বুধবার, ২৪ জুলাই ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ০৮:৫৩:৫৬

পাহাড়ী ঢলে রাঙ্গামাটির চারটি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

পাহাড়ী ঢলে রাঙ্গামাটির চারটি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

রাঙ্গামাটিঃ-গত ছয়দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে রাঙ্গামাটির চারটি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানি উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি, লংগদু বরকল ও বিলাইছড়ির নিম্নাঞ্চলের মানুষ এখনো পানিবন্ধী হয়ে আছে।
কর্ণফুলীর শাখা কাচালং, মাইনী ও রাইংক্ষিয়ং নদীতে প্রবল বেগে পাহাড়ী ঢল নেমে আসায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়েছে ৯০ এম এস এল (মীনস সী লেভেল) অবস্থান করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় প্রতিনিয়ত পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  
শুক্রবার টানা ছয়দিনেও হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। পাহাড়ী ঢলে বিলাইছড়ি উপজেলার ৩নং ফারুয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বসত বাড়ী দোকানপাট পানিতে ঢুবে গেছে এবং জমির ফসল ফসলে ক্ষতি হয়েছে। ফারুয়া ইউনিয়নের চাইন্দ,উলুছড়ি, তক্তানালা, ওরাছড়ি, গোয়াইনছড়ি, এগুজ্যাছড়ি লত্যছড়ি গ্রামসহ ফারুয়া বাজারের কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে। বন্যা দূর্গত সকলে নিরাপদ স্হানে আশ্রয় নিয়েছে। ভারি বষর্ণের কারণে বিলাইছড়ি উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনসাধারণ ২ টি আশ্রয়কেদ্রে  অবস্থান নেয় ও উপেেজলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের রাতের খাবার বিতরণ করা হয়।
সপ্তাহ ব্যাপী টানা বর্ষনের কারণে লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ মডেল হাই স্কুলের পিছনের বাউন্ডারি ওয়াল সহ মাটি ধসে পড়েছে। ফলে স্কুলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অচিরেই মাটি ধসের ব্যাবস্থা করা না গেলে স্কুলের ভবন ধসে পড়ার  আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রবীর কুমার রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি  দ্রুত সময়ের মধ্যে মাটি ধরে রাখার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষে যতটুকু সম্ভব সহযোগীতা করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় লংগদু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মীর সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাইনীমুখ বাজার ব্যাবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ কামাল পাশা উপস্থিত ছিলেন।
কাপ্তাই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে কাপ্তাই লেকে ৫ ফুট মীন সি লেভেল (এমএসএল) পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। এই পানি বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে বলে কাপ্তাই বিদ্যুত কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে। গতকাল (১১ জুলাই) রাত ১১টার সময় কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী এখন (১১জুলাই) কাপ্তাই লেকে পানি থাকার কথা ৮৫ ফুট এমএসএল। কিন্তু লেকে বর্তমানে পানি রয়েছে ৯০ ফুট এমএসএলেরও বেশি। বৃষ্টি শুরুর আগে লেকে পানির পরিমান ছিল ৭৮ফুট এমএসএল। কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার প্রকৌশলী এটিএম আব্দুজ্জাহের। তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে লেকে পানি কাঙ্খিত পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। পানি বৃদ্ধির সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনও  বাড়ানো হয়। পানি বৃদ্ধির আগে প্রতিদিন একটি জেনারেটর চালানো হতো। আর একটি জেনারেটর থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে পানি বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে তিনটি জেনারেটরে  বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। আর এই তিনটি জেনারেটর থেকে ১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। যার পুরোটাই জাতীয় সঞ্চালন গ্রীডে সরবরাহ করা হয়। উজান থেকে যে হারে পানি নেমে আসছে তাতে লেকের পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ছয় দিনের টানা বর্ষণে জুরাছড়ি উপজেলা মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার মিতিংগাছড়ি, ডেবাছড়া, কুসুমছড়ি, ঘিলাতলী, বারাবান্যা, শীলছড়ি, ঘিলাতলী, শুকনাছড়ি, চুমাচুমিসহ বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
ঝুঁকির মধ্যে বসবাসকারী সকল জনগনকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাফুজুর রহমান। এসময় থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুল হাইসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা।
এদিকে বাঘাইছড়িতে বন্যার্তদের মাঝে জেলা পরিষদ হতে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। বাঘাইছড়িতে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে থাকা প্রায় সাড়ে তিনশতাধিক প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের মাঝে নগদ ৫শত টাকা আর্থিক সহায়তা, খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট প্রদান করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা।
শুক্রবার (১২জুলাই) সকালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারদের মাঝে সহায়তা প্রদান শেষে তুলাবান, বারিবিন্দুঘাট, মধ্যম ডেবার পাড়া, মুসলিম ব্লক, পুরান মারিশ্যা, মাষ্টার পাড়া বটতলী এলাকার পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন ও সেখানকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের সাথে কথা বলেন। তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের বলেন, এ সময় মনোবল হারিয়ে ফেললে চলবেনা। নিরাপদ স্থানে পরিবার পরিজন নিয়ে সুস্থভাবে থাকাটাই হচ্ছে বড় কাজ। মনোবল শক্ত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি পানিবন্দি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত সকলকে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া এবং যে কোন ধরনের পানিবাহিত রোগ বা ডায়রিয়া দেখা দিলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মানব ও প্রকৃতিসৃষ্ট প্রতিটি দূর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সমন্বয়ভাবে কাজ করে যেতে হবে। তিনি জেলা পরিষদের ন্যয় স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজের বিত্তবানদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফর আলী খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গীয়াস উদ্দিন মামুন, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক জগৎ দাশ, রেডক্রিসেন্ট জেলা ইউনিটের কার্যকরি সদস্য জাহাঙ্গীর’সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

  জনগনের উন্নয়নের জন্যই জেলা পরিষদ সৃষ্টি-বৃষ কেতু চাকমা

  শেখ হাসিনা ও তার সরকার খেলাধুলনার উন্নতির জন্য বদ্ধ পরিকর-মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন

  রাঙ্গামাটিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবসের র‌্যালী ও আলোচনা সভা

  যৌথ বাহিনীর অভিযানে কাউখালী বাজার থেকে ইউপিডিএফ (মুল) এর চাঁদা আদায়কারী গ্রেফতার

  জুরাছড়িতে ফলদ বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষারোপনঃ পরিবেশ বিপর্যয় রোধে বৃক্ষরোপন

  লংগদুতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ও ইউএনও প্রবীর কুমার সংবর্ধিত

  কাপ্তাইয়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের শাপলা কাব এওয়ার্ড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

  লংগদুতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের ৩জন সাময়িক বহিস্কার

  সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে বনায়নে বাধাগ্রস্ত করছে-সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার

  আন্দোলনে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীঃ রাঙ্গামাটি শহরে আবর্জনার স্তুপ, দুর্গন্ধে নাকাল পৌরবাসী

  বরকলে বিজিবির উদ্যোগে বিভিন্ন মালামাল সামগ্রি ও নগদ অর্থ বিতরন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে এখন টাকা থাকলে সব রকম অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। আপনি কি তা ঠিক মনে করেন?