শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৮:৪৪:৫৭

উখিয়ায় দেড় লাখ রোহিঙ্গার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ

উখিয়ায় দেড় লাখ রোহিঙ্গার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ

কক্সবাজারঃ-মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরকার ও অন্যান্য সংস্থার জন্য বরাবরের মতোই একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিষয়টিকে মাথায় রেখে ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা অক্সফাম একটি সুরক্ষিত পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট নির্মাণ করেছে। প্রথমবারের মত নির্মিত এই প্ল্যান্টটি পৃথিবীর যে কোনো শরণার্থী শিবিরের মধ্যে সর্ববৃহৎ বলে দাবি সংস্থাটির।
অক্সফাম সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার কুতুপালংস্থ ক্যাম্প ৪ (বর্ধিত) এলাকায় বিশাল জায়গার উপর এই প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়েছে।
ক্যাম্প-৩, ক্যাম্প-৪ ও ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত) এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে এই প্ল্যান্টটিতে। প্রতিদিন ৪০ ঘণমিটার বর্জ্য হিসেবে সর্বোচ্চ দেড় লাখ মানুষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা যাবে এই প্ল্যান্টেটিতে। অনবরত ২০ বছর প্ল্যান্টটি ব্যবহার করা যাবে।
অক্সফামের মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কো-অর্ডিনেটর এ জে এম জোবায়দুর রহমানের সোয়েব সিভয়েসকে জানিয়েছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে স্থাপিত প্ল্যান্টটি মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ এনামুর রহমান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রধান স্টিভেন কর্লিসের।
পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জোবায়দুর রহমান সোয়েব জানান, পয়ঃবর্জ্যগুলো সংগ্রহ করার জন্য বিশেষায়িত ট্রাক আছে। সেই ট্রাকে পাম্প ও ট্যাঙ্ক রয়েছে। ট্রাক নিয়ে ক্যাম্পের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে পয়ঃবর্জ্যগুলো সংগ্রহ করা হবে। পরে প্ল্যান্টের লেগুনের মধ্যে বর্জ্যগুলো ফেলা হবে। পয়ঃবর্জ্যের দুটি ধরণ রয়েছে। একটি শক্ত ও অপরটি লিকুইড। শক্ত শ্রেণির পয়ঃবর্জ্য থাকে ৩০ শতাংশ। আর লিকুইড শ্রেণির পয়ঃবর্জ্য থাকে ৭০ শতাংশ।
প্ল্যান্টের লেগুনে ফেলার পর এই দুটি শ্রেণির বর্জ্য আলাদা করা হবে। এরমধ্যে শক্ত শ্রেণির বর্জ্যগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে এক ধরনের ফিল্টার করা হয়। শক্ত শ্রেণির বর্জ্য থেকে উৎপাদিত হবে বায়ু গ্যাস ও জৈব সার। আর লিকুইড শ্রেণির বর্জ্য কয়েক স্তরে পরিশোধিত হবে। পরিশোধিত করে যত ধরনের ক্ষতিকারক জীবানু আছে সেগুলো ধ্বংস করা হবে। এরপর সেগুলো পানি আকারে হয়ে বের হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, এই একটি মাত্র প্ল্যান্টে সবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব নয়। আরও কয়েকটি প্ল্যান্ট দরকার। তবে সরকারের উচিত একটি গবেষণা চালানো। গবেষণার মাধ্যমে প্রতিটি ক্যাম্পভিত্তিক কি পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয় তার পরিসংখ্যান বের করা যাবে। এই পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে পুরো ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কতটা প্ল্যান্ট দরকার তার হিসাব পাওয়া যাবে।
পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা দীপক শর্মা দীপু বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থাপিত টয়লেটগুলো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এসব টয়লেটের দুর্গন্ধে পুরো ক্যাম্প বিষিয়ে উঠে। উখিয়া-টেকনাফে মারাত্মক বায়ু দূষণ হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে রোহিঙ্গাদের সৃষ্ট বর্জ্যগুলো আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির পানিতে সেগুলো নদী-খাল, বিল ও সমুদ্রে পতিত হয়। এর ফলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হচ্ছে। এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের উপায় বের করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, অক্সফামের উদ্যোগটি ভাল। কিন্তু শুধু দেড় লাখ নয় সকল রোহিঙ্গাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যতটি প্ল্যান্ট দরকার সেগুলো স্থাপন করে দূষণ রোধ করতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট মো. কামরুল হাসান বলেন, পুরো ক্যাম্পের মানবসৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা দরকার। এসব বর্জ্যের কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। 

এই বিভাগের আরও খবর

  ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু

  টেকনাফে পুলিশের গুলিতে মাদক কারবারী নিহত, তিন পুলিশ আহত

  টেকনাফে চিকিৎসকসহ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত-৮

  টেকনাফে রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিমের ভাই ও স্ত্রীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

  টেকনাফে গবাদি পশুর হাটঃ মিয়ানমারের গবাদি পশু’র সয়লাব

  টেকনাফ বিজিবির সাথে মাদককাবারীর গুলাগুলিঃ রোহিঙ্গাসহ নিহত-২,আহত-৪

  টেকনাফে পুলিশ-ডাকাত বন্দুকযুদ্ধ নিহত-৪, অস্ত্রসহ আটক-২

  ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে টেকনাফ ব্যবসায়ীর মৃত্যু

  টেকনাফ সাগর উপকুলে গুলাগুলিতে নিহত-১, আহত-২, অস্ত্র, ইয়াবাও অটোরিকসা জব্দ

  টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

  রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?