে "জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড"। এছাড়াও, ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাজিদ বিওয়াইএলসি ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এসব অর্জনের মাঝেও সাজিদের কাছে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের ভালোবাসাটাই বড় অর্জন বলে মনে হয়। সাজিদের সংগঠন মূলত জরুরি রক্তের প্রয়োজনে রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মাঝে সংযোগ স্থাপন করিয়ে দেয়। এজন্য সংগঠনটির রয়েছে নিজস্ব ডাটাবেজ। কারও রক্তের প্রয়োজন হলে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতারা সশরীরে গিয়ে রক্তদান করে থাকেন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের মাধ্যমেই প্রায় দশ বছর নিয়মিত কাজ করছে জীবন। রক্তদানের জন্য কাজ শুরু করলেও সংগঠনটি বর্তমানে সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও তরুণদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার লক্ষ্যে কাজ করছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক প্রোগ্রাম পরিচালনা করা এবং নারী স্বাস্থ্য; বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য, মাসিক স্বাস্থ্য ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করছে জীবন। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা এবং তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও কাজ করতে চান সাজিদ। তিনি মনে করেন, যে কোনো ভালো কাজের পেছনে আবেগ থাকতে হবে। অনেকেই বলেন, আবেগের বশবর্তী হয়ে কাজ করা যাবে না। তবে আবেগ ছাড়াও কাজ করা সম্ভব নয়। দেশের তরুণদের মধ্যে যে সম্ভাবনা ও উদ্যম রয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। যে কোনো পদক্ষেপ, তা যদি ভালোর জন্য হয় তবে তা নিয়ে লেগে থাকতে হবে, এমনটাই মনে করেন সাজিদ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে, পাহাড়ের তরুণদের পাশাপাশি দেশের সম্ভাবনাময় তারুণ্যের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ মেধাবী এই তরুন সংগঠক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?