বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
SHARE

মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯, ০৮:১২:৫৮

কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৩ তম বার্ষিকীতে ঢাকায় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের গোল টেবিল বৈঠক

কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৩ তম বার্ষিকীতে ঢাকায় হিল উইমেন্স ফেডারেশনের গোল টেবিল বৈঠক

ডেস্ক রিপোর্টঃ-২৩ বছরেও শুরু হয়নি তৎকালীন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলার বিচার কাজ। ১৯৫২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের এই ভূখন্ডে গণআন্দোলনের ওপর যেসব আঘাত এসেছে তার কোনটার বিচার হয়নি। কোন ঘটনার তদন্তের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়নি। কল্পনা চাকমার অপহরণের মামলার দীর্ঘসূত্রিতার ব্যাপারটিও তার ধারাবাহিকতার অংশ। আর কল্পনা চাকমার অপহরণকারী লেফট্যান্ট ফেরদৌস ও তার সাঙ্গপাঙ্গারা এখনো বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন। এসময় তারা কল্পনা চাকমা অপহরণের দ্রুত বিচার দাবী করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন মধ্যরাতে রাঙ্গামাটির নিউলাল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অপহরণের শিকার হন তিনি।
মঙ্গলবার (১১জুন) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল রুমে “কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৩ বছর, চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস গংদের সাজার মাধ্যমে আইন-আদালতের কার্যকারিতা প্রমানের দায়িত্ব সরকারের” এই স্লোগানে ঢাকায় গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরুপা চাকমার সভাপতিত্বে ও সভা সঞ্চালনা ও লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা।
গোল টেবিল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি হাসিবুর রহমান, ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, লেখক ও অনুবাদক ওমর তারেক চৌধুরী, ব্যারিষ্টার সাদিয়া আরমান, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মানস নন্দী, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গনের সদস্য বীথি ঘোষ, শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মিতু সরকার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, সিপিবি নারী সেলের সদস্য লুনা নুর, শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালি প্রমূখ।
এক সময় কল্পনা চাকমা অপহরণ মামলার সাথে যুক্ত ছিলেন জানিয়ে ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, কল্পনা চাকমা অপহরণের নিয়ে জুডিশিয়ারি ইনকোয়ারি থেকে শুরু করে গণ-প্রতিনিধিত্বের অংশগ্রহনে অনেক তদন্ত হয়েছে। কিন্তু তারা তদন্তের কোন ফয়সালা করতে পারেনি বা করেনি। কল্পনা চাকমার অপহরণের মামলা কোন পর্যায়ে আছে প্রশ্নে বলতে হয় এই মামলা আদৌতে কোন পর্যায়ে নেই। ২৩ বছরেও এই মামলার প্রক্রিয়া এখনো শুরু করা যায়নি। কারণ, এখনো তদন্তের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন তারা জমা দিতে পারেনি। তিনি বলেন, যে সমস্যাটা এখন পর্যন্ত দেখছি, যিনি মামলার তদন্ত করছেন, সময়ের পর সময় চেয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ সুপার এই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। এক পর্যায়ে এমনও হয়েছে যে, মামলার তদন্ত থেকে অব্যাহতি চেয়েও আবেদন করেছিলেন এই বলে যে, আমি তো তদন্ত করে কিছু পাচ্ছি না, আমাকে অব্যাহতি দেন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা মানস নন্দী বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে যে নিপীড়ন চলছে তার বিরুদ্ধে সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ছাত্র, নারী, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনসমূহকে সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। এই প্রেক্ষিতে আন্দোলন করতে আমাদের মতভেদ থাকতে পারে কিন্তু নিপীড়নের জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ব্যারিষ্টার সাদিয়া আরমান বলেন, দেশে আজ নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। আনুপাতিকভাবে ধর্ষণ ও ধর্ষনের পর হত্যার ঘটনা সমতলের তুলনায় পাহাড়ে বেশী এবং এসব ধর্ষনের কোন ঘটনার আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি। বরং রাষ্ট্র পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে সিস্টেমেটিক্যালি বিদ্বেষ ছড়িয়ে সমতলের বাঙালি জনগোষ্ঠীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, রাষ্ট্র বিচারহীনভাবে ঠান্ডা মাথায় তার নাগরিকদের যেভাবে হত্যা, গুম করছে তার নজির ব্রিটিশ, পাকিস্তান পিরিয়ডেও কিছু ব্যতিক্রম বাদে নেই। স্বজন হারানোর মর্মকথা প্রধানমন্ত্রী প্রায়শই বলেন এবং আবেগ আপ্লুড হন। শ্রমিক নেতা মাইকেল চাকমা নিখোঁজ হলেন, আরও কত মানুষ গুম হলেন, প্রধানমন্ত্রী কি সেসব শুনেন না?
পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসেনি দাবী করে বামজোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, যেখানে সংবিধানে বাঙালি ভিন্ন অন্যান্য জাতিসত্তাদের স্বীকৃতিই দেয়া হয়নি। সেখানে চুক্তি করে কিভাবে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যাবে! সরকার প্রতিনিয়ত শ্রমিকদের সাথে চুক্তি করে এবং ভঙ্গ করে, ছাত্রদের আশ্বাস দেয় কিন্তু রাখে না। এটা এখানকার শাসকদের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে এই শাসকদের কিভাবে বিশ^াস করব তারা চুক্তি করে পাহাড়িদের অধিকার দিবে! শাসকরা তাদের শ্রেনী চরিত্র নিয়ে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু আমরা কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি ও নিপীড়ত জাতিসত্তার মানুষ বিচ্ছিন্ন। দেশে অনেক শাসক এসেছে কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের কোন পলিসি পাল্টায়নি। কারণ তাদের চরিত্র একই।
অনুষ্ঠানে ইউমেন্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কল্পনা চাকমা অপহরণ হওয়ার পর এ নিয়ে হাজার রকমের প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। হিল উইমেন্স ফেডারেশেন এখনও হাল ছেড়ে দেয়নি। এর সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের বিচার হতেই হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

  প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় শহরগুলোতে ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দিলেন

  ড. কালাম ‘এক্সিলেন্স এওয়ার্ড’ গ্রহণ করেই দেশবাসীকে উৎসর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী

  নেদারল্যান্ডসের ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনা

  সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মডেল মসজিদ নির্মাণ করছে-স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

  ৪৮ বছর পর সীমান্ত পিলারে পাকিস্তান মুছে বাংলাদেশ

  আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যার রাজনীতি করে না-প্রধানমন্ত্রী

  বিশ্বের শীর্ষ নারী শাসকদের তালিকায় শেখ হাসিনা

  লন্ডনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরেছেন

  সরকারের প্রচেষ্টায় দেশে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে-প্রধানমন্ত্রী

  সেপ্টেম্বরের ছয় দিনেই আক্রান্ত ৪০৪৯ জনঃ ৭৫ হাজার ছাড়াল ডেঙ্গু রোগী, সুস্থ সাড়ে ৭১ হাজার

  সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?