সোমবার, ২২ অক্টোবর ,২০১৮

Bangla Version
SHARE

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৮, ০৩:১৬:০০

অর্ধেক গ্রাহকই অপারেটর পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছেন

অর্ধেক গ্রাহকই অপারেটর পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছেন

ডেস্ক রিপোর্টঃ-মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপিতে প্রথম পাঁচ দিনে অপারেটর বদল করতে আবেদন করে ব্যর্থ হয়েছেন অর্ধেকের বেশি গ্রাহক। এই পাঁচ দিনে অপারেটর পরিবর্তনের অনুরোধ করেছেন ১০ হাজার ১২২ জন গ্রাহক। যার অর্ধেকেরও বেশি ৫ হাজার ৮৬২ জন গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তন করতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এই সময়ে সফলভাবে অপারেটর পরিবর্তন করতে পেরেছেন ৪ হাজার ১৮১ জন। আর ৭৯ জন গ্রাহক আবেদন করে অপেক্ষায় আছেন। অপারেটর পরিবর্তনের আবেদনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৬১৬ জন গ্রাহক গ্রামীণফোন ছাড়তে চেয়েছেন।
এদিকে এখন অপারেটর পরিবর্তনে যে ১০০ টাকা সিম ট্যাক্স দিতে হচ্ছে, খুব সহসাই সেটা মওকুফ হচ্ছে। ফলে সাড়ে ৫৭ টাকায় গ্রাহকরা এই সুবিধা নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন- বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, গ্রাহকের ওপর যে ১০০ টাকা সিম ট্যাক্স ধার্য্য হয়েছিল সেটি প্রত্যাহারের জন্য আমরা অর্থমন্ত্রীকে বুঝিয়েছি। তিনি সম্মতি দিয়ে আমাদের চিঠিও দিয়েছেন। এখন এনবিআর থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এরপর থেকে গ্রাহকরা সাড়ে ৫৭ টাকায় অপারেটর পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। অতিরিক্ত একশ’ টাকা আর তাদের দিতে হবে না।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অর্ধেক গ্রাহকের আবেদন সফল হয়নি। আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে কোন কোন অপারেটর ইচ্ছে করেই গ্রাহকের একাউন্টে ৫ টাকা দিয়ে দিচ্ছে, ফলে কারো একাউন্টে টাকা থাকলে সেটা আর পোর্টিং হচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কারো একাউন্টে টাকা থাকলে ১ নভেম্বরের আগে সেটা পোর্টিং করা যাবে না। কারণ ওই টাকা কোথায় যাবে, সেটার বিষয়ে নির্দেশনা আসেনি। আমরা আশা করছি ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা এসে যাবে। আর আমরা তদন্ত করছি, কোন অপারেটর এই কাজ করছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
বিটিআরসির প্রকাশ করা তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি অপারেটর বদল করেছে। পাঁচ দিনে গ্রামীণফোনের মোট ৪ হাজার ৬১৬ জন গ্রাহক অপারেটর বদলের আবেদন করেছে। এর মধ্যে সফল হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৮৩৪ জন এবং বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৭৮২ জনের আবেদন। এই সময়ে ৬৮২ জন গ্রামীণফোনে এসেছেন। এর মধ্যে টেলিটক থেকে ২৫, রবি থেকে ৩৩১ এবং বাংলালিংক থেকে ৩২৬ গ্রাহক। জিপি থেকে টেলিটকে ২৮, রবিতে ১ হাজার ৩৫৬ ও বাংলালিংকে গেছেন ৪৫০ জন।
প্রথম পাঁচ দিনে অপারেটর বদল করে সরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলিটকে এসেছে ৮৯ জন। আর টেলিটক থেকে অন্য অপারেটরে গেছে ১৩০ জন। এর মধ্যে জিপিতে গেছে ২৫, রবিতে ৮২ এবং বাংলালিংকে গেছেন ২৩ গ্রাহক। আর টেলিটকে জিপি থেকে এসেছে ২৮, রবি থেকে ৩৭ ও বাংলালিংক থেকে ২৪ গ্রাহক।
এই পাঁচ দিনে রবি থেকে অন্য অপারেটরে গেছে ৯৭২ গ্রাহক। অপারেটরটি থেকে টেলিটকে ৩৭, জিপিতে ৩৩১ এবং বাংলালিংকে গেছে ৬০৪ গ্রাহক। একই সময়ে রবিতে যোগ হয়েছে ২ হাজার ৩৪১ গ্রাহক। যার মধ্যে টেলিটক থেকে ৮২, জিপি থেকে ১ হাজার ৩৫৬ ও বাংলালিংক থেকে ৯২৬ জন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন।
বাংলালিংক থেকে অন্য অপারেটরে গেছে ১ হাজার ২৭৬ জন। যার মধ্যে টেলিটকে ২৪, জিপিতে ৩২৬ এবং রবিতে ৯২৬ জন। একই সময়ে বাংলালিংকে এসেছে ১ হাজার ৮৯ জন। যার মধ্যে টেলিটক থেকে ২৩ জন, জিপি থেকে ৪৫০ ও রবি থেকে ৬০৪ জন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জিপিতে আসতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে ৮৩৩ জন। আর জিপি থেকে অন্য অপারেটরে যেতে ব্যর্থ হয়েছে দুই হাজার ৭৮২ জন। রবিতে আসতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে ৩ হাজার ৮৬২ জন। রবি থেকে অন্য অপারেটরে যেতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে ৯৮২ জন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, গুজব সনাক্তকরণে যে সেল করা হয়েছে, তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ বা সোশ্যাল মিডিয়া পুলিশিং করবে না। আপনি কি এতে আশ্বস্ত?