সোমবার, ২২ অক্টোবর ,২০১৮

Bangla Version
SHARE

শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮, ০১:৪৭:৩৪

মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর, আজ শুভ বিজয়া দশমী

মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর, আজ শুভ বিজয়া দশমী

রাঙ্গামাটিঃ-মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর। দোলায় চড়ে আজ শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) মর্ত্য ছাড়বেন দুর্গতিনাশিনী উমা। ফিরবেন কৈলাশে। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও কল্যাণ এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরন্তর শান্তি ও সম্প্রীতির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে আজ সমাপন ঘটবে হিন্দু সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আজ শুভ বিজয়া দশমী।
শাস্ত্র অনুযায়ী, শাপলা, শালুক আর বলিদানের মাধ্যমে দেবীর পূজা হবে। তাই ঢাকের বোলে নিনাদিত হচ্ছে-‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ ঠাকুর যাবে বিসর্জন’। বহু মণ্ডপের লাউড স্পিকারে মন্দ্রিত হচ্ছে—‘নবমী নিশি যেন আর না পোহায়, তোকে পাবার ইচ্ছা মাগো কভু না ফুরায়....।’ সনাতন বিশ্বাসে— বোধনে ‘অরুণ আলোর অঞ্জলি নিয়ে আনন্দময়ী মা উমাদেবীর আগমন ঘটে। টানা পাঁচদিন মৃন্ময়ীরূপে মণ্ডপে মণ্ডপে থেকে আজ ফিরে যাবেন কৈলাশে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে।’
দূর কৈলাশ ছেড়ে মা পিতৃ গৃহে আসেন নৌকায় চড়ে। আজ বিজয়া দশমীতে বিদায় নেবেন আবারো ঘোটকে। আজ শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে নামবে ভক্তদের ঢল। ঢাক আর শঙ্খধ্বনি। টানা মন্ত্রপাঠ। উলুধ্বনি আর অঞ্জলি। সঙ্গে ঢাকের বাদ্য, নাচ, সিঁদুর খেলা। ধান, দুর্বা, মিষ্টি আর আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।
আজ হিন্দুদের অনেকে উপবাস করবেন। একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। রাঙ্গামাটির তবলছড়ি শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির, রিজার্ভ বাজার শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দির, পৌর কলোনী নারায়ন মন্দির, গর্জনতলি মন্দির, কাঠালতলী মন্দির, কালিন্দিপুর দশভুজা মন্দির, কলেজ গেইট সার্বজনীন দূর্গোৎসব মন্ডপ, ভেদভেদী কালী মন্দির, আসামবস্তী শীতলা মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে চলবে আবির উৎসব। দেওয়া হবে দর্পণ ঘট বিসর্জন।
রাঙ্গামাটি জেলার ৪০ টি পূজা মন্ডপের প্রতিমা নিয়ে আজ বিকালে শোভা যাত্রা বের করা হবে। সন্ধ্যা প্রতিটি মন্দির এলাকায় কাপ্তাই হ্রদে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে ৬ দিন বাপী শারদীয়া দূর্গোৎসবের শেষ হচ্ছে। আজ শুক্রবার জুমার দিন হওয়ায় দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত শোভাযাত্রা বন্ধ থাকবে।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজ বেতার ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বঙ্গভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবন আলোকসজ্জিত করা হচ্ছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) নীলকণ্ঠ, নীল অপরাজিতা ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় নবমী বিহিত পূজা। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হয়। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ করা হয়। সকালে নবমী বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পূজা শেষে অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় ভোগ আরতি। শেষবারের মতো ঠাকুর দেখতে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল ভিড়। বাসা-বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন করেন হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন।
বৃহস্পতিবার নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল বিদায়ের সুর। নবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় মহানবমী কল্পারম্ভ বিহিত ও সন্ধি পূজা। নানা আচারের মধ্যদিয়ে মহানবমীর পূজা শেষে ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন। সাধারণত মহাষ্টমীর শেষ এবং মহানবমী তিথির সংযুক্ত সময়ে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই সন্ধিক্ষণেই দেবী দুর্গার হাতে অসূর বধ হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) মহা নবমীর দিয়ে রাঙ্গামাটির প্রতিটি পূজা মন্ডপে ছিলো উপচে পড়া ভীড়। হাজার হাজার পূর্ণার্থী মায়ের পায়ে প্রনাম জানাতে মন্ডপে মন্ডপে ভীড় জমায় এবং মোমবাতি ও আগর বাতি জ্বালিয়ে মায়ের পায়ে প্রনাম করেন ভক্তবৃন্দ। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা শুধুমাত্র দেবী দর্শনের জন্য। প্রতিটি মন্ডপে দর্শনার্থীরা বেশ কিছু ক্ষণ সময় কাটায় ঘুরে বেড়ায় এই মন্ডপ থেকে অন্য মন্ডপে। নানা শ্রেণি, পেশার মানুষ আসেন এখানে। দেবীর কাছে ভক্তদের ছিল নানা প্রার্থনা।
তবলছড়ি রক্ষা কালী মন্দিরের আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব-দেবীকে শোভাযাত্রা রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রদক্ষিণ করার পর যার যার সুবিধা মতো নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে কাপ্তাই হ্রদে বিসর্জনের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হবে।
এবছর সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গোৎসব তিন পার্বত্য জেলায় ১২১ টি পূজা মন্ডপে উৎসব মুখর পরিবেশে আজ থেকে শুরু হচ্ছে। রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০ টি, বান্দরবানে ২৭ টি ও খাগড়াছড়িতে ৫৪ টি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে আমাদের কাউখালী, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলা সংবাদদাতারা জানান, উপজেলার প্রতিটি মন্দিরে মন্দিরে মহা নবমীর আয়োজন ছিলো চোখে পড়ার মতো।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, গুজব সনাক্তকরণে যে সেল করা হয়েছে, তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ বা সোশ্যাল মিডিয়া পুলিশিং করবে না। আপনি কি এতে আশ্বস্ত?