সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯, ০৪:২০:৩২

পাহাড়ে বাবা-মার নিরব বোবা কান্না

পাহাড়ে বাবা-মার নিরব বোবা কান্না

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙ্গামাটিঃ-বাবা ক্ষেতে কাজ করে। শহরে তাঁর পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা দামি দামি রেস্টুরেন্টে গিয়ে মজা নেয়। অবাক চোখে দেখি পৃথিবী। কুল কিনারা নেই সে জীবনে। ছোট্ট একটা জমি। পাহাড়ে জুম চাষ করলেও আগের মত কোনো ফসল উৎপাদন হয় না। মাটি উর্বর না থাকাতে চাষাবাদে অনুপযোগী। সপ্তাহ চলে গেলে বাবা-মা চিন্তায় থাকে বাজারে কি নিয়ে যাবে! বিক্রি করার মত নেই কোনো সবজি, নেই কোনো মালামাল। চিন্তিত বাবা-মা। মাস শেষ হয়ে আসছে। শহরে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের বাসা ভাড়ার টাকা, হাত খরচের টাকা, লবন, মরিচ, নাপ্পি, তেল, কেনার খরচ কোথা থেকে পাঠাবে! এদিকে ঘরে চেরাকের কেরোসিন শেষ হয়ে এসেছে। বাড়িতে মরিচ আর এক কেজি মত চাউল আছে মাত্র।
বাড়িতে তরি তরকারি, নাপ্পি,কেরোসিন,চাউল আনবে নাকি শহরে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের খরচের টাকা পাঠাবে এ নিয়ে ক্ষেতের মাঝখানে বসে বাবা কপালে হাত দিয়ে চিন্তায় মগ্ন।
এদিকে বাবার সেই গুণবতী মেয়ে চিন্তিতো। তার চিন্তা বিকালে কোন একটি রেস্টুরেন্টে যাবে। বন্ধু,বান্ধবীদের, প্রেমিকের সাথে রেস্টুরেন্টে যাবে এ চিন্তায় ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। বাবা ক্ষেত্রের মাঝখানে বসে কপালে হাত দিয়ে বসে আছেন সেই ভাবনা নেই সন্তানদের।
এদিকে গুণবতী কন্যা বাবাকে বলছে টাকা পাঠাতে। কলেজের ফরম Fill up করতে হবে। অথচ কলেজে ফরম Fill up করতে হয় মাত্র একবার। গুণবতী মেয়ে দাবি করে বছরে চার বার। যাইহোক, রেস্টুরেন্টে তো যেতে হবে। নতুন জামা কিনতে হবে। বাবা টাকা পাঠাতে না পারলেও চিন্তা নেই। ফেইসবুকে কাউকে না কাউকে বোকা বানিয়ে ২০০০/- -৩০০০/- চাইতে হবে। বলছে, আমি এ সপ্তাহে দিয়ে দিব। প্রতিদিন ধনী ছেলেদের থেকে টাকা আদায় করে নিচ্ছে গুণবতী মেয়ে। রাস্তায়,রেস্টুরেন্টে ঘুরছে ধনী পরিবারের আদরের মেয়ের মতন। স্টাইলিশ জামা। দেখলে মনে হয় না তার বাবা ক্ষেতে কাজ করে তাকে খরচ চালাচ্ছে। তাদের নিত্য নতুন জামা যেন আকাশ থেকে চলে আসে।
অন্যদিকে গুণধর ছেলে তার বাবা-মার কষ্টের কথা ভাবে না। কিভাবে টাকা পাঠাচ্ছে তার খবর রাখে না। ফেইসবুকে নিত্য নতুন প্রেমিকাদের চ্যাটিং করতে করতে শেষ পর্যন্ত চলে যায় নামি-দামি রেস্টুরেন্টু। বিল আছে ১০০০/-, শুরু করে ২০০০/- টাকা। মেয়েদের সামনে বলছে এগুলো কিছু না। শেষ পর্যন্ত গুণবতী মেয়ের দাবিতে দিয়ে দিল ৩০০০/- টাকা। সামনে সপ্তাহে পাবে বলে।কিন্ত তা পাওয়া হল না। বাড়িতে গিয়েই ফেইসবুকে আর মোবাইলে নাম্বার ব্লক করে দিল গুণবতী মেয়ে। গুণধর ছেলে বাবাকে বলছে সেমিস্টার ফি দিতে হবে। বাবা কোথা থেকে পাবে এত টাকা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রতিবেশীদের থেকে টাকা ধার চেয়ে ভিক্ষার ন্যায় আকুতি মিনতি করে কিছু টাকা জোগাড় করেন। বাড়িতে নেই লবন, তেল, তরকারি।
বাড়িতে বউ বসে আছে গুণধর ছেলের বাবা বাড়িতে ফিরলেই চুলাতে আগুন দিবে। রান্না করবে। অনেক মাস হলো চুলাতে মুরগির মাংস রান্না হচ্ছে না। কবে যে মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খেতে পাব। আহ্ কত মজা হবে। স্বপ্ন বুনছেন মা।
অন্যদিকে দামি দামি রেস্টুরেন্টে সেলফি মেরে গুণধর ছেলে আর গুণবতী মেয়ে খাচ্ছে "চিকেন" খাচ্ছে পোলাও আর বিরিয়ানি। নায়িকর মত ছবি দিচ্ছে ফেইসবুকে। গুণধর ছেলে খাচ্ছে "মদের খাজি"...।
বাবা চিন্তায় পথ চেয়ে বসে আছেন। গুণধর ছেলেটা/গুণবতী মেয়ে কবে খুশির সংবাদ নিয়ে বাড়িতে ফিরবে। পাস করে গ্রামে গ্রামে মাথা উঁচু করে সবাইকে বলবে "আমার ছেলে পাস করেছে" কিন্তু সে সুখবর কখনো আসে না। রাত জেগে জেগে ফেইসবুকে সুন্দরীদের সাথে/ ধনী পরিবারের ছেলেদের সাথে চ্যাটিং করে সকালে পরীক্ষা দিতে যায় চোখ মুঁছে মুঁছে। ফেল করে বসে গুণধর ও গুণবতীরা। বাবা মার কাছে খবর পৌঁছে, ফেল করা তিন/চার বিষয়ে জরিমানা না দিলে গুণধর/গুণবতীরা পরীক্ষা দিতে পারবে না। বাবার নিরব বোবা কান্না কে বা বোঝে...!
এই তো আমরা কত সুখে আছি। বোঝা যায় না আমার বাবা-মা ক্ষেতে কাজ করে আমাকে পড়া-লেখার খরচ পাঠায়। মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি। পার্বত্য চট্টগ্রামের আধিবাসী ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যত কি হতে পারে....? [ কারো জীবনের সাথে মিল থাকলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত...কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখাটি লেখা হয়নি ]

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারের অনেক মন্ত্রী দুদকে হাজিরা দিচ্ছেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জেলে আছেন। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?