মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ০১:০৬:১৭

সম্পর্কে পরস্পরকে না ঠকিয়ে বুঝতে শিখুন

সম্পর্কে পরস্পরকে না ঠকিয়ে বুঝতে শিখুন

ডেস্ক রিপোর্টঃ-সম্পর্কের মধ্যে আজকাল সঙ্গীকে ঠকানোর প্রবণতাটা বেড়েছে। দেখা যায় সঙ্গীকে প্রচুর ভালোবেসেও প্রতিনিয়ত ঠকিয়ে যাচ্ছে। এটা কেউ ইচ্ছা করে ঠকায় কেউবা কোনো সম্পর্ক জড়িয় গিয়ে ঠকায়। যায় হোক না কেনো প্রয়োজন হলে সঙ্গীকে ছেড়ে যাওয়া ভালো তবুও ঠকানো উচিত নয়। সম্ভব হলে সঙ্গীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা উচিত। যে সব কারণে মূলত পরস্পরকে ঠকায়।
একটা সম্পর্কে পরস্পরকে যে কারণ ঠকানো হয়ঃ
১. কম বয়সে যে সব প্রেম শুরু হয়, পরিণত হওয়ার পর মনে হতে থাকে হয়তো বা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সঙ্গীর হয়তো কাঙ্খিত মনের মানুষ নয়। এমন ভাবনা চিন্তা জন্ম নিলে মানুষের মধ্যে ঠকানোর প্রবণতা দেখা দেয়।
২. কতজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো গেল- লোক দেখানোর এই প্রবণতা থেকেও সম্পর্কে ঠকানোর  ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
সিনেমা-সিরিয়াল কিংবা গল্প-উপন্যাস থেকে বা আশপাশে কোনও পরিচিত মানুষদের দেখে বিভিন্ন মানুষের মনে ভালোবাসার একটা নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি হয়।
৩. সঙ্গীর তুলনায় এই ধারণাকেই তারা বেশি ভালোবাসে। আর যখনই বাস্তবের সঙ্গে তাদের ধারণার বিভেদ দেখা দেয় তখনই তারা তাদের কাঙ্খিত ভালোবাসার খোঁজে নিজের সঙ্গীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
৪. অনেকেরই সঙ্গীর থেকে অনেক বেশি চাহিদা থাকে। সম্পর্কে সমতার পরিবর্তে তারা মনে করে সঙ্গী ঈশ্বর জ্ঞানে তাকে পুজো করবে। কিন্তু বাস্তবে যখন তা হয় না, তখনই সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং ঠকানোর প্রবণতা দেখা যায়।
৫. অনেকেই সম্পত্তির লোভে কাউকে স্বামী বা স্ত্রী হিসাবে বেছে নেয়। একদিকে সঙ্গীর সম্পত্তিতে আয়েশ করে আর অন্যদিকে তাকে ঠকিয়ে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখে।
৬. যৌনতাপ্রেমী মানুষরা তাদের সঙ্গীর থেকে সন্তুষ্ট না হলে আরও ভালো যৌনতার আকর্ষণে সঙ্গীকে ঠকানো শুরু করে এবং তার অগোচরে এক বা একাধিক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে।
৭. কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার বিভিন্ন মানুষ মদ ও মাদকাসক্তির ফলে বিভিন্ন পার্টিতে গিয়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে নিজের সঙ্গীকে ঠকানোর ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়।
৮. কিছু কিছু ক্ষেত্রে 'লং ডিস্টেন্স' সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের সঙ্গীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেখা যায়।
৯. আবার কোনও সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও মানুষ মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতিত হলে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে মুক্তির উপায় খুঁজে নেয়।
১০. বিয়ের বহু বছর পর যখন সম্পর্কের মিষ্টতা হারিয়ে যায় তখন অনেক সময় মানুষ তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে মানসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করে।
১১. অনেকেই আবার পরিবারের চাপে তাদের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে পারে না। তখন পরিবারের পছন্দে বিয়ে করার পরে সঙ্গীকে ঠকিয়ে সমান্তরাল ভাবেই নিজের পছন্দে অন্য সম্পর্ক চালিয়ে যায়।
১২. স্বামীর বন্ধু বা বন্ধুর স্ত্রীয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বহু উদাহরণ আমরা যুগে যুগে পেয়েছি।
১৩. যেসব শিশুরা মা বাবার বিচ্ছেদ দেখে বড় হয় তারা অনেক সময়ই বিশ্বাসঘাতকতাকে অন্যায় মনে করে না। তারা মনে করে ঠকানো সাধারণ ব্যাপার ফলত তারা নিজেরাও সঙ্গীকে ঠকায়।
১৪. ছোটবেলায় খেলার সঙ্গীকে বড় হওয়ার পর অনেক সময় যেমন পছন্দ হয় না, তেমনই স্বামী বা স্ত্রীয়ের সঙ্গে মতের মিল না হলে তখন তাকে ঠকিয়ে অন্য সঙ্গী খুঁজে নিতে চায় মানুষ।
না ঠকিয়ে কথা বলে সমস্যার মীমাংসা করুন। যতই সমস্যা হোক, একে অপরের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের সমস্যার কথা জানান, পরস্পরকে বুঝতে শিখুন। কোনও মানুষই নিখুঁত নয়।  পরস্পরের দোষ গুণ মেনে পরস্পরকে ভালোবাসুন। ভালো থাকুন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিদায়ী সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে সরকার গঠন ‘স্বাভাবিক হয়নি’ মন্তব্য করে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘অস্বাভাবিক’ নির্বাচনের পর এই ‘অস্বাভাবিক’ সরকার বেশি দিন টিকবে না। আপনি কি তা মনে করেন?