বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ,২০১৭

Bangla Version
SHARE

মঙ্গলবার, ০৮ আগস্ট, ২০১৭, ০২:১৯:২২

রুবিকে দেশে ফিরিয়ে জবানবন্দি নেওয়ার দাবি সালমান শাহর মায়ের

রুবিকে দেশে ফিরিয়ে জবানবন্দি নেওয়ার দাবি সালমান শাহর মায়ের

ডেস্ক রির্পোটঃ-দুই দশক পর বিস্ফোরক বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজির হওয়া রাবেয়া সুলতানা রুবিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে তার জবানবন্দি নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চিত্রনায়ক সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।
আত্মহত্যা নয়, সালমান শাহ হত্যার শিকার হয়েছিলেন এবং তার স্ত্রী সামিরা হকের পরিবারই তাকে খুন করিয়েছিল বলে রুবির ভাষ্য।  
ফেইসবুকে এক ভিডিওবার্তায় রুবির ওই বক্তব্য আসার পর যুক্তরাজ্যে বসবাসরত নীলা সোমবার টেলিফোনে এক সাক্ষাতকারে বলেন, সব অপরাধীই এক সময় অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হয়, রুবির বক্তব্যই তার প্রমাণ।
“আজ যে স্বীকারোক্তি রুবি দিয়েছে, কোনো পাগল কী এভাবে বলবে?  সে তো নিজে এসে সাক্ষী দিতে চাচ্ছে। তাকে সরকারের মাধ্যমে ঢাকায় এনে তার জবাবন্দি নেওয়া হোক। এটা ষোল কোটি মানুষের দাবি, কেবল নীলা চৌধুরীর দাবি নয়।”
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তুমুল জনপ্রিয়তার মধ‌্যে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনের লাশ উদ্ধার করে, রূপালী পর্দায় যার নাম ছিল সালমান শাহ।
ওই ঘটনাকে ‘আত্মহত‌্যা’ বিবেচনা করে পুলিশ সে সময় অপমৃত‌্যুর মামলা করলেও সালমান শাহর পরিবার তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। সালমানের বাবা কমরুদ্দীন আহমেদের মৃত্যুর পর সেই মামলা এখন চালাচ্ছেন মা নীলা চৌধুরী, যিনি এক সময় জাতীয় পার্টির নেত্রী ছিলেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য তার স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব‌্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মাদ ভাইসহ ১১ জনকে দায়ী করে আদালতে আবেদন করেছিলেন নীলা; ওই ১১ জনের মধ্যে সালমান শাহর ‘বিউটিশিয়ান’ রুবির নামও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত রুবি সোমবার ফেইসবুকে এক ভিডিওবার্তায় বলেন, “সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই। সালমান শাহকে খুন করা হইছে, আমার হাজব্যান্ড এটা করাইছে আমার ভাইরে দিয়ে। সামিরার ফ্যামিলি করাইছে আমার হাজব্যান্ডকে দিয়ে। আর সব ছিল চায়নিজ মানুষ।”
রুবি জানান, স্বামীর নাম চ্যাংলিং চ্যাং, যিনি বাংলাদেশে জন চ্যাং নামে পরিচিত ছিলেন। ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে সাংহাই রেস্টুরেন্ট নামে তার একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ ছিল। স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে যে অ্যাপার্টমেন্টে সালমান শাহ থাকতেন, তার পাশেই ছিল তাদের বাসা।
রুবি বলেন, “ইমনরে (সালমান শাহ) সামিরা, আমার হাজব্যান্ড ও সামিরার সমস্ত ফ্যামিলি সবাই মিলে খুন করছে। ইমনরে আমার ভাই রুমিরে দিয়ে খুন করানো হইছে। রুমিরেও খুন করানো হইছে। আমি জানি না, আমার ভাইয়ের কবর কোথায় আছে। রুমির লাশ যদি কবর থেকে তুলে পোস্টমর্টেম করে, তাহলে দেখা যাবে রুমিরে গলা টিপে মেরে ফেলা হইছে।”
সালমান শাহকে কী কারণে হত্যা করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি রুবির ভিডিও বার্তায়। তবে তার ওই দাবিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে রহস্যঘেরা ওই মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থা পিবিআই।
অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসা সামিরার বাবা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা এতদিন পর রুবির এ ধরনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
নীলা চৌধুরী বলেন, “এই মহিলাই (রুবি) আমাকে চরিত্রহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, সামিরার বাবাও চেষ্টা করেছেন। আামকে খারাপ প্রমাণ করে কি আমার ছেলের খুনকে বদলায়ে ফেলতে পারবে তারা?”
সালমান শাহর মায়ের অভিযোগ, আইনজীবী থেকে শুরু করে  সবাই তাকে এতদিন ‘ঘুরিয়েছে’। ‘পয়সা খেয়ে’ আত্মহত্যা বলে প্রমাণের চেষ্টা করেছে।
তারপর রুবির এই ‘স্বীকারোক্তি’ এল, যাকে অপরাধীদের স্বাভাবিক নিয়তি এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে ‘প্রার্থনার ফসল’ হিসেবে বর্ণনা করছেন নীলা।
রুবির বক্তব্য যে সামিরার বাবা প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নীলা বলেন, আসামিরা নিজেদের বাঁচাতে অনেক কিছুই বলে।
“কোনো পাগালও তো এই স্টেটমেন্টটা (রুবির দেওয়া বক্তব্য) ছেড়ে দেবে না। সামিরার বাব ছাড়া আর কেউ বলবে না যে এটা পাগলের বক্তব্য।”
রুবির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নীলা বলেন, “তার জীবন এখন হুমকির মুখে। যে আমাকে গালি দিছে সে আমার কাছে এখন শেল্টার চাচ্ছে।”
নীলার ধারণা, তার ছেলের হত্যাকারীরা এতদিন রুবির মুখ বন্ধ রাখতে পারলেও এখন ‘একটা কিছু’ হয়েছে, যে কারণে তিনি সব বলে দিতে চাইছেন।
“তার জীবনের উপর হুমকি আসছে বলেই এখন সে আটকাতে পারে নাই।”
শফিকুল হক হীরার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে নীলা বলেন, সামিরার বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের আগে থেকেই বন্ধুত্ব ছিল- এমন দাবি সঠিক নয়।
হীরার পরিবারের ‘কোনো একটি ঘটনার’ কারণেই সালমান শাহকে ‘হত্যা করা হয়েছিল’ বলে তার মায়ের সন্দেহ।  
বর্তমানে ছোট ছেলের সঙ্গে ম্যানচেস্টারের কাছে রচডেলে বসবাসরত নীলা প্রশ্নের জবাবে বলেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। তবে দেশে মামলা পরিচালানার জন্য তার লোক আছে।
তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অধীনে অনেক খুনের বিচার হয়েছে। তাহলে সালমান শাহকে ‘হত্যার’ বিচার হবে না কেন?
“আমি আশাবাদী, শেখ হাসিনার সরকারের উপর আমি আশাবাদী… আমাকে কোনো বিচার দেওয়া দরবার নাই, যা সত্যি তাই উৎঘাটন করুন।”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক বলেছেন, ‘দেশকে জঙ্গি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি জনগণকে কাজ করতে হবে।’ আপনিও কি তাই মনে করেন?