রবিবার, ২২ অক্টোবর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭, ০২:৩১:৪৯

লামায় রোহিঙ্গা খুন

লামায় রোহিঙ্গা খুন

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামাঃ-বান্দরবানের লামার সরই ইউনিয়নে মাকে নিয়ে বিরোধের জের ধরে খুন হয়েছে নুর হোসেন (২৮) নামে এক রোহিঙ্গা। বুধবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টায় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় জনৈক জসিমের খামার বাড়িতে এই খুন হয় বলে জানায় নিহতের স্ত্রী নুর ফাতেমা। লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরহাতাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। 
নিহতের স্ত্রী নুর ফাতেমা (২৩) বলেন, দুইদিন আগে আমার স্বামীর ভাগিনা ইউছুপ তার ভাগিনী জামাই মো. ইউছুপ দুইজন এখানে বেড়াতে আসে। গতকাল দুপুরে তারা চলে যায়। তারা আমার শাশুড়ি হাজেরা বেগমকে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু আমার স্বামী তাকে না দিলে তার রাগ করে চলে যায়। পরে গভীর রাতে দুই সিএনজি করে ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে এসে আমার স্বামীকে কুপিয়ে খুন করে ও শাশুড়িকে নিয়ে যায়। আমার স্বামীর দুই ভাই নুর হাসি ও নুর আলী মালয়েশিয়া ও বড় ভাই কালা মিয়া অষ্ট্রেলিয়া থাকে। তারা সেখান থেকে টাকা পয়সা দিয়ে ও তাদের হুকুমে ভাগিনা ইউছুপ ও ভাগিনী জামাই মো. ইউছুপ ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। 
জানা গেছে, ৫/৬ মাস আগে পরিবার নিয়ে পাশর্^বর্তী চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর থেকে লামার সরই ইউনিয়নে বসবাসের জন্য আসে নুর হোসেন। তারা ৪ ভাই। সে ছাড়া বাকী ৩ ভাই অষ্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থাকে। নুর হোসেন তার পরিবার রোহিঙ্গা এবং তারা আগে কক্সবাজারের উখিয়া এলাকায় থাকত। নিহত নুর হোসেন সরই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় মো. জসিম উদ্দিনের খামার বাড়িতে চাষা হিসেবে থাকত ও চাষাবাদ করত। 
খামারের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, নুর হোসেন তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে ৫/৬ মাস আগে এখানে আসে। তারা নিজেদের বাংলাদেশী পরিচয় দেয় এবং জন্মনিবন্ধন দেখায়। ভোটার আইডি কার্ড চাইলে বলে, আমরা নতুন ভোটার হয়েছি কয়েকদিন পরে দিব। কিছুদিন আগে নুর হোসেন তার মা হাজেরা বেগমকেও এখানে নিয়ে আসে। পরে জানা যায় তার রোহিঙ্গা। 
স্থানীয় ইউপি মেম্বার আশ্রফ আলী বলেন, সকালে খুনের ঘটনা শুনে আমরা ছুটে আসি। ঘরের ভিতরে জবাই করা রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখি। লাশের হাত দুইটি কেটে ফেলা হয়েছে। সামান্য একটু লেগে আছে। নিহতের স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তান আব্দুল খালেক এর কান্না পরিবেশ ভারী হয়ে আসে।  
এবিষয়ে সরই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ-উল আলম বলেন, তারা রোহিঙ্গা। তাদের আগের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া। নিহতের স্ত্রী নুর ফাতেমা খুনিদের চিনতে পেরেছে বলে পুলিশ ও আমাদের জানিয়েছে।  
খুনের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, খুব নিশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ধার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর

  লামার দূর্গম পাহাড়ে ঘাঁটি গেড়েছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীঃ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে চলে যায় মিয়ানমারে

  লামায় চার বছরেও শেষ হয়নি জনস্বাস্থ্যের পানি শোধনাগার নির্মাণ কাজ

  বান্দরবানের দূর্গা মন্দিরে মাটির বেদীর উপর ভেসে উঠেছে রাম কৃষ্ণের প্রতিচ্ছবি, ভক্তদের ভীড়

  থানচি ডাক বিভাগের বেহাল অবস্থা

  লামায় ভয়াবহ আগুনে ৪টি দোকান ভষ্মিভুত

  থানচি'র বলিবাজার বেহাল অবস্থা, যেন ফুঠবল খেলার মাঠ

  লামায় ওএমএসের চাল কালো বাজারে

  বান্দরবানে বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু

  বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সহায়তায় চাকরি পেলেন প্রতিবন্ধী লালহিম বম

  বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে আরো আধুনিকায়ন করা হবে-দিলীপ কুমার বণিক

  সেতু আছে সংযোগ সড়ক নাই

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও এখন এটা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি কি তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত?