সোমবার, ১৭ জুন ,২০১৯

Bangla Version
SHARE

সোমবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৯:০১:৪৮

বান্দরবানের পর্যটন স্পট রুমা উপজেলার বগালেক দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে পর্যটকেরা

বান্দরবানের পর্যটন স্পট রুমা উপজেলার বগালেক দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে পর্যটকেরা

বান্দরবানঃ-বাংলাদেশের পার্বত্য ৩ জেলার অন্যতম সুন্দর ও রহস্যময় জেলা বান্দরবান। সেই বান্দরবান এর আর এক রহস্যময় ও আকর্ষনীয় পর্যটন স্থান হচ্ছে বগালেক। রহস্যময় বলছি এই কারণে যে, বগালেকের উৎপত্তি নিয়ে আছে নানারকম উপকথা, যা সেখানে গেলেই শুনতে পারবেন আদিবাসিদের মুখে মুখে। বগাকাইন হ্রদ বা বগা হ্রদ (স্থানীয় নাম বগালেক) বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত একটি স্বাদু পানির হ্রদ। বান্দরবান থেকে ৭০ কিমি দূরে রুমা উপজেলায় কেওক্রাডং এর কোল ঘেষে এর অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর  উচ্চতা প্রায় ২,৪০০ ফুট (কেওক্রাডং-এর উচ্চতা ৩,১৭২ ফুট)। ফানেল বা চোঙা আকৃতির আরেকটি ছোট পাহাড়ের চুড়ায় বগা লেকের অদ্ভুত গঠন অনেকটা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের মতো।
সকাল, বিকেল, রাত তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সময় বগা লেকের দৃশ্য ভিন্ন ভিন্ন, তবে রাতের বগালেক এক অদ্ভুত সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি করে। পূর্নিমায় দেখবেন এক রূপ আর অমাবস্যায় দেখবেন আর এক রূপ। অমাবস্যায় হারিয়ে যাবেন তারার রাজ্যে। আকাশ ভরা তারার মেলার নিচে বসে বগালেকের অপূর্ব মনোরম সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করার অনুভুতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
বগালেকে যাবেন আর বগালেকের পানিতে দাপাদপি করবেন না তাকি হয়। কিন্তু সব সময় মনে রাখবেন যে আপনার জীবনের মূল্য সবচেয়ে বেশি। সাতারে পারদর্শি হলে ও বেশি দূর যাবেন না কারন লেকের নিচে পাথর আছে, পাথরে আঘাত লেগে আপনি আহত হতে পারেন। তাই পানিতে নামা নিয়ে খুব সাবধান থাকবেন। যারা সাতার পারেন না কিন্তু পানিতে নামতে চান তারা চাইলে পাড়ের কাছে হাটু পানিতে নেমে গোসল করে নিতে পারেন।
বগালেকে পৌঁছেই বগালেক আর্মি ক্যাম্প রিপোর্ট করতে হবে। তার পর গাইড থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবে। রুমা থেকে গাইড ভাড়া পাওয়া যায় দৈনিক গাইড প্রতি পরিশোধ করতে হয় ৬০০ টাকা। বেশ কিছু রিসোর্ট আছে বগালেকে। বগা লেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই কিন্তু মোবাইল বা ক্যামেরার ব্যাটারি টাকা দিয়ে চার্জ দিয়া যাবে।
বগালেকের আশে পাশে রয়েছে একটি ছোট গ্রাম। আর এই গ্রামে বসবাস করে বম সম্প্রদায়ের ৩০ টি পরিবার। জনসংখ্যা প্রায় ১৫০জন। এই বম সম্প্রদায়ের জনসাধারণ অত্যান্ত অতিথি পরায়ন। যে কোন একটি বম সম্প্রদায়ের বাসায় রাত অবকাশযাপন করা যায়, আর জনপ্রতি খরচ হয় মাত্র ১৫০ টাকা। আর খাওয়ার হিসাব করলে বম সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোতে অর্ডার করলেই মেলবে সুস্বাদু খাওয়ার।
এই বগালেকে সবচেয়ে পুরনো এক এনজিও শিক্ষক সি আম বম। তিনি তার পরিশ্রম আর মেধায় এই বগালেককে সুন্দর করে তুলেছেন। এক পরিবার থেকে এখন বগালেকে ৩০ বম পরিবারের অবস্থান। সি আম বম এর রয়েছে একটি কটেজ, আর এই কটেজে তিনি অতিথিদের আপ্যায়ন করে মনের মাধুরীর সাথে। যেমন তার কথার বচন, তেমনি সুস্বাদু তার হাতের রান্না।
ঢাকা থেকে বগালেকে বেড়াতে আসা মো: জাহিদ আহসান বলেন, বান্দরবানের রুমা উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর বগালেক। এই লেক শুুধু একটি লেকই নয় এটি যেন একটি শিক্ষা। পাহাড়ের দীর্ঘ দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পর্যটকদের এই লেকে আসতে হয়, আর এই লেকের পরম বাতাসে মন জুড়িয়ে যায় সকলের।
সিলেট থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক তামান্না জানান, বগালেক খুবই সুন্দর একটি পর্যটন স্পট। আর এর আশে পাশের এলাকাগুলো আরো সুন্দর। বিশেষ করে বম সম্প্রদায়ের জনসাধারণ অত্যান্ত পরিস্কার। এইখানে বসবাসরত প্রায় প্রতিটি পরিবারে রাতে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে আর রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। পর্যটক তামান্না আরো জানান, বগা লেকের পাশে একটি সেনাবাহিনীর ক্যাম্প রয়েছে, আর সেনাবাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে। এই বগালেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যান্ত কষ্ট করে যাচ্ছে যাতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোন সমস্যা না হয়।
বগালেক সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মো: নজরুল। দীর্ঘদিন যাবত তিনি এই বগালেক ক্যাম্পের দায়িত্বে রয়েছে। কথা হয় ক্যাম্প কমান্ডার মো: নজরুলের সাথে, তিনি জানান, বগালেক একটি সুন্দর পর্যটন স্পট। এই লেক দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা হাজির হয়। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার পর্যটক বেশি অবস্থান করে। তিনি আরো জানান, বগালেককে ঘিরে আমাদের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি।

এই বিভাগের আরও খবর

  বান্দরবানে চার বিএনপি নেতা কারাগারে

  বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ছাত্রলীগ নেতা বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফে নিহত

  লামায় মাহিন্দ্র ও মোটর সাইকেলে সংঘর্ষ, আহত-২

  থানচিতে সড়ক দূর্ঘটনায় ২জন নিহত

  লামায় এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

  বছর পার হলেও সেতু নির্মানে নেই অগ্রগতি, মানুষের দূর্ভোগ

  সেতু ও স্থলবন্দর কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বানিজ্যিক সুবিধা বাড়বে-রিভা গাঙ্গুলী দাশ

  পার্বত্যাঞ্চলে দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে-মোঃ আরিফ আহমদ

  জুরাছড়িতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ উপলক্ষে তথ্য সংগ্রহকারী-সুপাভাইজারদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

  বরকলের প্রতিবন্ধী স্বপ্না খীষার আড়াই বছরেও জুটেনি প্রতিবন্ধীর ভাতা

  পাহাড়ে উন্নয়নের আলো পৌছে দিতে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার-জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা



 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন