মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯, ০৮:৫৫:৫৫

বান্দরবানে হারিয়ে যাওয়ার পথে মাচাং ঘর

বান্দরবানে হারিয়ে যাওয়ার পথে মাচাং ঘর

বান্দরবানঃ-বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায় যেন নানাভাবেই শিল্পী। তাদের অনেকেই নিজেদের পোশাক নিজেরাই তৈরি করেন। খাবার তৈরিতেও তাদের রয়েছে জুম চাষ সহ নিজস্ব আম, জাম, কাঠাল, পেঁপে, আনারস ও কমলার বাগান, তবে সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায়ের একটি জিনিসে মিল খুব বেশি, তা হলো তাদের তৈরি মাচাং ঘর।
বান্দরবানে সদর উপজেলা সহ রুমা, থানছি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়িসহ সাতটি উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির অনেক পরিবারই তাদের বসবাসের জন্য মাচাং ঘরগুলো তৈরি করে। মাচাং ঘরগুলো তৈরি হয় সাধারণত বাঁশ, ছন ও টিন দিয়ে। তবে ঘরের বেশির ভাগ অংশেই বাঁশের ব্যবহার হয়ে থাকে। ছনের মাচাংগুলো দেখতে যেমন চৌকস, তেমনি প্রাকৃতিক শীতাতাপ আর এই মাচাং ঘরে বসতে ও ঘুমাতে প্রচন্ড আরামদায়ক।
জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে বান্দরবানের বিভিন্নস্থানে বাঁশের, ছনের তৈরি ঘরের সংখ্যা কমেই যাচ্ছে। জুম পাহাড়ের শীর্ষে কিংবা ছোট বাগান বাড়ীতে একসময় জমির মালিকরা মাচাং ঘর তৈরি করে সেখানে তাদের সময় ব্যয় করতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে চাহিদার মত বাঁশ, গাছ ও ছন না পাওয়ায় এখন পার্বত্য জেলা গুলোতে মাচাং ঘর হারিয়ে যাওয়ার পথে।
বান্দরবানের বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও পরিবেশবিদ অং চা মং বলেন, পার্বত্য এলাকায় এক সময় মাচাং ঘরের যতেষ্ট কদর ছিল। যেকোন পাহাড়ী বাগানে একটি মাচাং ঘর দেখতে পেতাম, কিন্তুু বর্তমানে কিছু অসাধু বন খেকোদের কারণের পাহাড়ে এখন আর আগের মত ছন, বাঁশ, গাছ পাওয়া যায় না। কারণ বন খেকোরা বড় বড় গাছ কাটার কারণে পরিবেশ একদিকে দূষিত হচ্ছে অপরদিকে প্রয়োজনমত ছন, বাঁশ ও গাছ না পাওয়াই মাচাং ঘর তৈরিতে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘরকে টিকে রাখতে হলে সরকারী-বেসরকারীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
বান্দরবানের বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী ও কবি আমিনুর রহমান প্রামানিক বলেন, আদিকাল থেকে পার্বত্য এলাকায় বসবাস করা আদিবাসী সম্প্রদায় মাচাং ঘরে বসবাস করে আসছে, তারা ঘর তৈরির কথা ভাবলেই মাচাং ঘরের কথা বলতো এবং বন জঙ্গল থেকে ভালোমানের বাঁশ ও ছন নিয়ে মাচাং ঘর তৈরি করত কিন্তু এখন মাচাং ঘর হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের কাছ থেকে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউটের কনভেনিং কমিটির সদস্য সিং ইয়ং ম্রো জানান, একসময় মাচাং ঘর পাহাড়ের জন্য জনপ্রিয় হলে ও দিন দিন এই ঘর হারিয়ে যাচ্ছে। এখন জনসাধারণ ইট সিমেন্টের দালান তৈরি করতে ব্যস্ত। মূলত বনে বাঁশ, গাছ আর ছন নেই, আর তাই সাধারণ মানুষ মাচাং ঘর তৈরি করতে পারছে না আর আমরা হারিয়ে ফেলছি মাচাং ঘর।

এই বিভাগের আরও খবর

  বান্দরবানে বন্যা পরবর্তী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, বেড়েছে জনদূর্ভোগ

  বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও সাত দিনেও স্বাভাবিক হয়নি বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ

  ৬ষ্ট দিনের মতো বান্দরবানের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধস

  লামায় অথৈ পানি, পাহাড় ধসে নিহত ১, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ

  লামায় পাহাড় ধসে নিহত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ

  লামায় পাহাড় ধসে এক মহিলা নিহত

  লামায় বন্যায় দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

  বান্দরবানে ৫ম দিনের মতো সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

  বান্দরবানে বন্যাদূর্গতদের মাঝে খাবার বিতরণ করলেন পৌর মেয়র

  পরিবেশ ও মানব জীবনে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম-মোঃ দাউদুল ইসলাম

  বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি, তলিয়ে গেছে নিম্ম এলাকা, ৪র্থ দিনের মতো সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে এখন টাকা থাকলে সব রকম অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। আপনি কি তা ঠিক মনে করেন?