বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন ,২০১৭

Bangla Version
SHARE

রবিবার, ১৮ জুন, ২০১৭, ১০:৩৩:৩৯

চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে করণীয়

চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে করণীয়

অনলাইন ডেস্ক: চিকুনগুনিয়া হচ্ছে মশাবাহিত একটি রোগ। এক ধরণের ভাইরাস দিয়ে এই রোগ হয়। আমাদের অতি পরিচিত ডেঙ্গু জ্বরের সাথে এই রোগের বেশ কিছুটা মিল রয়েছে। ডেঙ্গুর মতো এ ভাইরাসটিও এডিস ইজিপ্টাই এবং এডিস অ্যালবপ্টিকাস মশার কামড়ের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। চিকুনগুনিয়া ডেঙ্গুর মতই মানবদেহে থেকে মশা এবং মশা থেকে মানবদেহে ছড়িয়ে থাকে। চিকুনগুনিয়া মূলত: আফ্রিকান একটি রোগ।
 
তবে সম্প্রতিএটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু এটি নিয়ে আতঙ্ক বা উদ্বেগের তেমন কিছু নেই। এর কোন নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেলে এবং সঠিকভাবে বিশ্রাম নিলে এ রোগ ভালো হয়ে যায়।এই রোগের সুপ্তিকাল ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত।
 
চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলো
 
অন্যান্য সকল ভাইরাস জ্বরের মতোই। জ্বরের সাথে হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যথাই এই রোগের একমাত্র স্বতন্ত্র উপসর্গ। সাথে থাকে মাথা ব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া, বমি ভাব, বমি, শারীরিক দুর্বলতা, সর্দি-কাশি ইত্যাদি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে জ্বর সেরে যায়। তবে অস্থিসন্ধির ব্যথা মাসের পর মাস থাকতে পারে। ব্যথার তীব্রতাও প্রচণ্ড। ফলে রোগীর স্বাভাবিক হাঁটাচলা, হাত দিয়ে কিছু ধরা এমনকি হাত মুঠ করতেও বেশ কষ্ট হতে পারে। বর্তমানে চিকুনগুনিয়া অনেক দেখা যাচ্ছে। সুতরাং লক্ষণ দেখে সন্দেহ হলে ল্যাবটেস্ট করা উচিত। অসুস্থতার প্রথম ৫ দিনের মধ্যে পিসিআর টেস্ট করলে রোগ ধরা যায়। ভাইরাসের অ্যান্টিবডি দেখেও রোগ নির্ণয় করা যায়। তবে তার জন্য উপসর্গ সূচনা হওয়ার ৫ বা তার বেশি দিনের পরে সিরাম নমুনা সংগ্রহ করা উচিত। যদি প্রাথমিক ফলাফল নেতিবাচক হয় এবং ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া সন্দেহের সাথে থাকে, তবে অসুস্থতার পর সাত দিন বা তারও পরে আইজিএম অ্যান্টিবডি সনাক্ত করতে পুন:পরীক্ষা করা যেতে পারে।
 
অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতো চিকুনগুণিয়া রোগের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। এর চিকিৎসা মূলত রোগের উপসর্গগুলো কমানো। ধীরে ধীরে রোগটি ভাল হয়ে যায়। রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রচুর পানি এবং অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার খেতে দিতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধই যথেষ্ট। রোগীকে আবার যেন মশা না কামড়ায় এ জন্য তাকে মশারির ভেতরে রাখা উচিত। কারণ আক্রান্ত রোগীকে মশা কামড় দিয়ে কোন সুস্থ লোককে সেই মশা কামড়ালে ওই ব্যক্তিও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
 
এই রোগ প্রতিরোধে কোন টিকা বা ভ্যাক্সিন নেই। সুতরাং ব্যক্তিগত সচেতনতাই চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ ভূমিকা রাখতে পারে। মশা কামড় থেকে বেঁচে থাকাই চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়। শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢাকা রাখা (ফুল হাতা শার্ট এবং ফুল প্যান্ট পরা), জানালায় নেট লাগানো, প্রয়োজন ছাড়া দরজা-জানালা খোলা না রাখা, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং শরীরে মশা প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করার মাধ্যমে মশার কামড় থেকে বাঁচা যায়।
 
মশার জন্মস্থান ধ্বংস করতে হবে। আবাসস্থল ও এর আশপাশে মশার প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট করতে হবে। বাসার আশপাশে ফেলে রাখা মাটির পাত্র, কলশী, বালতি, ড্রাম, ডাবের খোসাসহ যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে, সেখানে এডিস মশা প্রজনন করতে পারে। এসব স্থানে যেন পানি জমতে না পারে সে ব্যাপারে লক্ষ রাখতে হবে এবং নিয়মিত বাড়ির আশ-পাশে পরিষ্কার রাখতেই হবে। তাহলেই কেবল চিকুনগুনিয়ার হাত থেকে আমরা সকলেই নিরাপদ থাকতে পারবো।
 
ডা.মো.ফজলুল কবির পাভেল
 
রেজিস্টার (মেডিসিন)
 
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

কিছু সহিংসতা ও অনিয়ম হলেও সামগ্রিকভাবে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?