মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৯, ০৭:২২:০৪

টেকনাফে পুলিশ-বিজিবির পৃথক বন্দুক যুদ্ধে সাইফুলসহ নিহত-২, ৯টি অস্ত্র, ৪২ কার্তুজ ও ৩৩ খোসা উদ্ধার

টেকনাফে পুলিশ-বিজিবির পৃথক বন্দুক যুদ্ধে সাইফুলসহ নিহত-২, ৯টি অস্ত্র, ৪২ কার্তুজ ও ৩৩ খোসা উদ্ধার

মুহাম্মদ জুবাইর, টেকনাফঃ-ইয়াবা জগতের কিং অবদ্যাম্যান টেকনাফের হাজী সাইফুল করিম অবশেষে পুলিশের বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। একযুগের মধ্যে কোটিপতি বনে যান এ ইয়াবা ডন। অবশেষে বন্দুকযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইয়াবা জগতের অধিপতি সাইফুল করিমের ইয়াবা সাম্রাজ্যের অবসান হলো। বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর করা তালিকায় ‘দেশের ১ নম্বর মাদক চোরাকারবারি’ সাইফুল করিম বৃহস্পতিবার পুলিশের হাতে আটক হয়।  
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। নিহত সাইফুল করিম (৪৫) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের শিলবুনিয়া পাড়ার ডা. মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। পুলিশ বলছে,স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর করা মাদক চোরাকারবারির তালিকায় সাইফুলের নাম ছিল ১ নম্বরে। তিনিই  ১৯৯৭ সালে ইয়াবার প্রথম চালান দেশে এনেছিলেন। স্থানীয়ভাবে তাকে বলা হত ‘ইয়াবার গড ফাদার’।  
এ দিকে স্থানীয়দের মতে, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিলবনিয়াপাড়া গ্রামের ডা. হানিফের ছেলে সাইফুল করিম মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই ব্যবসা ক্ষেত্রে সফল হন। ২০১৭ সালে খেতাব পান ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) পদবী। মাত্র এক যুগের ব্যবধানে সিআইপি শিল্পপতি সাইফুল এখন শত কোটি টাকার মালিক।
জানা গেছে, কক্সবাজারের ব্যয়বহুল এলাকা কলাতলী পয়েন্টে হোটেলও নির্মাণ করেছেন তিনি। রয়েছে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বিস্তৃত তার ব্যবসা। টেকনাফের বাসিন্দা হলেও থাকতেন চট্টগ্রামে। ‘এস.কে. ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তিনি। গার্মেন্ট, আমদানি-রপ্তানি, কার্গো ও জাহাজের ব্যবসা রয়েছে তার। চট্টগ্রাম শহরের কাজীর দেউড়ি ভিআইপি টাওয়ারে রয়েছে তার একাধিক অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানানো হয়, মিয়ানমারের মংডুর প্রস্তুকারীদের কাছ থেকে দেশে সরাসরি ইয়াবার চালান নিয়ে আসা এবং চট্টগ্রামে নিয়ে পাচার করার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে সাইফুলের। যে কারণে তাকে আন্তর্জাতিক ইয়াবা কারবারিও বলা হয়।অপর দিকে গত বছরের ২৩ অক্টোবর টেকনাফে ইয়াবাবিরোধী শক্ত অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেই অভিযানে হাজী সাইফুল করিমের রম্য অট্টালিকাসহ ইয়াবা কারবারিদের সুরম্য অট্টালিকাগুলোতে (ইয়াবা বাড়ি হিসাবে পরিচিত) আঘাত হানা শুরু করে। সে সময় পুলিশ দুইদিনে টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা ডন খ্যাত সাইফুল করিমের বাড়িসহ তিনজন ইয়াবা কারবারির অট্টালিকা বুলডোজার দিয়ে আংশিক ভেঙ্গে দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে সাইফুল করিম একটি আড়তে স্বল্প বেতনে কাজ করতেন। টেকনাফ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনের সাতটি মামলার পলাতক আসামি সাইফুলকে দীর্ঘদিন ধরে ‘খোঁজা হচ্ছিল’ বলে পুলিশের ভাষ্য। