মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:৫৫:৩৪

পবিত্র শবে মেরাজ ও এই রাতের আমল

পবিত্র শবে মেরাজ ও এই রাতের আমল

ধর্ম ডেস্কঃ-ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের দেশে বুধবার রাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হয়েছে। এই মেরাজের প্রতি সকল মুসলিমের বিশ্বাস আছে। তবে বিতর্ক সৃষ্টি হয় এত স্বল্প সময়ে এ ব্যাপক ভ্রমণ ও বহুবিধ ঘটনাবলির সংঘটন সংক্রান্ত ব্যাখ্যা ও যুক্তি নিয়ে। কিছু দুর্বলমনা ঈমানদার ও অমুসলিমের কাছে এটা রহস্য হয়ে তাদের মনকে অনেক সময় তোলপাড় করে তোলে। তবে খাঁটি ঈমানদার বিশ্বাসীদের দৃষ্টিতে অবশ্য এটা অত্যন্ত সহজ ছিলো। কেননা তারা বিশ্বাস করে যে, হযরত (সা.) জীবনে মিথ্যা বলেননি। ‘আল-আমিন’ তথা ‘মহাসত্যবাদী’ ছিলো তার উপাধি। তাছাড়া সব কথাই যেখানে তাঁর সত্য বলে প্রমাণিত, সেখানে মেরাজের ঘটনা অসত্য হবে কেন?
মুহাদ্দিসীনগণ বলেছেন, দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের আগমনে যেমন জনতা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে, তার সম্মানে সব যানবাহন, মানুষের কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকে—তেমনিভাবে মহানবী (স)-এর আগমনে তামাম ব্রহ্মাণ্ডের কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এখানে স্বাভাবিক প্রশ্ন হতে পারে যে, মেরাজের এমন মর্যাদাপূর্ণ সফরে দুনিয়ার সময়ের গতিকে থামানো হলো কেন? তাফসীরবিদরা এর যৌক্তিক জবাব দিয়েছেন এভাবে—যদি দুনিয়ার সময়কে চালু রেখেই আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় হাবিবের ২৭ বছরের মেরাজের সফরের সময় পার করতেন, তাহলে এই সুদীর্ঘ সময়ে জাতি সম্পূর্ণভাবেই খোদাবিমুখ হয়ে যেত এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগেই ফেতনা-ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়তো। কারণ, হযরত মুসা আ. মাত্র ৪০ দিন তুর পর্বতে সাধনা করতে গিয়ে উম্মতের কাছ থেকে দূরে থাকার সময় তার উম্মতেরা বাছুর পূজার ফেতনায় জড়িয়ে ঈমানহারা হয়ে যায়। মহানবী (স)-এর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে মুশরিকদের পক্ষে ও ইসলামের বিপক্ষে হয়তো এমন জনমত গড়ে উঠতো, যা’ পরে আর কাটিয়ে ওঠা মুসলমানদের পক্ষে সহজ হতো না। এ ধরনের ঘটনা মহানবীর উম্মতের জীবনে ঘটুক, তা’ আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেননি বলেই তিনি দুনিয়ার সময়ের গতি বন্ধ করে দিয়েছেন।
এদিকে শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ কোনো আমলের কথা শরীয়তে উল্লেখ করা হয়নি। তারপরও এ রাতে এতদঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মানুষ বিশেষ ইবাদত বন্দেগিতে লিপ্ত থাকতে পছন্দ করে থাকেন। বিশেষত এ রাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মসজিদে কিংবা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রথা বহুদিন যাবত্ চলে আসছে। অনেকে এ উপলক্ষে নফল রোজা রাখেন। তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করেন। এর কোনোটিকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ আল্লাহতায়ালার কাছে বান্দার যে কোনো আমলই মূল্যবান। কোনো বিশেষ ব্যবস্থা বা আয়োজন না করে সাধারণভাবে এ রাতে কবরস্থানে যাওয়া এবং মৃত ব্যক্তিদের জন্যে দোয়া করা ও দরুদ-ইস্তেগফার পাঠ করে দোয়া করা আবশ্যক। কারণ এ রাতে রাসূল (স) মেরাজ ভ্রমণে বেহেশত দোযখ পরিদর্শনকালে জাহান্নামীদের শাস্তি অবলোকন করেছিলেন। আমাদের দোয়া মৃত ব্যক্তিদের সেই শাস্তি কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারে।
এ রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত তথা কুরআন তেলাওয়াত করা, অধিকহারে দরুদ পাঠ করা এবং নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। কারণ এ রাতেই মহান আল্লাহ মহানবী (স)-এর মাধ্যমে উম্মতের জন্য নামাজ ফরজ করেন। হাদীস শরীফে ইরশাদ রয়েছে, নবী করীম (স) বলেন, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসেব হবে। তাই ফরজ নামাজ ঠিক রেখে নফল নামাজ যত বেশি পড়া যায় ততই আল্লাহর রহমতের ছায়াতলে ঠাঁই পাওয়া সহজ হবে। এক হাদীসে রয়েছে, ফরজের পর নফল নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমতের যত নিকটবর্তী হয়, অন্য কোনো আমলে তা সম্ভব হয় না। তাই এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। তবে নামাজের জন্য রাকাত সংখ্যার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বরং এই রাতে সামর্থ অনুযায়ী জামাত ব্যতীত অনির্দিষ্টভাবে নফল নামাজ পড়া এবং নিজের ও সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করা উচিত। শবে মেরাজে নামাজের রাকাত সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যেই প্রকৃত পুণ্যতা নয়; বরং একাগ্র ও আন্তরিকতা সহকারে অল্পসংখ্যক নামাজই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া সকল প্রকার নামাজেই সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কোনো সূরা নির্দিষ্ট নেই। যার কাছে যেভাবে সহজ মনে হবে, সেভাবেই নামাজ আদায় করে নেবেন। শবে মেরাজের পরদিন অর্থাত্ ২৭ রজব নফল রোজা রাখা যেতে পারে। বর্ণিত আছে, রাসূলে আকরাম (স) যখন মেরাজ ভ্রমণে যান তখন তিনি রোজা অবস্থায় ছিলেন। তাই তাঁর স্মরণে রোজা পালন করা অবশ্যই ফজিলত হিসেবে গণ্য হবে। তবে যে কোনো নফল রোজার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিশেষ মূল নীতি হলো, অন্তত একসঙ্গে দুটি রোজা রাখা। রাসূল (স) ইরশাদ করেছেন, ইহুদিরা একটি রোজা রাখে। তোমরা তাদের বিরোধিতা ও আল্লাহর অধিক সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্ত অন্তত দুটি রোজা রাখো। তাই রজবের ২৬-২৭ বা ২৭-২৮ তারিখে এই রোজা রাখা উত্তম।(লেখক- মাওলানা এসএম আনওয়ারুল করীম, বাংলাদেশ বেতারের ভাষ্যকার ও সাবেক অধ্যাপক, হাজীগঞ্জ মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজ)-সংগ্রহ।

