সোমবার, ২১ জানুয়ারী ,২০১৯

Bangla Version
SHARE

বৃহস্পতিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, ০৭:০৭:৫৯

টেকনাফ উপকূলে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবি ৩ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ-১

টেকনাফ উপকূলে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবি ৩ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ-১

মুহাম্মদ জুবাইর, টেকনাফঃ-সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনে স্বদেশ মিয়ানমার ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে ফিশিং বোটে করে আরো তিন শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বঙ্গোপসাগর হয়ে টেকনাফ উপকূল দিয়ে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গারা তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে নৌকা ডুবির ঘটনায় তিন রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু ঘটেছে এবং এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে। নিহত শিশুদের স্থানীয়ভাবে দাফন করা হয়েছে। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গারা বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সাবরাং মুন্ডার ডেইল সৈকত উপকূল পয়েন্ট দিয়ে এপারে ঢুকে। প্রচন্ড কুয়াশায় কুলে ভিড়ার সময় বোট ডুবে গিয়ে তিন রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু ঘটে এবং অপর এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে। তারা মিয়ানমারের বুছিডং থানার ওলাফে গ্রামের বাসিন্দা। নিহতরা হচ্ছে আবদুল হাইয়ের পুত্র আবদুন নবী (৯ মাস), মোঃ ইয়াছিনের মেয়ে উম্মে সালমা (৪ বছর), আবদুল আজিজের পুত্র মোঃ আয়ুব (৭ মাস) ও নিখোঁজ শিশুর পরিচয় পাওয়া যায়নি। খুরেরমুখ বিওপির বিজিবি কমান্ডার সাইফুল জানান, পালিয়ে আসা ৫১ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাঈন উদ্দিন খাঁন নৌকা ডুবির ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগীতায় নিহত শিশুদের স্থানীয়ভাবে খুরেরমুখ কবস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে টেকনাফ সদরের মিঠাপানিরছড়া সৈকত পয়েন্ট দিয়ে ভোরে আরো অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা এপারে ঢুকেছে। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গারা সকলে আরাকান রাজ্যের বুছিডং থানার হান্দং, উলাফে ও সিন্দিপ্রাংয়ের বাসিন্দা। উলাফে গ্রামের ছৈয়দ হোসেন (২৬) জানান, তীব্র খাদ্য সংকটের কারনে নিজ দেশ ছেড়ে এপারে চলে এসেছে। তার পরিবারের ৫ জনসহ আরো ৭ পরিবার একই সাথে গত শুক্রবার নিজ ঘর থেকে বের হয়ে নাইক্ষ্যংদিয়া নামক সীমান্ত হয়ে ধংখালী সীমান্ত থেকে রাত ১১ টার দিকে ফিশিং বোট করে ভোর তিন টায় এপারে ঢুকে।
তাদের সাথে আসা একই এলাকার পঁচাশি বছরের এক বৃদ্ধের সাথে এপ্রতিবেদকের দেখা হয়। সে মৃত তৈয়ুম গুলালের ছেলে আবদুল জব্বার। তার সাথে রয়েছে স্ত্রী হোছন বানু (৭৫) ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধি মেয়ে নুর আয়েশা (৫৫)। আবদুল জব্বার জানায়, গত আগস্টে সহিংসতা শুরু হলে তাদের রেখে ৩ ছেলে ও পরিবার এপারে চলে আসে। তারা এলাকায় ভিক্ষা করে অর্ধাহারে অনাহারে এপর্যন্ত দিন যাপন করলেও অবশেষে এপারে চলে আসেন। তার ছেলেরা কোথায় এখনো জানেনা।
এদিকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি অংশ টেকনাফ পৌর স্টেশনের আবু ছিদ্দিক মাকের্টে এসে জড়ো হয়। সেখানে পুলিশের বিশেষ টহল দলের সদস্যরা তাদের তালিকাভুক্ত করে হারিয়া খালী সেনা ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। কিছু রোহিঙ্গা নিজেরাই আত্মীয় স্বজনের সহযোগীতায় বিভিন্ন ক্যাম্পে চলে যায়।
এখানে দায়িত্বরত এসআই পাবন চক্রবর্তী জানান, সকাল ১১ টা পর্যন্ত ৫০ জন রোহিঙ্গাকে তালিকাভূক্ত করে সাবরাংয়ের হারিয়াখালী অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

  স্ত্রীকে ঘরে রেখে কিশোরীকে নিয়ে গ্রাম পুলিশ উধাও

  টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে আহত ব্যক্তির হাসপাতালে মৃত্যু

  রোহিঙ্গা শিবির ও আসার পথ পরিদর্শন করলেন জার্মান রাষ্ট্রদূত

  কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক-৩

  বন্ধুকযুদ্ধের মাঝে ও ইয়াবা পাচারঃ “তিন কোটি ষাট লাখ টাকার” ইয়াবাসহ সিএনজি জব্দ

  টেকনাফে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

  ১৬ মাসে ৫৮ হাজার রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত!

  মিয়ানমারে ফের সেনা অভিযানঃ চলে আসতে পারে আরো ২০ লাখ রোহিঙ্গা!

  ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণে ৫ দিন সময় দিলেন বদি

  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

  টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক পাচারকারী নিহত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

মন্ত্রিসভা থেকে পুরনোদের বাদ দেওয়াকে ভালো সিদ্ধান্ত বলেছেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?