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজারে যে ১০২ জন মাদক চোরাকারবারি আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তাদের মত সাইফুলও আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে এক দিন আগে সংবাদপত্রে খবর আসে। টেকনাফের ওসি প্রদীপ বলেন, ‘ইয়াবা গডফাদার’ সাইফুল টেকনাফ সদরে অবস্থান করছেন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে থানায় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। “জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করে যে, কয়েক দিন আগে নাফ নদী দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান সে এনেছে। টেকনাফ স্থলবন্দরের নাফ নদী লাগোয়া সীমানা প্রাচীরের শেষ প্রান্তেলুকিয়ে রাখা হয়েছে ইয়াবার ওই চালান।” ওসির ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে ওই তথ্য পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাইফুলকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের একটি দল টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন ওই এলাকায় ইয়াবা উদ্ধারে অভিযানে যায়। “তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্র সাইফুলের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। পুলিশও তখন আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পুলিশ গুলি ছোড়া বন্ধ করে। “এ সুযোগে সাইফুলের সহযোগী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। এরমধ্যে কোনো এক সময় সাইফুল গুলিবিদ্ধ হয়।” গুলিবিদ্ধ সাইফুলকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পারমর্শ দেন। পরে কক্সবাজারে পৌঁছালে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি প্রদীপ। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে তল্লাাশি চালিয়ে নয়টি বন্দুক, ৪২টি গুলি এবং ১ লাখ ইয়াবা পেয়েছে পুলিশ। এ অভিযানে আহত পুলিশের এসআই রাসেল আহমেদ, কনস্টেবল ইমাম হোসেন ও কনস্টেবল মো. সোলেমানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া টেকনাফ ২বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল ফয়সল হাসান খান জানান,টেকনাফস্থ গফুরের প্রজেক্ট এলাকা দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন সংবাদে বৃহষ্পতিবার রাতে টেকনাফ বিওপির একটি বিশেষ টহলদল গফুর প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়।টহলদল দূর থেকে কয়েকজন লোককে হস্তচালিত নৌকা নিয়ে নাফনদী পার হয়ে নৌকাটি আসতে দেখে টহলদল চ্যালেঞ্জ করলে বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক চোরাকারবারিরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।আত্মরক্ষার্থে বিজিবি পাল্টা গুলি চালায়।উভয় পক্ষের মধ্যে ৮-১০মিনিট গুলি বিনিময় চলে।এক পর্যায়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাঁদার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে।পরে নৌকাটি তল্লাশি করে ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১টি লোহার ধারালো কিরিচ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুপুর ২টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিচয় সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এসময় বিজিবি ল্যাঃ নঃ মোঃজহিরুল ইসলাম ও সিপাহি জাব্বিরুল নামে দুইজন আহত হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এঘটনায় মামলা প্রস্তুতি চলছে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

  মিয়ানমারের সিমে ইন্টারনেট চালাচ্ছে রোহিঙ্গারা

  টেকনাফে প্রবল বর্ষনে পাহাড় ধ্বস ও পানির স্রোতে তিন ’শিশু’র মৃত্যুঃ আহত-১০

  টেকনাফে ১৯ মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

  উখিয়ায় শেড এনজিওর গুদামে বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র

  রোহিঙ্গা মহাসমাবেশে অর্থ সহায়তাঃ দুই এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ

  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা কুখ্যাত সন্ত্রাসী নূর মোহাম্মদ নিহত

  কক্সবাজারে অস্ত্রসহ ডাকাত সন্দেহে দুই যুবক গ্রেফতার

  কক্সবাজারে এনজিও মুক্তি এর ৬ প্রকল্প স্থগিত করলো এনজিও ব্যুরো

  টেকনাফে চোরাগুপ্তা হামলায় দিনমজুরকে হত্যা

  পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া নৌকায় মিললো তিন লাখ ষাট হাজার ইয়াবা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?