শনিবার, ২৪ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯, ০৮:৫৫:৫৫

বান্দরবানে হারিয়ে যাওয়ার পথে মাচাং ঘর

বান্দরবানে হারিয়ে যাওয়ার পথে মাচাং ঘর

বান্দরবানঃ-বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায় যেন নানাভাবেই শিল্পী। তাদের অনেকেই নিজেদের পোশাক নিজেরাই তৈরি করেন। খাবার তৈরিতেও তাদের রয়েছে জুম চাষ সহ নিজস্ব আম, জাম, কাঠাল, পেঁপে, আনারস ও কমলার বাগান, তবে সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায়ের একটি জিনিসে মিল খুব বেশি, তা হলো তাদের তৈরি মাচাং ঘর।
বান্দরবানে সদর উপজেলা সহ রুমা, থানছি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়িসহ সাতটি উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির অনেক পরিবারই তাদের বসবাসের জন্য মাচাং ঘরগুলো তৈরি করে। মাচাং ঘরগুলো তৈরি হয় সাধারণত বাঁশ, ছন ও টিন দিয়ে। তবে ঘরের বেশির ভাগ অংশেই বাঁশের ব্যবহার হয়ে থাকে। ছনের মাচাংগুলো দেখতে যেমন চৌকস, তেমনি প্রাকৃতিক শীতাতাপ আর এই মাচাং ঘরে বসতে ও ঘুমাতে প্রচন্ড আরামদায়ক।
জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে বান্দরবানের বিভিন্নস্থানে বাঁশের, ছনের তৈরি ঘরের সংখ্যা কমেই যাচ্ছে। জুম পাহাড়ের শীর্ষে কিংবা ছোট বাগান বাড়ীতে একসময় জমির মালিকরা মাচাং ঘর তৈরি করে সেখানে তাদের সময় ব্যয় করতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে চাহিদার মত বাঁশ, গাছ ও ছন না পাওয়ায় এখন পার্বত্য জেলা গুলোতে মাচাং ঘর হারিয়ে যাওয়ার পথে।
বান্দরবানের বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও পরিবেশবিদ অং চা মং বলেন, পার্বত্য এলাকায় এক সময় মাচাং ঘরের যতেষ্ট কদর ছিল। যেকোন পাহাড়ী বাগানে একটি মাচাং ঘর দেখতে পেতাম, কিন্তুু বর্তমানে কিছু অসাধু বন খেকোদের কারণের পাহাড়ে এখন আর আগের মত ছন, বাঁশ, গাছ পাওয়া যায় না। কারণ বন খেকোরা বড় বড় গাছ কাটার কারণে পরিবেশ একদিকে দূষিত হচ্ছে অপরদিকে প্রয়োজনমত ছন, বাঁশ ও গাছ না পাওয়াই মাচাং ঘর তৈরিতে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘরকে টিকে রাখতে হলে সরকারী-বেসরকারীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
বান্দরবানের বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী ও কবি আমিনুর রহমান প্রামানিক বলেন, আদিকাল থেকে পার্বত্য এলাকায় বসবাস করা আদিবাসী সম্প্রদায় মাচাং ঘরে বসবাস করে আসছে, তারা ঘর তৈরির কথা ভাবলেই মাচাং ঘরের কথা বলতো এবং বন জঙ্গল থেকে ভালোমানের বাঁশ ও ছন নিয়ে মাচাং ঘর তৈরি করত কিন্তু এখন মাচাং ঘর হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের কাছ থেকে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউটের কনভেনিং কমিটির সদস্য সিং ইয়ং ম্রো জানান, একসময় মাচাং ঘর পাহাড়ের জন্য জনপ্রিয় হলে ও দিন দিন এই ঘর হারিয়ে যাচ্ছে। এখন জনসাধারণ ইট সিমেন্টের দালান তৈরি করতে ব্যস্ত। মূলত বনে বাঁশ, গাছ আর ছন নেই, আর তাই সাধারণ মানুষ মাচাং ঘর তৈরি করতে পারছে না আর আমরা হারিয়ে ফেলছি মাচাং ঘর।

এই বিভাগের আরও খবর

  বর্তমান সরকার পাহাড়ে যেমন শান্তি প্রতিষ্টিত করেছে তেমনী শিক্ষা ও উন্নয়নেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে-পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর

  লামায় উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

  সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ করে কখনো উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করা যাবে না-পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর

  দুই জীপ চালক পালিয়ে আসলেও ৪দিন পর মুক্তি পেল রুমায় অপহৃত জীপ চালক বাসু কর্মকার

  নাইক্ষ্যংছড়িতে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শোভযাত্রা, নিরাপত্তা জোরদার

  লামায় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে রাবার বাগানে ভাংচুর ও হামলার অভিযোগ

  চার শর্ত পূরণ হলে মিয়ানমারে ফিরবে রোহিঙ্গারা

  বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সনাতন ধর্মালম্বীদের শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধন

  রুমায় ৩ ড্রাইভারকে অপহরণ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

  ২১ আগস্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে বান্দরবানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

  থানচিতে মিছিল ও প্রতিবাদ সভাঃ গ্রেনেড হামলাকারীরা এখনও ষড়যন্ত্র করছে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?