মঙ্গলবার, ২১ মে ,২০১৯

Bangla Version
SHARE

শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০১৯, ০১:১২:৫২

প্রকৃত ধার্মিক হতে হলে প্রকৃত ধর্ম পালনে বিকল্প নেই-শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে

প্রকৃত ধার্মিক হতে হলে প্রকৃত ধর্ম পালনে বিকল্প নেই-শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে

রাঙ্গামাটিঃ-পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষ যার যার ধর্ম জীবনে থেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে থাকে। দেখা গেছে তারা প্রকৃত ধর্ম পালন করে না। প্রকৃত ধার্মিক হতে হলে প্রকৃত ধর্ম পালনে বিকল্প নাই। ধর্ম পালনের নামে মানুষ প্রকৃত ধর্ম পালনের নীতি থেকে বিছ্যুত হয়ে গেছে। আমাদের প্রকৃত ধর্ম পালনকারী হতে হবে। প্রত্যেক মানুষকে প্রকৃত ধর্ম পালনকারী হতে হবে। পৃথিবীতে হিন্দু, মুসলীম, খ্রীষ্টান, শিখ, জৈন, বাহাই, প্রভৃতি ধর্মের অস্থিত্ব ও বহু মানুষ রয়েছে। তার মধ্যে সঠিক ধর্ম হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্ম। ধর্ম অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলছিলেন- ধর্ম রত্ন উপাধিপ্রাপ্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহস্থাবির ভান্তে।
তিনি আরো বলেন অবিদ্যা পরিহার করে সম্যক দৃষ্টির মাধ্যমে প্রকৃত বৌদ্ধ ধর্ম পালনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সমস্ত প্রকারের অসামাজিক পাপাচার থেকে দুরে থাকতে হবে। কেহ কেহ নামে মাত্র ধর্ম পালন করে। নেশা দ্রব্য সেবন, ব্যাভিচার, চুরি, মিথ্যা বাক্য, প্রাণিবধকরে, তারা ধার্মীক নয়। তারা সকল প্রকার পাপে নির্মজ্জিত হয় এবং নরকানলে পুড়ে মরে। নকল ধার্মিক লোকের কারণে পবিত্র বৌদ্ধ ধর্মের অনেক ক্ষতি হয়। তিনি বলেন  মনুষ্য সমাজে ভান্তে’র (বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু) দান অপরিসীম।এটাকে পরিমাপ করা যায় না। সমাজের ভান্তেরা শৃঙ্খলা তৈরী সমাজ পরিবর্তন ও ধার্মিক ব্যক্তি তৈরী করতে পারে। একজন ধার্মিক মানুষ পরিবার সমাজ ও মানুষের মঙ্গল কামনা করে। বৌদ্ধ র্ধম পালন করে যারা নেশা, চুরি, হিংসা ও খারাপ কাজ করে তারা আনলাকী। এই সমস্ত অপকর্ম পরিহার করে ধর্ম রক্ষায় পরিশুদ্ধভাবে পবিত্র, রাজর্কীয় ও চিরশান্তির বৌদ্ধ ধর্ম পালনে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানান।
বৃহষ্পতিবার (১৪ মার্চ) সকালে ৬নং বালুখালী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি সদর দোয়াবিল নবচেতনা বন বিহার প্রাঙ্গনে আয়োজিত “স্মৃতি মন্দির তৈরীর উদ্দেশ্যে ভূমিদান” ধর্মানুষ্ঠানে  মহান আর্যপুরুষ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ও বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারক, ধর্মরত্ন উপাধি প্রাপ্ত  শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির (ভান্তে) উপরোক্ত ধর্ম দেশনা দেন। তিনি ১৯৫৪ সালে বালুখালী ইউনিয়নে জন্ম গ্রহণ করেন। এখন এটি দেশি বিদেশী ধর্মপ্রাণ দায়ক দায়িকাদের কাছে তীর্থ স্থানে পরিণত হয়েছে। পিনপতনের মধ্যে দিয়ে ভাবগাম্ভির্য্য পরিবেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়। এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও দুর-দুরান্ত থেকে অসংখ্য পূর্ণ্যার্থী আবাল বৃদ্ধ বনিতা ও দায়ক-দায়িকারা নতুন জামাকাপড় পড়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে বাবু বিশ্বেশ্র চাকমা’র (চক্কা) রচনা ও সুরারোপিত ধর্মীয় গান গেয়ে শোনান স্থানীয় মেয়ে শিল্পি ধর্ম রত্না চাকমা ও জোনাকী চাকমা।
উক্ত এলাকায় স্থানীয় দানশীল সুখী দম্পতি বাবু করুনা নিধান চাকমা কার্বারী ও তার সহধর্মীনি ‘‘কুসুমিকা চাকমা’’ স্মৃতি মন্দির তৈরীর উদ্দেশ্যে নিজেদের থাকা ০.৫০ শতক (অর্ধ একর) ভূমি দান করেন। সবাই সাধু! সাধু! বাক্যে এই দম্পতিকে ধন্যবাদ জানান। বৌদ্ধ ধর্মের ভূমি দানের পূন্য অপরিসীম। এই অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন যথাক্রমে মিস শিউলী চাকমা ও মহনা চাকমা আর দানপত্র পাঠ করেন  প্রতিমা চাকমা। পরবর্তীতে ভূমি দাতার পুত্র প্রমেশ বিকাশ চাকমা বৌদ্ধ শাস্ত্র অনুযায়ী ভূমি দানে উপকারিতা ফল লাভ এবং সুখ ও মঙ্গল কামনা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।এরপর পঞ্চশীল প্রার্থনা, ভূমিদান, সংঘদান অষ্টপরিস্কার দান, বুদ্ধমূর্তিদান ও হাজার বাতি দানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। সমগ্র ধর্মানুষ্ঠান পরিচালনা করেন গীতিকার ও সুরকার বাবু বিশ্বেশ্বর চাকমা (চক্কা)।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ভোটের পর থেকে সংসদে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ায় সম্মতি দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সঠিক কাজটিই করেছেন। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?