মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮, ০৮:৩৪:৩০

জব্বারের বলী খেলায় নতুন চ্যাম্পিয়ন জীবন

জব্বারের বলী খেলায় নতুন চ্যাম্পিয়ন জীবন

চট্টগ্রামঃ-চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের বলী খেলায় নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম জীবন। বুধবার বলী খেলার ১০৯তম আসরে কুমিল্লার শাহজালাল বলীকে হারিয়ে  প্রথম শিরোপা জেতেন জীবন বলী।
তবে ১৪ মিনিটের এ খেলায় জীবন পরাজিত করতে পারেনি শাহজালালকে। ‘অবৈধ কৌশল’ অবলম্বন করায় রেফারি শাহজালালকে খেলার অযোগ্য করে জীবনকে জয়ী ঘোষণা করেন।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন দিদার ও রানার্স আপ উখিয়ার শামসু বলি কেউ অংশ নেননি এবারের প্রতিযোগিতায়।
নগরীর লালদীঘি ময়দানে বিকালে বলী খেলা দেখতে হাজারো দর্শক জড়ো হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ মাঠের আশে পাশের বিভিন্ন ভবনের ছাদে উঠেও মানুষ দেখে ঐতিহ্যবাহী এ বলী খেলা।
খেলায় অংশ নিয়েছিলেন বিভিন্ন বয়সী ৮৬ জন বলী। তাদের মধ্যে আটজন সরাসরি অংশ নেন চ্যালেঞ্জ রাউন্ডে আর অন্যরা প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেন।
প্রথম রাউন্ড শেষ হওয়ার পর কমিটির বাছাই করা আটজন সরাসরি অংশ নেন চ্যালেঞ্জ রাউন্ডে।
চ্যালেঞ্জ রাউন্ডে খাগড়াছড়ির সুমন চাকমাকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা জীবন। চট্টগ্রামের হাশেমকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠেন কুমিল্লার হোমনার শাহজালাল।
সেমিফাইনালে দুই মিনিটেরও কম সময় খেলে জীবনকে ছেড়ে দেন উখিয়ার জয়নাল বলী। আর মহেশখালীর মোহাম্মদ হোসেনকে ৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেন শাহজালাল।
খেলা শুরুর পর থেকেই দুজনই কৌশল অবলম্বন করে খেলে যাচ্ছিলেন। জীবন ও শাহজালালের ১৪ মিনিট নয় সেকেন্ডব্যাপী এই খেলা দেখে মনে হচ্ছি, ‘কেউ কাহারে নাহি ছাড়ে’।
তবে জীবনের মাথা ঠুকে ও পা ধরে মাটিতে ফেলার চেষ্টা করায় ‘অবৈধ কৌশল’ অবলম্বনের জন্য শাহজালালকে বহিস্কার করে জীবনকে জয়ী ঘোষণা করেন প্রধান রেফারি এম এ মালেক।
ফল মানতে পারেননি শাহজালাল
জীবনকে জয়ী ঘোষণার পর শাহজালাল প্রতিবাদ জানান, রেফারির কাছে। এসময় মাঠে উপস্থিত দর্শকরাও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে।
শাহজালালের দাবি, মাটিতে তার পিঠ ঠেকাতে না পারলেও রেফারি জীবনকে জয়ী ঘোষণা করেছেন।
শাহজালাল খেলার প্রধান অতিথি ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের কাছেও অভিযোগ করেন খেলার ফলাফল ও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে এই খেলা পরিচালনাকারী মালেক অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, বলী খেলায় মাথা ঠুকে আঘাত করা কিংবা পা ধরে মাটিতে ফেলার নিয়ম নেয়। পরপর তিন বার শাহজালালকে সতর্ক করার পরও সে অবৈধ কৌশল অবলম্বন করে। তাই চতুর্থ বার করার সময় তাকে বহিষ্কার করে জীবনকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
নবীন-প্রবীণের মেলা
এবারের খেলায় নবীন বলীরা যেমন অংশ নিয়েছেন, তেমনই ছিলেন প্রবীণরা। হাটহাজারীর মফিজ এবং পতেঙ্গার খাজা আহম্মদ ষাট বছর পেরিয়েও অংশ নিয়েছেন বলী খেলায়।
পেশায় কৃষক খাজা আহম্মদ জানান, ১০ বছর বয়সে পাকিস্তান আমল থেকেই আব্দুল জব্বারের ঐতিহাসিক বলী খেলায় অংশ নিচ্ছেন তিনি। তার দাবি, স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৬ বছর ধরে তিনি টানা অংশ নিয়েছেন এ খেলায়। তিন ছেলে এক মেয়ের জনক খাজা আহম্মেদের সঙ্গে এবছর তার ছেলে সেলিম বাদশাও অংশ নেন বলী খেলায়।
বিকালে খেলার উদ্বোধন করেন নগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাসুদ উল হাসান। খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
খেলায় চ্যাম্পিয়ন জীবন বলীকে ক্রেস্ট ও নগদ ২০ হাজার টাকা এবং রানার্স আপ শাহজালালকে ক্রেস্ট ও নগদ ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রথম রাউন্ডে জয়ী সবাইকে ক্রেস্ট ও নগদ এক হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম, উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসাইন, বাংললিংকের রিজিওনাল ডিরেক্টর সৈমেন মিত্র।
গত এক দশক ধরে বলি খেলার স্পন্সর করে আসছে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দেশের যুব সমাজকে সংগঠিত করতে ১৯০৯ সালে স্থানীয় আব্দুল জব্বার সওদাগর লালদিঘী মাঠে আয়োজন করেন কুস্তি প্রতিযোগিতা। পরে আব্দুল জব্বারের বলীখেলা নামে পরিচিত হয়, যার জনপ্রিয়তা এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১২ বৈশাখে লালদিঘীর ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এই খেলা, খেলার আগের দিন থেকে শুরু করে পরদিন পর্যন্ত তিনধরে লালদিঘীর মাঠ ও আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে বসে বৈশাখী মেলা।
বলীখেলার ১০৯ তম আসরকে সামনে রেখে এর মধ্যেই পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দোকানিরা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

অনগ্রসর বিবেচনায় নারী, নৃগোষ্ঠীদের জন্য জন্য সরকারি চাকরিতে যে কোটা রয়েছে, তা তুলে দেওয়ার পক্ষে মত জানিয়ে কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, অনগ্রসররা এখন অগ্রসর হয়ে গেছে। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?