রবিবার, ২২ অক্টোবর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ০২ অক্টোবর, ২০১৭, ০৪:৩২:৪৫

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও বিশ্বরাজনীতি

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও বিশ্বরাজনীতি

কাজী শওকত হোসেনঃ-গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, যারা সুদীর্ঘকাল থেকে বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে অতর্কিত সন্ত্রাসের মিথ্যা অভিযোগ তুলে গণহত্যা শুরু করে। বস্তুত রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণের ১০ দিন আগেই মিয়ানমারের ২০টি রাজনৈতিক দল সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে খোলা চিঠিতে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছিল। ওইসব দল ঐকমত্য পোষণ করে যে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সমূলে উৎখাত করতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক সেনাবাহিনী ২৫ আগস্ট গভীর রাতে গ্রামে গ্রামে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করে। বৌদ্ধ যুবকরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে গণহত্যায় যোগ দেয়। তাদের বর্বরতা মানব ইতিহাসের এক জঘন্য ঘটনা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। এ ঘটনা এমন একসময়ে ঘটল, যখন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নেত্রী ড. অং সান সু চি দীর্ঘ ১৫ বছর গৃহবন্দি থাকার পর তার দল ‘লীগ ফর ডেমক্রেসি’ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায়। তবে সু চি স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তাকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেয়া হয়নি। তিনি বিদেশি নাগরিক বিয়ে করার কারণে সংবিধান সংশোধন করে তাকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেয়নি জান্তাগোষ্ঠী। সেনাবাহিনী তাদের ইচ্ছানুযায়ী বিগত সময়ে শাসনতন্ত্র রচনা করেছে। সু চিকে তা মেনে নিয়েই ক্ষমতায় আসতে ও দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে, সেনাবাহিনীর জেনারেলদের ইচ্ছার বাইরে যাওয়ার কোনো ক্ষমতা তার নেই। সেনাবাহিনী চাইলে যে কোনো সময় ক্ষমতা দখল করে নিতে পারে।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সাবেক বার্মা বর্তমান মিয়ানমার ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সামরিক বাহিনীর অধীনেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশটি প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদে ভরপুর। দীর্ঘদিন সামরিক শাসকদের দ্বারা দেশ পরিচালিত হওয়ার কারণে সারা বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মিয়ানমার। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কখনই প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেনি। এক জেনারেলের হাত থেকে আরেক জেনারেলের হাতে ক্ষমতা অর্পিত হয়েছে, রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়েছে তাদের ক্ষমতার পালাবদলে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের ও গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ভাবার তাদের কোনো সময় হয়নি বা প্রয়োজন পড়েনি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এতটাই নিষ্ঠুর প্রকৃতির যে, ভিন্ন মতাবলম্বী কাউকে তারা সহ্য করতে পারে না। যখন যে ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করে, তখন সে শুধু প্রয়োজন হলে তার সমমনা জেনারেলদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে সবকিছু পরিচালনা করে। এর ফলে দেশে এবং বিদেশে কে কী ভাবল তা তারা পরোয়া করে না, তারা একলা চলো নীতি অনুসরণ করে থাকে। মিয়ানমার অবরোধ মোকাবেলা করে অভ্যস্ত। দেশটি সব অবস্থায় চীন, রাশিয়া ও ভারতের সমর্থন পেয়েছে। মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীর একগুঁয়েমি নীতি এবং অত্যাচার-নির্যাতন-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বের বহু দেশ অবরোধ আরোপ করলেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেনি শুধু চীন ও রাশিয়ার কারণে।
বিশ্বের ৫টি দেশ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, চীন ও রাশিয়ার যে কোনো ৩টি দেশ একমত হয়ে অন্যায়কারী দেশের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের জাতিগোষ্ঠী নিধনের ব্যবস্থা বন্ধ করতে না পারলে জাতিসংঘ ঠুঁটো জগন্নাথ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। ভেটো ব্যবস্থা বজায় রাখা হলে বিশ্বের দেশে দেশে মানবতা ভূলুণ্ঠিত হবে এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও দেশ কীভাবে ন্যায়বিচার পাবে, তা নতুন করে ভাবার প্রয়োজন হবে। একটা বিষয় পরিষ্কার, মিয়ানমারে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে এ ব্যাপারে সবাই একমত। যদিও রাশিয়া রোহিঙ্গা ইস্যুকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে। চীনের সমর্থন যে মিয়ানমারের প্রতিই থাকবে, সে বিষয়টিও খুবই পরিষ্কার। অর্থাৎ নিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব উঠলে চীন ও রাশিয়া যে ভেটো দেবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।
মিয়ানমারে চীনের ১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আছে। রাশিয়া গ্যাস ও তেল ব্লকে তার বিনিয়োগ বাড়াবে। প্রচুর খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ আছে মিয়ানমারে। আয়তনে দেশটি বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বড়। জনসংখ্যা ৫ কোটি ১০ লাখ। ভারতও নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে এখানে, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ আরও বাড়াবে। বিশ্বের আরও ধনী দেশ এগিয়ে আসবে মিয়ানমারে বিনিয়োগ করতে। ভূ-রাজনীতির কারণে একটি জাতিগোষ্ঠীকে হত্যা-উচ্ছেদ করা হলে মানবতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। তাদের অন্য দেশের সাহায্য-সহযোগিতায় বসতির ব্যবস্থা করা হলেও তাদের সমস্যার স্থায়ীভাবে সমাধান হয় না। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন, রাশিয়া, ভারত সবচেয়ে বড় বাধা। তারা আন্তরিক থাকলে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারকে রাজি করানো সহজ হয়। আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডাসহ অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে একমত ও আন্তরিক হলেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে তারা কতটা সক্ষম হবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। জাতিসংঘ আন্তরিক বটে, তবে মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক, সামরিক অথবা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বহুমুখী অবরোধ আরোপ করা হলেও সু চি ও সামরিক জান্তা কোনো কিছু শুনবে বা মানবে বলে মনে হয় না।
রোহিঙ্গা সমস্যা ১৯৭৮ সাল থেকে জগদ্দল পাথরের মতো বাংলাদেশের মানুষের বুকের ওপর চেপে বসে আছে। দিন দিন এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশ শত অসুবিধার মধ্যেও রোহিঙ্গাদের শুধু মুসলিম হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে আশ্রয়-খাবার-চিকিৎসা দিয়ে আসছে। বিশ্ববাসী শেখ হাসিনার এই মানবিকতা ও বাংলাদেশের মানুষের মমত্ববোধের প্রশংসা না করে পারেনি। সে কারণেই বিবিসি শেখ হাসিনাকে ‘মানবিকতার জননী’ বলে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশের মানুষকে গৌরবান্বিত করেছে। সু চি জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে যোগ না দিয়ে বিশ্বসভায় নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে সু চি তার ভাষণে ৫টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। ১. তিনি শরণার্থী ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত, ২. মুসলমান রোহিঙ্গা চলে যাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন, ৩. মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত হবে, ৪. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে তার ভয় নেই, কূটনীতিকদের পরিদর্শনে আমন্ত্রণ এবং ৫. আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে। সু চির ভাষণকে ভাঁওতাবাজি হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ তিনি গণহত্যার কথা স্বীকার করেননি। রোহিঙ্গাদের জন্মভূমি যে মিয়ানমার, সে কথা মানতে চান না। ১৯৮২ সালে আইন করে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা, নাগরিক হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত করা, তাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা সে কথাই বলে। সু চির মতে বাংলাদেশের রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের অধিবাসী ছিল, তার প্রমাণ দেখাতে হবে।
অথচ বাস্তব সত্য এই যে, নাগরিক হিসেবে কোনো আলামতই রোহিঙ্গারা রাখেনি, তাদের আবাসস্থল জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাদের বাঙালি মুসলিম জাতিগোষ্ঠী বলা হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন, কীভাবে এ সমস্যার সমাধান হবে? আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি গভীরভাবে বিবেচনা করে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের জন্মস্থান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করে, তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলেই কেবল তারা সব অধিকার ফিরে পাওয়ার পথ খুঁজে পাবে। তা না হলে সমস্যার কোনো কূলকিনারা হবে না। এখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণের যাবতীয় খরচে বছরে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, ভবিষ্যতে এ খরচ আরও বাড়বে। এখনই আশি হাজার রোহিঙ্গা নারী সন্তানসম্ভবা। তাদের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সমস্যা, পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষা, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন সমস্যা, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা, মৃত্যুজনিত দাফন সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে একই জায়গায় আবদ্ধ থাকার কারণে তাদের মানসিক অবস্থা কী হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। তাদের নির্দিষ্ট অবস্থানে না রেখেও তো কোনো উপায় নেই। দেশি ও আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগোষ্ঠী কোনোভাবেই তাদের যেন ব্যবহার করতে না পারে, তার সর্বাত্মক নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
রোহিঙ্গা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বুদ্ধিজীবী সমাজকে আলোচনার ভিত্তিতে ন্যূনতম ঐকমত্যে থাকতে হবে দেশ ও মানুষের স্বার্থে। হীন মানসিকতার কারণে বড় ক্ষতি হতে পারে সমাজ ও রাষ্ট্রের। সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ বিশ্ব সম্প্রদায় ও আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায় যাতে সব সময় আমাদের পাশে থাকে, সেই কূটনৈতিক দক্ষতা আমাদের বজায় রাখতে হবে। আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু ভারত ও রাশিয়া ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের যে সাহায্য-সহযোগিতা করেছিল, তা কোনোদিন ভুলে যাওয়ার নয়। বাঙালি কৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে সেই বিভীষিকাময় সময়ের কথা স্মরণ করে। বঙ্গবন্ধুর বিশাল ব্যক্তিত্ব এবং দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে ভারত এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। ব্যবস্থা করেছিল খাদ্য, বস্ত্র, থাকার জায়গা ও চিকিৎসার। অস্ত্র, গোলাবারুদ, প্রশিক্ষণ ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিসহ অন্যরা অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীকালে দেশ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখেছে রাশিয়া। বর্তমানেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও বহু ক্ষেত্রেই দেশটি আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তারা আমাদের পাশেই থাকবে, আমরা সেটিই আশা করব। জাতিসংঘের অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর প্রয়োজনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারত, রাশিয়া, চীন সফর করে মোদি, পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর চীন আমাদের উন্নয়নের সহযোগী হয়েছে। পদ্মা সেতুসহ বহু ক্ষেত্রে দেশটি আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট বিষয়টি উপলব্ধি করবেন এবং সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, এটা আমরা আশা করতেই পারি। মুক্তিযুদ্ধের সময় চীন পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। স্বাধীনতা লাভের পর চীন তার অবস্থান পরিবর্তন করে, এখন আমাদের ভালো বন্ধু হিসেবে পাশে আছে। রাশিয়া, চীন, ভারত এই তিন দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমার তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের কথা শুনবে ও মানবে। মিয়ানমারকে তারাই পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সক্ষম। তাদের উদাসীনতায় এ অঞ্চল যদি অশান্ত হয়, বাংলাদেশ তো বটেই চীন ও ভারতেও শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার দূরদর্শিতা দিয়ে ওআইসিতে ৬ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। ১. রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে, ২, নিরপরাধ জনগোষ্ঠীর জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ এলাকা তৈরি করে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে, ৩. বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বদেশ ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে, ৪. আনান কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ নিঃশর্তভাবে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে, ৫. রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করার রাষ্ট্রীয় প্রপাগান্ডা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং ৬. রোহিঙ্গারা না ফেরা পর্যন্ত বাংলাদেশে জরুরি সহায়তা দিতে হবে মুসলিম দেশগুলোকে। শেখ হাসিনার এই যৌক্তিক দাবি পূরণ হলে সমস্যার সমাধান হবে, নির্দ্বিধায় বলা যায়।
কাজী শওকত হোসেন : কলামিস্ট (সংগৃহিত)

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও এখন এটা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি কি তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত?