বুধবার, ১৭ জুলাই ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯, ০৪:৩৩:২০

রোহিঙ্গাদের কারণে ধ্বংস হয়েছে পাহাড়ি বনাঞ্চল-প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের কারণে ধ্বংস হয়েছে পাহাড়ি বনাঞ্চল-প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্টঃ-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে অবস্থান করছে। পাহাড়ি বন তো আগেই কিছু নষ্ট হয়েছিল, আর রোহিঙ্গাদের কারণে এখন তা প্রায় শেষ। যেখানে গভীর বন ছিল সেগুলো প্রায় ধ্বংসের পথে। মানব সভ্যতার যত বিকাশ হয় বা নগরায়ণ হয় সাথে সাথে কিন্তু বনায়নও ধ্বংস হয়, পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। কিন্তু তাই বলে, আমাদের উন্নয়ন কি চলবে না, সভ্যতা কি থেমে থাকবে? থেমে থাকবে না। সভ্যতা এবং তার ক্রমবিকাশ অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। একই সাথে আমাদের পরিবেশকেও রক্ষা করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০১৯ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন প্রকল্প গ্রহণকালে প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ এবং অধিকহারে বৃক্ষ রোপণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে, যে কোনো প্রকল্পের সঙ্গে বৃক্ষ রোপণ করতেই হবে এবং জলাধার সৃষ্টি এবং জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে।’ আজিমপুর গার্লস স্কুলে পড়ার সময় বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে গাছ লাগানোর স্মৃতিচারণও করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সুন্দরবন রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিকায়ন ও যান্ত্রিক ব্যবহার বৃদ্ধিতে বায়ুদূষণ থেকে শুরু করে নানা ধরনের দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। রান্নার ধোঁয়া, ডিটারজেন্ট, সাবান, শ্যাম্পু, মনুষ্য বর্জ্য, ইটভাটা, বিভিন্ন কেমিক্যাল পরিবেশ দূষণ করছে। আমাদের মোট ভূমির ২০ ভাগ বনায়ন করতে হবে। জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করেই আওয়ামী লীগ সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ইট নির্মাণ শিল্পকে পরিবেশসম্মতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ প্রণয়ন করেছে। তিনি বলেন, প্রথম যখন আমরা সরকারে আসি, তখন সিলেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে ইকোপার্ক নির্মাণ করি। যানবাহনের কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে সৃজিত বাগানে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬০১ জন উপকারভোগী সম্পৃক্ত রয়েছেন। যাদের মধ্যে নারী উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৭ জন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পরিবেশ সংরক্ষণ ও ওজন স্তর সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সার্টিফিকেট অব এপ্রিসিয়েশন অর্জন এবং বাংলাদেশ সাউথ এশিয়া কো-অপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (সাসেপ)-এর নির্বাহী বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে জাতিসংঘ তাকে লিডারশীপ ক্যাটাগরিতে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত করা করার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরনির্ভরশীল নয় বাংলাদেশ।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ ও বনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু এওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন-২০১৯, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০১৮ ও সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশের চেক এবং একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার জন্য জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৯ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানস্থল থেকে গাজীপুরে ‘শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টার’ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জন্য নতুন ভবনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এই বিভাগের আরও খবর

  উন্নয়নের জন্য মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুতের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

  ডিসিদের প্রতি ৩০ দফা নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

  এইচএম এরশাদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

  এইচএম এরশাদ আর নেই

  সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

  'জনগণকে অবহেলা করে দেশ পরিচালনা করে না আওয়ামী লীগ-প্রধানমন্ত্রী

  ১২ স্থানে বিপদসীমার ওপর নদ-নদীর পানি

  ইসলামী পর্যটনকে বিশ্ব বাণিজ্য ব্র্যান্ড করতে রোডম্যাপ জরুরি-শেখ হাসিনা

  রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন পাশে থাকবে-প্রধানমন্ত্রী

  ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ-প্রধানমন্ত্রী

  নদীর তীর পুনর্দখলের চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে এখন টাকা থাকলে সব রকম অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। আপনি কি তা ঠিক মনে করেন?