বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯, ০৮:৫৫:৫৫

বান্দরবানে হারিয়ে যাওয়ার পথে মাচাং ঘর

বান্দরবানে হারিয়ে যাওয়ার পথে মাচাং ঘর

বান্দরবানঃ-বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায় যেন নানাভাবেই শিল্পী। তাদের অনেকেই নিজেদের পোশাক নিজেরাই তৈরি করেন। খাবার তৈরিতেও তাদের রয়েছে জুম চাষ সহ নিজস্ব আম, জাম, কাঠাল, পেঁপে, আনারস ও কমলার বাগান, তবে সব ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায়ের একটি জিনিসে মিল খুব বেশি, তা হলো তাদের তৈরি মাচাং ঘর।
বান্দরবানে সদর উপজেলা সহ রুমা, থানছি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়িসহ সাতটি উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির অনেক পরিবারই তাদের বসবাসের জন্য মাচাং ঘরগুলো তৈরি করে। মাচাং ঘরগুলো তৈরি হয় সাধারণত বাঁশ, ছন ও টিন দিয়ে। তবে ঘরের বেশির ভাগ অংশেই বাঁশের ব্যবহার হয়ে থাকে। ছনের মাচাংগুলো দেখতে যেমন চৌকস, তেমনি প্রাকৃতিক শীতাতাপ আর এই মাচাং ঘরে বসতে ও ঘুমাতে প্রচন্ড আরামদায়ক।
জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে বান্দরবানের বিভিন্নস্থানে বাঁশের, ছনের তৈরি ঘরের সংখ্যা কমেই যাচ্ছে। জুম পাহাড়ের শীর্ষে কিংবা ছোট বাগান বাড়ীতে একসময় জমির মালিকরা মাচাং ঘর তৈরি করে সেখানে তাদের সময় ব্যয় করতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে চাহিদার মত বাঁশ, গাছ ও ছন না পাওয়ায় এখন পার্বত্য জেলা গুলোতে মাচাং ঘর হারিয়ে যাওয়ার পথে।
বান্দরবানের বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও পরিবেশবিদ অং চা মং বলেন, পার্বত্য এলাকায় এক সময় মাচাং ঘরের যতেষ্ট কদর ছিল। যেকোন পাহাড়ী বাগানে একটি মাচাং ঘর দেখতে পেতাম, কিন্তুু বর্তমানে কিছু অসাধু বন খেকোদের কারণের পাহাড়ে এখন আর আগের মত ছন, বাঁশ, গাছ পাওয়া যায় না। কারণ বন খেকোরা বড় বড় গাছ কাটার কারণে পরিবেশ একদিকে দূষিত হচ্ছে অপরদিকে প্রয়োজনমত ছন, বাঁশ ও গাছ না পাওয়াই মাচাং ঘর তৈরিতে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘরকে টিকে রাখতে হলে সরকারী-বেসরকারীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
বান্দরবানের বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী ও কবি আমিনুর রহমান প্রামানিক বলেন, আদিকাল থেকে পার্বত্য এলাকায় বসবাস করা আদিবাসী সম্প্রদায় মাচাং ঘরে বসবাস করে আসছে, তারা ঘর তৈরির কথা ভাবলেই মাচাং ঘরের কথা বলতো এবং বন জঙ্গল থেকে ভালোমানের বাঁশ ও ছন নিয়ে মাচাং ঘর তৈরি করত কিন্তু এখন মাচাং ঘর হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের কাছ থেকে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউটের কনভেনিং কমিটির সদস্য সিং ইয়ং ম্রো জানান, একসময় মাচাং ঘর পাহাড়ের জন্য জনপ্রিয় হলে ও দিন দিন এই ঘর হারিয়ে যাচ্ছে। এখন জনসাধারণ ইট সিমেন্টের দালান তৈরি করতে ব্যস্ত। মূলত বনে বাঁশ, গাছ আর ছন নেই, আর তাই সাধারণ মানুষ মাচাং ঘর তৈরি করতে পারছে না আর আমরা হারিয়ে ফেলছি মাচাং ঘর।

এই বিভাগের আরও খবর

  লামায় ৩ শত কর্মজীবি মা পেলেন পুষ্টি উন্নয়ন ভাতা

  থানচিতে ১০টাকা কেজি চাউল বিতরন

  সেবা ও অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের কলসেন্টার ‘৩৩৩’ এর প্রচারণার লক্ষে বান্দরবানে সাংবাদিক সম্মেলন

  এ বিদ্যালয়ে ভর্তির আগে সাঁতার শিখতে হয় !

  নাইক্ষ্যংছড়ি ইউপি নির্বাচনঃ নুর মোহাম্মদের প্রত্যাহার, বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত আলী হোসেন

  এনজিওতে নিয়োগের অনিয়মের বিরুদ্ধে আলীকদমে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

  বান্দরবানে দুদকের হানা, গ্রেফতার সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ক্যচিং অং মার্মা

  সংঘাতের পর নাইক্ষ্যংছড়ি মাদরাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম, উৎকন্ঠায় অভিভাবকরা

  রুমার সামাখাল পাড়া থেকে ৬ জনকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা

  স্বামী ঘুমে, স্ত্রী ঝুলে আছে ফাঁসিতে !

  নাইক্ষ্যংছড়ি মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় অধ্যক্ষ ও বহিরাগতদের উষ্কানীতে হামলা অধ্যক্ষসহ আহত-৩

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?