সোমবার, ১৮ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুন, ২০১৮, ০১:৫৫:০৭

ঈদযাত্রা নিরাপদ করুন

ঈদযাত্রা নিরাপদ করুন

আরাফাত শাহীনঃ-বছর ঘুরে আমাদের দোরগোড়ায় পবিত্র ঈদ এসে কড়া নাড়ছে। বাংলাদেশের মতো ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশে ঈদ মহা আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয়। ছেলে-বুড়ো, ধনী-গরীব সকলেই ঈদের আনন্দে উদ্বেলিত হয়। তবে প্রতিবছর আমাদের মাঝে ঈদ আসে আর আমাদের সামনে বড় বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়। যে সমস্যাগুলো সারাবছর আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায় ঈদের সময় গণমাধ্যমে সেই সমস্যাগুলো ব্যাপকভাবে উঠে আসে। আমরা যদি ঈদ আসার আগেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে ব্যর্থ হই তাহলে আমাদের ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়ে যাবে। আমাদের নিত্যদিনের চলার পথ এমনিতেই বিপদসঙ্কুল, ঈদের সময় এই বিপদ যেন আরো বহুগুণ বেড়ে যায়।
ঈদের সময় মানুষ সবচেয়ে বেশি যে বিপদের সম্মুখীন হয় সেটা হলো ঈদযাত্রা। বাংলাদেশের মানুষের একটা বড় অংশের বসবাস শহর এলাকায়। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং উন্নত জীবনের হাতছানিতে গ্রামের মানুষ শহরমুখী হলেও শিকড়কে তারা একেবারে ভুলে যেতে পারে না। এর প্রতিফলন দেখা যায়, ঈদের সময় গ্রাম অভিমুখে যাত্রায়। লাখ লাখ মানুষ ঈদকে সামনে রেখে প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য প্রতিবছর ঈদে গ্রাম অভিমুখে যাত্রা করে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ যে যেভাবে পারে গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এসময় মানুষের ভিড়ে অধিকাংশ যানবাহন ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে বাধ্য হয়। বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চের ছাদে বাদুড়ঝোলা হয়ে মানুষ নাড়ির টানে ছুটে চলে। বছরের পর বছর ধরে এই ছুটে চলা অব্যাহত রয়েছে।
ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি মানুষ চলাচল করে সড়কপথে। আমাদের সড়কগুলোর অবস্থা এমনিতে খুব একটা সুবিধার নয়, ঈদের সময় এসে সেগুলোর অবস্থা যেন আরো খারাপ হয়ে যায়! সড়কপথে প্রতি ঈদে মানুষের ভোগান্তি আমাদের নজরে আসে। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, মোট সড়ক-মহাসড়কের ২৫ শতাংশের অবস্থা বেহাল। এসব সড়ক দিয়েই মানুষকে চলাচল করতে হবে। রাস্তাঘাট এমনিতেই খানাখন্দ দিয়ে পরিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে সেসব খানাখন্দ পানিতে পূর্ণ হয়ে বড়সড় পুকুরে পরিণত হয়। ফলে ঘটতে থাকে সড়ক দুর্ঘটনা; ঝরে যায় অসংখ্য প্রাণ। ঈদকে সামনে রেখে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। বাড়তি ইনকামের আশায় মালিকপক্ষ এসব গাড়ি নামানোর ফলে ঈদের সময় দুর্ঘটনার পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যায়। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি এড়িয়ে যাতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামতে না পারে সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ঈদের সময় চারিদিকে বাস ও ট্রেনের টিকিটের হাহাকার পড়ে যায়। অধিকাংশ টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হওয়ার ফলে যাত্রীদের পড়তে হয় অসহনীয় ভোগান্তিতে। এসব টিকিট চড়া দামে বিক্রি হয়। অনেক সময় দেখা যায়, টিকিটের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট মেলানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। ঈদের সময় সবচেয়ে বড় ভোগান্তির সৃষ্টি হয় এই টিকিটকে কেন্দ্র করে। টিকিট যাতে কালোবাজারি হতে না পারে সেদিকে কড়া দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ঈদের সময় এলে রাস্তাঘাটে যেহেতু মানুষের চলাচল বেড়ে যায় সেহেতু এসময় রাস্তায় ছিনতাইয়ের পরিমাণও বিপুলভাবে বেড়ে যায়। একশ্রেণির মানুষ ঈদ মৌসুমকে ছিনতাইয়ের উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেয়। অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি একযোগে সক্রিয় হয়ে মাঠে নামে। সামান্য অসতর্ক হলেই পকেট ফাঁকা হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এসব পার্টির খপ্পরে পড়ে মানুষের জীবননাশের আশঙ্কাও থাকে।
আমাদের ভুল এবং অদক্ষতার কারণে যেন মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। ঈদে ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন। প্রতিবছর ঈদ এলে এই যে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে তবুও মানুষ ঈদ এলেই বাড়ির দিকে ছোটে। আবহমান কাল ধরে বাংলাদেশের মানুষ এভাবে ছুটে আসছে। ঈদযাত্রায় আমরা যেসব ভোগান্তির সম্মুখীন হই একটু সচেতন হলেই কিছু সমস্যার সমাধান আপনাআপনি হয়ে যায়। আর কিছু সমস্যা সমাধানের চাবি সরকারের হাতে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি একটু সচেতন হয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করে তাহলে বিড়ম্বনার পরিমাণ কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব। আমরা আশা করব, মানুষের ঈদযাত্রা এবার পূর্বের চেয়ে নিরাপদ হবে। মানুষ হাসিমুখে তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিক এই প্রত্যাশা করি।
(লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) (সংগৃহিত)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ হচ্ছে, এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বাস্তবে তা ঘটবে বলে মনে করেন?