সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ০৮:৫২:৫৯

প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রত্যাবাসন শুরু হলো নাঃ রোহিঙ্গারা যায়নি দাবিতে অনড়

প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রত্যাবাসন শুরু হলো নাঃ রোহিঙ্গারা যায়নি দাবিতে অনড়

কক্সবাজারঃ-ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত এ দফায়ও ব্যর্থ হয়েছে প্রত্যাবাসন শুরুর কর্মসূচি। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বসতভিটাসহ সম্পদ ফেরত ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না বলে আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, সব আয়োজন থাকলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হচ্ছে না। কোনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজি নয়। যারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি হবে, শুধু তাদেরই ফেরত পাঠানো হবে। জোর করে কাউকে পাঠানো হবে না। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণেই ভেস্তে গিয়েছিল।
সপ্তাহখানেক আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, এ দফায় বৃহস্পতিবার থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। সেই মোতাবেক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ আগষ্ট) সকাল থেকে টেকনাফের নোয়াপাড়ার ২৬ নম্বর ক্যাম্পের কাছে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল তিনটি বাস ও দুটি ট্রাক। এসব বাস ও ট্রাকে করে প্রত্যাবাসনে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নেওয়ার কথা ছিল। প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ঘুমধুম সীমান্ত পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
অপরদিকে ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অভ্যর্থনা জানাতে সেদেশের কেন্দ্রীয় ও রাখাইন প্রাদেশিক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তাদের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, উন্নয়ন সংস্থা, রেড ক্রসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও ছিলেন।
তবে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা সেখানে আসেনি। আবার জোর করে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয়ে তালিকায় নাম থাকা টেকনাফের শালবন ক্যাম্পের বেশ কিছু পরিবার বাসায় তালা লাগিয়ে গা-ঢাকা দেয়।
প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম, ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের দুই জন প্রতিনিধি এবং মিয়ানমার দূতাবাসের এক জন প্রতিনিধি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। আবুল কালাম বলেন, প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য রোহিঙ্গাদের সীমান্তে পৌঁছে দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল, কিন্তু সেখানে কোনো রোহিঙ্গা আসেনি। এ পর্যন্ত ২৯৫টি পরিবারের সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে, যাদের কেউই মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। তবে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাস ও ট্রাকগুলো উপস্থিত থাকবে সেখানে। প্রত্যাবাসনে আগ্রহী কোনো রোহিঙ্গা এলেই তাদের সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আরো জানান, প্রত্যাবাসনের তালিকায় মোট ১ হাজার ৩৭টি পরিবার রয়েছে। তাদের মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এর ফলে খতিয়ে দেখা হবে যে, তাদের মধ্যে কেউ ফিরে যেতে রাজি হয় কি না। তবে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না বলেও জানান তিনি। চীনের প্রতিনিধি ঝেং তিয়ানঝু বলেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতার দায়িত্ব চীন নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মিয়ানমারের কূটনীতিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, রোহিঙ্গারা কেন নিজ দেশে ফিরতে চায় না? কেন তারা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না? তবে এসব প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দেননি। সংবাদ সম্মেলনের পর স্থানীয় লোকজনকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেলেও ঐ এলাকার রোহিঙ্গা নেতা ও কতিপয় এনজিওগুর মধ্যে কিছুটা স্বস্তির আভাস পাওয়া গেছে। গত দুই দিন ধরে ফিরে না যাওয়ার জন্য বিক্ষোভ করছিল রোহিঙ্গারা।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের মতো রোহিঙ্গা রয়েছে, যার বেশিরভাগই বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যায়নি। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময়ও নানা শর্ত দিয়ে যেতে রাজি হয়নি রোহিঙ্গারা।

এই বিভাগের আরও খবর

  টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা ডাকাত দম্পতি নিহত

  ২ লাখ ইয়াবাসহ ৮ মিয়ানমার নাগিরক আটক, ট্রলার জব্দ

  টেকনাফে বন্দুক যুদ্ধে দুই রোহিঙ্গাসহ তিন সন্ত্রাসী নিহত

  চীনা প্রতিনিধি দলের তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শনঃ মিয়ানমারে ফিরতে নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার দাবি রোহিঙ্গাদের

  মিয়ানমারের সিমে ইন্টারনেট চালাচ্ছে রোহিঙ্গারা

  টেকনাফে প্রবল বর্ষনে পাহাড় ধ্বস ও পানির স্রোতে তিন ’শিশু’র মৃত্যুঃ আহত-১০

  টেকনাফে ১৯ মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

  উখিয়ায় শেড এনজিওর গুদামে বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র

  রোহিঙ্গা মহাসমাবেশে অর্থ সহায়তাঃ দুই এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ

  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা কুখ্যাত সন্ত্রাসী নূর মোহাম্মদ নিহত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারের অনেক মন্ত্রী দুদকে হাজিরা দিচ্ছেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জেলে আছেন। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত?