সোমবার, ১৮ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮, ০৮:২১:২২

‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’

‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’

ডেস্ক রিপোর্টঃ-মাদকের বিস্তার এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, এখন এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই। শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। তার বিষাক্ত ছোবল শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও অমিত সম্ভাবনা। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের অবক্ষয়, প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির অসামঞ্জস্যতা, হতাশা এবং মূল্যবোধের অভাবের সুযোগ নিয়ে মাদক তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তরুণ সমাজের প্রতি। বেকারত্বও মাদকের বিস্তারে সহায়ক-এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা। এই মরণ নেশার বিস্তারে সমাজে একদিকে যেমন অপরাধ বাড়ছে, তেমনিভাবে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা। এই অবস্থা চলতে থাকলে একটি সমাজের অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আশার কথা যে প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে এবার নড়েচড়ে বসেছে। গত কয়েক দিনে এক হাজারেরও বেশি মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচ শতাধিক মামলা হয়েছে। মাদক বিক্রেতাদের ধরতে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধের মুখেও পড়তে হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে।
‘মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে মাদক সিন্ডিকেট যতই শক্তিশালী হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতারও কোনো বিকল্প নেই। সে কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’
নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভবান ব্যবসা। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহজলভ্য ও বহনযোগ্য বলে এর বিস্তার দেশজুড়ে। সত্যি বলতে কি দেশের এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মাদকের থাবা নেই। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষজন মাদককারবারের সাথে জড়িত। তারা বিভিন্ন কলাকৌশলের আশ্রয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। সত্যি বলতে কি দেশজুড়ে এক বিশাল জাল বিস্তার করে আছে এই মরণ নেশার ভয়াবহ সিন্ডিকেট। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র মাফিয়াদের সঙ্গে রয়েছে এদের শক্ত ও গভীর যোগাযোগ।
মাদকের রয়েছে বিভিন্ন রুট। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি। এর কিছু ধরা পড়ে। বাকিটা চলে যায় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে। রাজধানীতেও মাদকব্যবসা রমরমা। মাদকের জগতে এক সময় ‘হেরোইন’ নামক মরণ নেশা ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল। এ পদার্থটি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে নিঃশেষ করে অবধারিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এটি খুব দামি বলে পরবর্তী সময়ে এর স্থান দখল করে নেয় ফেনসিডিল ও ইয়াবা। বর্তমান নেশাসক্ত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ দুটি নেশাদ্রব্য বেশি জনপ্রিয়। একে ঘিরে দেশব্যাপী গড়ে উঠেছে বিশাল নেটওয়ার্ক। ফেনসিডিলের চেয়ে ইয়াবাই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকদ্রব্যের প্রাপ্তি সহজলভ্য যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো মূল্যে ঠেকাতে হবে মাদকের অনুপ্রবেশ। দেশেও যাতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন হতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে। দুঃখজনক হচ্ছে, মাঝে-মধ্যে ছোটখাট মাদক কারবারী ও মাদকের চালান ধরা পড়লেও তাদের মূল কুশীলবরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, সমাজের প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিবর্গ এসব সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকায় তাদের টিকিটি স্পর্শ করতে পারে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।
মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই। মাদকের সর্বনাশা দিক নিয়ে আমরা সম্পাদকীয় স্তম্ভে অনেকবারই লিখেছি। কিন্তু অবস্থার কোনো হেরফের হয়নি। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে মাদক সিন্ডিকেট যতই শক্তিশালী হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতারও কোনো বিকল্প নেই। সে কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। পবিত্র রমজানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নীতিনৈতিকতার উন্মেষ ঘটিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

এই বিভাগের আরও খবর

  বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এমএন লারমা গ্রুপের সাবেক এক সদস্য নিহত

  খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে জেএসএস কর্মী নিহত

  লামায় মার্মা কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা

  রাঙ্গামাটিতে ধর্মীয় ভাবগাম্বির্য্যের মধ্যে দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

  বিলাইছড়িতে বজ্রপাতে নিহত বর্ষা চাকমা’র পরিবারকে জেলা পরিষদের নগদ অর্থ প্রদান

  বরকলে বন্যা কবলিত এলাকায় জেলা পরিষদের নগদ অর্থ ও বস্ত্র বিতরণ

  রাঙ্গামাটির লংগদুতে ইউপিডিএফের দুই পক্ষের গুলি বিনিময়, নিহত-১, আহত-১

  লামার সরই খালের ব্রিজ ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

  বাঘাইছড়িতে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল, ১জনের মৃত্যু, ১৯ আশ্রয় কেন্দ্রে ৭৬৬টি পরিবার

  লংগদুতে পাহাড়ী ঢলের স্রোতে ডুবে ২জনের মৃত্যু

  ১ ঘন্টার বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল ২৪ লাখ টাকার রাস্তার কার্পেটিং !



 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন