সোমবার, ১৬ জুলাই ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৭, ০৮:০১:০৩

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কোচিং প্রাইভেটের নামে চলছে বাণিজ্য

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কোচিং প্রাইভেটের নামে চলছে বাণিজ্য

বান্দরবানঃ-বান্দরবানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সরকারের প্রশাসন কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় বেশকিছু অর্থলোভী শিক্ষকরা বান্দরবানে প্রাইভেট কোচিং এর নামে খুলে বসেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
বান্দরবানে এসব প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে শিক্ষকরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে পর মাস বিপুল পরিমানের অর্থ হাতিয়ে নিলে ও প্রতিবারের মত বান্দরবানে শিক্ষার হার নিম্নমূখি হয়ে আছে। যদি ও স্কুল বা কলেজে পরীক্ষার ফলাফল ভালো করে কিন্তু বোর্ড ফলাফলে ন্মিমূখি হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১২ আগষ্ট) বিকালে বান্দরবান জেলা শহরের একদল সাংবাদিক কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনকালে বালাঘাটা এলাকায় ৫টি, মেম্বারপাড়া ও আর্মিপাড়ায় ৪টি, ডিসি অফিসের সামনে বহুতলা ভবনে ১টি, ডিসি বাংলো এবং এলজিইডি অফিসের সামনে ৩টি কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টার পরিদর্শন করে জানতে পারেন- সেইসব কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টারের বেশিরভাগ কক্ষই মাত্র ৮ বাই ১০ফুটের মধ্যে, আবার বেশকটি কক্ষ নির্মাণাধীন ভবনের জীর্ণ-শীর্ণ কক্ষের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংড়া পরিবেশে। জেলা শহর এবং শহরের আশেপাশের এলাকাসমুহে সারাবছর ধরেই চলমান কোচিং ও প্রাইভেট পাড়ানোর সেন্টার সমুহের পরিবেশ খুবই নোংড়া, ছোটপরিসরের অপর্যাপ্ত আলো-বাতাসের কক্ষগুলোতে গাদাগাদি করে বসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। এমন কি সে সকল প্রাইভেট সেন্টারগুলোতে শিক্ষার্থীর পরিমাণ এতটাই বেশি যে শিক্ষক দাড়াঁনোর জন্য নেই পযাপ্ত জায়গা।
অভিভাবকদের আর্থিক ক্ষমতা না থাকা সত্বেও বহু স্কুলের অর্থলোভী শিক্ষকরা নির্দিষ্ট বিষয়ে ফেল করে দেয়ার হুমকি-ধামকি দিয়ে কোচিং ও প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষকরা অর্থলোভী হওয়ার কারনে বাধ্য হয়েই সহজ-সরলমনা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা (মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) তাদের স্কুল-কলেজের ক্লাসের চেয়ে কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টারের ক্লাসসমুহের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
যার কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, মেথ (গণিত), ইংরেজি, রসায়ন, পদার্থ, জীববিজ্ঞান ইত্যাদি বিভাগের স্যারেরা শ্রেণি কক্ষে বলে থাকেন- পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করতে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াটা বাধ্যতামুলক, যেসব শিক্ষার্থী কোচিং বা প্রাইভেট পড়বেনা তাদেরকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য করা হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েক জন অভিভাবক বলেন, আমাদের দেশের র্বতমান শিক্ষা যে ব্যবস্থা তা নিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে ফেলেছে বলে চলে।
সমাজে মধ্যভিত্ত ও উচ্চমধ্যভিত্ত ছাড়া নিম্ম আয়ের অভিভাবকদের স্কুল কলেজের বেতনের অতিরিক্ত ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে (বিষয় ভিত্তিক) দিয়ে নিজেদের সন্তান কে প্রাইভেট বা কোচিং পড়ানো সম্ভব না বলে জানান এবং অভিভাবকরা আরো জানান, এ অবস্থা অচিরেই বন্ধ করা না হলে বান্দরবান  শহরসহ আশেপাশের শিক্ষার্থী, অভিভাবক মহল অর্থলোভী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অচিরেই মানববন্ধনসহ কঠোর আন্দোলন করা হবে।
সুশীল সমাজের একজন প্রতিনিধি এই বিষয়ে অভিযোগ এনে বলেন, বান্দরবান পুরাতন ফিস্ট রেস্তোরায় নিচে সারাক্ষণ শিক্ষার্থীদের হই চৈ শুনে একদিন গেলাম সেই কোচিং প্রাইভেট হোমে দেখলাম শিক্ষক নেই জিজ্ঞেস করলে জবাবে এক শিক্ষার্থী এসে বলে আঙ্কেল স্যার ৫ টায় আসার কথা কিন্তু আসে ৫টা ৩০ এ এবং ছুটি ৬ টায়। যার কারনে বন্ধুরা হই চৈ করে।
প্রাইভেট ও কোচিং আইন সংঘত কিনা জানতে চাইলে বান্দরবান ক্যান্ট: পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের  রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হরিধন চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টা আইন সংগত নয়, আমাদের অধ্যক্ষ মহোদয় আমাদের এক সভায় বলে দিয়েছেন প্রাইভেট কোচিং বন্ধে করে দিতে বলেন। কিন্তু আমাদের বন্ধ করতে দুই একদিন বিলম্ব হয়েছে। সাংবাদিক মহল এবং বিভিন্ন ফেইসবুকে বিষয়টি জানার পর ফিস্ট রেস্তোরার নিচে আমাদের প্রাইভেট হোমটি বন্ধ করে দিয়েছি আমরা।
ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টা আইন সংগত নয়, আমি পড়ায় কারণ সবাই পড়াছে। বলতে গেলে ঐতিহ্যগত কারন সবাই পড়ায় আমি কেন পড়াবো না।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার মুঠো ফোনে বান্দরবান ক্যান্ট: পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো: আশরাফ উদ্দিন ও পদার্থ  বিভাগের প্রভাষক লিটন দেবনাথ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ও ফোন রিসিভ না করায় তাদের মতামত জানা যায়নি।
এদিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট্র (শিক্ষা ও আইসিটি) মুফিদুল আলম বলেন, এই বিষয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে কিছুটা জেনেছি। আমি যে সমস্ত শিক্ষক কোচিং প্রাইভেটের সাথে জড়িত তাদের সাথে প্রথমে বসে ২০১২ সালের নীতিমালা অনুযায়ে কোচিং প্রাইভেট পরিচালনার জন্য বলে দিব। এবং পরে আইন অমান্যকারীদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, যে  ২০১২ সালে ২০ জুন কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একেই বছর ২৫ জুন নীতিমালায় একটি  সংশোধনী  আনা হয়। এতে সব বিষয়ের জন্য স্কুল ভিত্তিক কোচিং ফ্রি সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। নীতিমালায় বলা আছে সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। তবে তারা নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে অন্য স্কুল কলেজ ও সমমানের  প্রতিষ্ঠানে দিনে সর্বোচ্চ ১০ (দশ) জন শিক্ষার্থীকে নিজ বাসায় পড়াতে পারবেন। কোন কোচিং সেন্টারের নামে  বাসা ভাড়া নিয়ে ও কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা যাবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

  বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বিদায় ও নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তার বরণ

  লামায় উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে শিওরক্যাশ এজেন্টদের কমিশন বাণিজ্য

  বান্দরবানের অসহায় রোগীর পাশে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির সহধর্মিনী

  বান্দরবানের পুলিশ সুপারের কাছ থেকে সফলতার স্বীকৃতি পেলেন মোঃ সাদ্দাম হোসেন

  লামায় সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ট্রাফিক অভিযান

  বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপির পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

  আলীকদম উপজেলায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর আওয়ামীলীগে যোগদান

  লামার বনপুর বাজারে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও মাতামুহুরী কলেজে চুরি

  লামায় ৩১টি ইটভাটার মাটি সংগ্রহে অর্ধশত পাহাড় কাটা হচ্ছে

  স্বাভাবিক হয়ে আসছে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি

  পার্বত্য এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কারণে এখানকার মানুষ আর্থিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছে-বীর বাহাদুর এমপি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ হচ্ছে, এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বাস্তবে তা ঘটবে বলে মনে করেন?