শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯, ০৭:৫২:৩৬

বণার্ঢ্য আয়োজনে বান্দরবানে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ফুল বিঝু ও ঘিলা খেলা

বণার্ঢ্য আয়োজনে বান্দরবানে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের  ফুল বিঝু ও ঘিলা খেলা

বান্দরবানঃ-পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি সম্প্রদায়ের জনসাধারণ পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে শুরু করেছে নানা কর্মসুচী।
শুক্রবার সকালে বান্দরবানের সাংগু নদীর তীরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ তরুনীরা পানিতে ফুল ভাসিয়ে শুরু করে ফুল বিঝু উৎসবের। এসময় বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামের তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের যুবক-যুবতীরা একত্রিত হয়ে পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরাতন গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর এই আনন্দ এখন বইছে পুরো পার্বত্য জেলা বান্দরবানে।
ফুল বিঝু শেষ করে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ তরুণীরা জড়ো হয় বান্দরবান সদরের বালাঘাটা বিলকিছ বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে, এসময় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ তরুণীরা মেতে ওঠে ঘিলা খেলা উৎসবে।
তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস আদিকালে এক প্রেমিক যুগল এই ঘিলা খেলা খেলে তাদের ভালোবাসা পরিপূর্ণ করেছিল, আর এই বিশ্বাস থেকেই তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় প্রতিবছরই এই ঘিলা খেলায় মেতে ওঠে। ঘিলা খেলা হলো জঙ্গলি লতায় জন্মানো এক প্রকার বীজ। এই বীজ দিয়ে তঞ্চঙ্গ্যারা খেলা করে। তঞ্চঙ্গ্যারা বিশ্বাস করে, ঘিলার লতার ফুল থেকে এই বীজের জন্ম আর পৃথিবীতে যারা জন্ম গ্রহন করে তারাই এই বীজ দেখতে পায়। আর বীজের ব্যবহারে অপদেবতা সহ সকল দু:খ চলে যায়, আর নিজ নিজ পরিবারে সুখ শান্তি নেমে আসে, তাই প্রতিবছর বিজুর দিনে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের আগমনে এই ঘিলা খেলার মাধ্যমে সুখ শান্তির প্রত্যাশা করে।
প্রতিবছরের মত এবারে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই ঘিলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আর জেলা ও উপজেলার মোট ২৬ টি টিম এই ঘিলা খেলায় অংশ নিচ্ছে। ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দিপনার সাথে এই উৎসব আয়োজন করতে পারায় মহা খুশি আয়োজকেরা। জাতীয় ঘিলা খেলা গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্ট ২০১৯ইং এর সদস্য সচিব উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, প্রতিবছরের মত এবারে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে আমাদের তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় নানা আয়োজনে এই ঘিলা খেলা ও ফুল বিঝু উদযাপন করছে। পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রতিবছরই আমরা এই আয়োজন করে থাকি, আর এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের সাথে সাথে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের জনসাধারণ একত্রিক হয়ে সকল আয়োজনে উৎসব মুখর পরিবেশে অংশ নেয়।
নানা আনুষ্টানিকতার মধ্য দিয়ে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা, মারমাসহ ১১টি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি বিভিন্ন আয়োজনে মধ্য দিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় আর নববর্ষকে বরণ উদযাপন করবে, আর ১৬ এপ্রিল নানা ধর্মীয় অনুষ্টানের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটবে।

এই বিভাগের আরও খবর

  সাংগ্রাইং পোয়েঃ উৎসবের মধ্যদিয়ে পাহাড়ের মানুষের সম্প্রীতির বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে-পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি

  বান্দরবানে নদী রক্ষায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা

  নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে বান্দরবানে মানববন্ধন

  লামায় সতেরটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দূর্ঘটনার আশংকা নিয়ে চলছে পাঠদান

  সাংগ্রাইং উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের মনে থাকা গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন স্বপ্ন উদারিত হবে-পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি

  রোয়াংছড়িতে ট্রাক ধাক্কায় মোহনা টেলিভিশনের সাংবাদিকের বড় ভাই আহত

  দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলুন-এ এফ এম আমিনুল ইসলাম

  বান্দরবানে শেষ হলো তিনদিন ব্যাপী মাহা সাংগ্রাইং পোয়েঃ এর জলকেলি উৎসব

  রোয়াংছড়িতে ৩ দিনব্যাপী উদযাপিত বৈসাবি ও সাংগ্রাই উৎসবের সমাপ্তি

  নববর্ষ বরণ উৎসব “মাহা সাংগ্রাইং পোয়েঃ” এর জলকেলীতে মেতে উঠেছে বান্দরবান

  বান্দরবানে বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে বুদ্ধ মুর্তি স্নান অনুষ্টান অনুষ্টিত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

লন্ডনে থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছেন জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি আবার উঠে দাঁড়াবে। আপনি কি তা মনে করেন?