মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১৩ মে, ২০১৯, ০৮:৫১:১১

বৌদ্ধ পূর্ণিমায় আইএসের জঙ্গী হামলার হুমকিঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা

বৌদ্ধ পূর্ণিমায় আইএসের জঙ্গী হামলার হুমকিঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা

ডেস্ক রিপোর্টঃ-বাংলাদেশ ও ভারতে বৌদ্ধ পূর্ণিমায় আইএসের হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে এই হামলা মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসন সতর্ক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। বিশেস করে পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ও বৌদ্ধ মন্দিরের সংখ্যা বেশী থাকায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পূর্ব সতর্কতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পুলিশ সুপারদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ১৮ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মোহা, আহমার উজ্জামান জানান, হুমকির প্রেক্ষিতে জেলার সকল গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এসব ধর্র্মীয় প্রতিষ্ঠানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকের টহল রয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইএস কর্তৃক হামলার হুমকির সতর্কতার বিষয়ে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, আগামী ১৮ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মন্দিরগুলোতে সতর্কতামূলক নজরদারির পাশাপাাশি পূর্ণশক্তি নিয়োগ করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, জেলার যে কোন স্থানে যে কোন সময় তল্লাশির চেক পোষ্ট বসানো হবে। তিনি বলেন, কাউকে সন্দেহের বাইরে রাখা হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যা যা করণীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাই করা হবে। সকল ধরনের মানুষকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে। এজন্য ধর্মীয় গুরুরা বাদ যাবে না। যাকে সন্দেহ হবে তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রমাণ পেলে শাস্তি অবধারিত। দেশের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সব কিছু করতে প্রস্তুত। রাঙ্গামাটির ৫শত বৌদ্ধ মন্দিরের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, এধরনের একটা হামলার ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য আমাদের কাছে আসার পর আমরা সম্ভাব্য সকল ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। অন্যান্য বারের তুলনায় এবারে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ প্যাগোডা, কিয়াং, মন্দির ও গির্জাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করেছি। কিছু জায়গায় আমরা পেট্রোলের ব্যবস্থা করেছি। আর যেগুলো একটু কম গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোতে মোবাইল টিমের মাধ্যমে একটা নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করেছি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে আমরা বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত, ভিক্ষু, ফাদারদের নিয়ে মতবিনিময় করেছি। এসব বৈঠকে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য কিছু পরামর্শ প্রদান করেছি। আমাদের মোবাইল নম্বরগুলো তাদেরকে দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন থানা থেকে কোনো না কোন অফিসার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিজিট করছেন। যারা সন্ত্রাসী হামলা করতে পারে তারা কোন কোন ছদ্মবেশে আসতে পারে সে বিষয়ে তাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। ভান্তেদের ছদ্মবেশে, ফাদারদের ছদ্মবেশে, গর্ভবতী মহিলাদের ছদ্মবেশে, বিভিন্নভাবে তারা আসতে পারে সে বিষয়ে তাদের সচেতন করা হয়েছে। তারাও নিজস্ব চেকিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং আমরাও বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত চেক পোষ্ট করছি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গে এই সতর্কতার কথা জানিয়েছেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)। এই সম্ভাব্য হামলা চালাতে পারে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) বা ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
বুদ্ধ পুর্ণিমায় হামলার আশংকা পাশাপাশি আইবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু বা বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালানো হতে পারে। শুক্রবার এই সতর্ক বার্তা পশ্চিম বঙ্গ সরকার জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। গত মাসে ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার পর পশ্চিমবঙ্গে সতর্কতামূলক পদেক্ষপ নেওয়া হয়। হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
এর আগে ২৭ এপ্রিল আইএস পন্থী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে বাংলায় প্রকাশিত একটি বার্তায় গোষণা দেওযা হয়েছিল, ‘শিগগিরই আসছি’। শ্রীলঙ্কায় হামলার জন্য ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে)-কে দায়ী করে আসছেন শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ। এনটিজে’র সঙ্গে জামাতুল মুজাহিদিন ইন্ডিয়ার (জে এমআই) ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। শ্রীলংকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধনে এর আগে বলেছিলেন, শ্রীলংকা সিরিজ হামলায় জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জে এমবি) ভারতীয় শাখা জে এমআই জড়িত থাকতে পারে। খবরে বলা হয়েছে, ভারতে জেএমআই’র কর্মকান্ড সর্ম্পকে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক খবরে ভারতে তাদের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারীতে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে জেএমবি’র দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এই বিভাগের আরও খবর

  রাজস্থলীতে সেনা সদস্য নিহতের ঘটনায় রাজস্থলী-চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়কে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান, টহল জোড়দার

  পানির সংকট নিরসন হলো বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে

  বান্দরবানে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে মালিক ও চালক সমিতির উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান

  লামা থেকে চট্টগ্রাম বাস সার্ভিস চালু ও সড়কে দুর্ঘটনা রোধে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন-স্মারকলিপি প্রদান

  রাজস্থলীতে সেনা টহল দলের উপর সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণঃ স্থল মাইন বিষ্ফোরণ ও গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ সেনা সদস্য আহত

  লামায় পুকুরে ভেসে উঠল শিশুর লাশ

  দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে একটি ব্রিজের দাবি বাস্তবায়িত করেনি কেউঃ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে এলাকাবাসী

  তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করতে জনবল বৃদ্ধিসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে-সচিব

  রাঙ্গামাটিতে মাদক বিরোধী সচেতনতামুলক ডিজিটাল কিওস্ক এলইডি ডিসপ্লের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক

  খাগড়াছড়িতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কামাল হোসেন’র অফিস দখলের চেষ্টার অভিযোগের বিরুদ্ধে মামলা

  রাঙ্গামাটিতে জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন শৃংখলা সভা অনুষ্ঠিত



 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন