মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৯, ০৮:৩৫:১৫

"আলবিদা" লিখে প্রেমের সমাধি রচনা করলো দুই ধর্মের প্রেমিক যুগল

ইশতিয়াক কামাল মুন্নাঃ-প্রায় দুই বছর আগে পরিচয় হয় দুই তরুণ-তরুণীর। এরপর মাঝে মাঝে আলাপ। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় ভালোবাসায়। কিন্তু সেই ভালোবাসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের ধর্ম। তাই "আলবিদা" লিখে প্রেমের সমাধি রচনা করলো দুই ধর্মের প্রেমিক যুগল।
ছেলেটি ছিল হিন্দু আর মেয়েটি মুসলিম পরিবারের তাই তাদের সম্পর্ক পরিবার, সমাজ কেউই মেনে নিতে চায়নি। এ অবস্থায় দুজনে একই সঙ্গে বিদায় জানিয়েছেন এই পৃথিবীকে। পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে। এমন এক ঘটনা পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ থেকে এই তরুণ প্রেমিক যুগলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সকালে স্থানীয়রা রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সড়কের বরগাং এলাকায় হ্রদের পানিতে দুটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে প্রথমে মেয়েটির এবং পরে ছেলেটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই মৃত দুই অন্ধ প্রেমিক-প্রেমিকা হলেন, রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ছোটন দেওয়ানজির ছেলে প্রান্ত দেওয়ানজি হিমেল (১৮) এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক এলাকার শহীদ তালুকদারের মেয়ে তাহফিমা খানম তিন্নি (১৮)।
প্রান্ত ক্যামব্রিয়ান কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষ এবং তাহমিনা রাঙ্গামাটি লেকার্স পাবিলক স্কুল অ্যান্ড কলেজে একই বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
তাদের বন্ধুরা জানিয়েছে, তারা একে অন্যকে অনেক বেশি ভালবাসতো। কিন্তু তাদের সম্পর্ক সমাজ ও পরিবার মেনে নেবে না বলায় এমন হৃদয় বিদারক কাজ করেছে। বন্ধুরা তাদের বুঝানোর অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা যে এমন কান্ড করবে বুঝতে পরেনি।
রাঙ্গামাটির কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন, ‘ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছে। প্রেমের কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। দুইজন দুই ধর্মের হওয়ায় প্রেমে সফলতার কোনো সম্ভাবনা নেই দেখে আবেগে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই বিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হবে।’
প্রান্তের বাবা ছোটন দেওয়ানজী জানান, ‘তারা দু’জন প্রেমের কারণে আত্মহত্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা আসলে কিছুই জানতাম না। ভেবেছিলাম কোনো কারণে ছেলে নিখোঁজ হয়েছে। কিন্তু কেনো এটা করলো বুঝতে পারছি না।’
অন্যদিকে মেয়েটি তার যে স্বজনের বাসায় থেকে পড়াশুনা করতো সেই নুরুল আলম মিয়া জানান, ‘আমরা আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না। সে আমার বাসায় থেকে পড়াশুনা করতো। কিন্তু কিসের মধ্যে কী হলো কিছুই বুঝতে পারছি না।’
ভালোবাসার টানে ধর্মের বিভেদের কারনে দুইজনের এমন মৃত্যুকে তাদের নিজেদের পরিবার ও রাঙ্গামাটি মেনে নিতে পারছে না।
পরিশেষে বলা যায়, এরই নাম প্রেম, এরই নাম ভালোবাসা সম্প্রদায় সম্প্রীতি যে অটুট সেটা তারা নিজেদের আত্মহত্যার মাধ্যমে জানিয়ে দিল। হিন্দু যুবক প্রান্ত ও মুসলিম যুবতী তিন্নি তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুকে "আলবিদা" লিখে প্রেমের সমাধি রচনা করলো। প্রতিটা পিতা মাতার প্রতি আকুল আবেদন দয়া করে আপনারা আপনাদের সন্তানদের চাহিদাকে মূল্যায়ন করবেন, যেন আর কোন সন্তান এভাবে অকালে হারিয়ে না যায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?