মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ,২০১৯

Bangla Version
SHARE

রবিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৭:৫৪:০৪

রুমায় দেশ বিদেশী শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য ও গানের মধ্যে দিয়ে বমরাম সুসমাচার শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন

রুমায় দেশ বিদেশী শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য ও গানের মধ্যে দিয়ে বমরাম সুসমাচার শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন

রুমাঃ-বান্দরবানের রুমা উপজেলায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় দেশ-বিদেশী-শিল্পীদের  অংশগ্রহনের মধ্যদিয়ে বর্নাঢ্য আয়োজনে তিনিদিনের কর্মসূচি শেষ হলো- খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহণের সুসমাচার শতবর্ষ পূর্তি-উদযাপন।
নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই সুসমাচার প্রচারে শতবর্ষ পূতি উদযাপন বিস্তারিত কর্মসূচি ১৯শে জানুয়ারী এক ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল।
রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রোববার (২০ জানুয়ারী) সমাপনি দিনে সকালে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই। তিনি বলেন ১৯১৮সালে খ্রষ্টধর্ম বিশ্বাসের সুচনার পর থেকে  বম সম্প্রদায় ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী চড়াই-উৎড়াইয়ের মধ্র দিয়ে আজ শতবর্ষ পেড়িয়েছে। বম সম্প্রদায় তথা খ্রীষ্ট ধর্ম বিশ্বাসী অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীরা এখন শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে নিতে সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করতে উপস্থিত সকলের প্রতি আহবান জানালেন অধ্যাপক থানজামা লুসাই।  
সভায় সভাপতিত্ব করেন উদযাপন কমিটির সভাপতি পেকলিযান বম। এ সমাপণি সভায় শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন ও খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহনের পর বম জনগোষ্ঠীর  সফলতাসহ শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিশেষ ভুমিকা বিষয়ক তুলে ধরে বক্তৃতা করেন সিএফবি‘র সভাতি রেভা: মইয়া, ইভ্যানজিলিক্যাল খৃষ্টান চার্চ (ইসিসি)‘র  চেয়ারম্যান পাকসিম বিতলং, প্রেস ব্যাটালিয়ন চার্চের মডারেটর লালজারলম বম, বিসিসি‘র সাধারণ সম্পাদক লালুংরোয়াল বম, সিওসির সাধারণ সমাপাদক ভাননুয়াম বম প্রমুখ ও  বিভিন্ন মন্ডলীর সাধারণ সম্পাদকগণসহ আরো অনেকে। এছাড়াও তাদের অনুভূতি জানিয়ে বিদেশি অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফিলিপাইন এর এ্য্টনোস এশিয়ার পরিচালক সনি লাকারডু ও নরওয়ের থেকে আগত হ্যান্স থোরী লোভাস।
 বিশেষ অতিথিদের বক্তৃতার ফাঁকে মায়ানমারের চিন স্টেটে সে দেশের আইডল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিল্পী এস্থার ডটচিন সুং ও টকমেনসহ মিজোরাম থেকে আগত শিল্পীরাও একক ও দলীয় গান পরিবেশন করে। এছাড়াও স্থানীয় শিল্পীরা বমদের ঐতিহাসিক যুদ্ধ প্রতিরক্ষার ঐতিহ্যবাহী  নৃত্য ও গান পরিবেশ করা হয়।
সন্ধ্যায় অতিথিগনের বিদায়ী বক্তৃতার পাশাপাশি পরিবেশিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
রুমা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন বম জাতিগোষ্ঠীর সুসমাচার শতবর্ষ পূর্তি উদযাপণের অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রয়াজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় তিনদিন ব্যাপি এ অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানালেন ওসি আবুল হোসেন ।
প্রসঙ্গত: পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বম, পাংথোয়া ও লুসাই জনগোষ্ঠী তাদের পূর্ব পুরুষরা বিশ্বাসে প্রকৃতি পূজারি ছিল। ১৯১৮সালে ১২ডিসেম্বর বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের ৩৪৫নং নোয়াপতং মৌজায় ভাইরেলহ নামক একটি গ্রামে এক শুভদিনে সুসমাচারে প্রচার সুচনা হয়, তবে এ গ্রামটি এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
যা আজ শতাব্দী পেরিয়েছে। এই বম জনগোষ্ঠীদের মধ্যে সর্ব প্রথম প্রভূ যীশু খ্রীষ্টের সুসমাচার প্রচার সুচনা করেছিলেন, মিশনারী  রেভা: এড্উইন রোলেল্ডস। তাঁকে স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন পাড়া-গ্রামে নির্মাণ করা হয়- মিশনারী এড্ইন রোলেল্ডস্ এর প্রতিকৃতি ও ভাস্কার্য।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

লন্ডনে থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছেন জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি আবার উঠে দাঁড়াবে। আপনি কি তা মনে করেন?