এই বিভাগের আরও খবর

  সৌদিতে পৌঁছেছেন ৬৩ হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী, এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু

  হজ পালনে ৫৯ হাজার ৮২৫ হজযাত্রী সৌদিতে

  সৌদি পৌঁছেছে ৪০ হাজার হজযাত্রী, আরও ২ জনের মৃত্যু

  রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত তিন শতাধিক বৌদ্ধ বিহারে বিনামূল্যে ৪৪টি ধর্মীয় গ্রন্থ ত্রিপিটক বিতরণ

  বৃষ্টি ও বন্যাকে উপেক্ষা করে বান্দরবানে সনাতন ধর্মালম্বীদের শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রার সমাপ্তি

  ১২ জুলাই আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে ৪৪টি বৌদ্ধ বিহারে বিনামূল্যে ধর্মীয় গ্রন্থ ত্রিপিটক বিতরণ করা হবে

  হজ ফ্লাইট: প্রথম দিনে গেলেন ২৬শ যাত্রী

  বান্দরবানে সনাতন ধর্মালম্বীদের শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্টিত

  ৪ জুলাই প্রথম ফ্লাইটে ৪১৯ জন হজযাত্রী

  ৪ জুলাই বাংলাদেশ থেকে যাবে হজের প্রথম ফ্লাইট

  ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকল্প নেই

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে এখন টাকা থাকলে সব রকম অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। আপনি কি তা ঠিক মনে করেন?