সোমবার, ১৯ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৩ জুলাই, ২০১৯, ০৭:২৩:৩৪

বরকলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মেরামতের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বরকলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মেরামতের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পুলিন বিহারী চাকমা, বরকলঃ-রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলায় ৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন খাতে মেরামতের নামে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ কাগজে কলমে ঠিক থাকলেও বাস্তবে তার সিঁকি ভাগও বাস্তবায়ন হয়নি। এ ব্যাপারে সরেজমিনে তদন্ত করলে তা সত্যটা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিরা সরকারি বরাদ্দকৃত এসব টাকা লুটপাতে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়- চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে উপজেলার ৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লীপের (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান) খাতে প্রতি বিদ্যালয়ে ৪০থেকে ৫০হাজার করে ৩২লক্ষ ৮০ হাজার টাকার অধিক। ৩৮টি বিদ্যালয়ে রুটিন মেইনন্টেন্যান্স খাতে প্রতি বিদ্যালয়ে ৪০হাজার টাকা করে ১৫লক্ষ ২০ হাজার টাকা। ২১টি বিদ্যালয়ে মাইনর মেরামত খাতে ২লক্ষ টাকা করে ৪২ লক্ষ টাকা আর ৫টি বিদ্যালয়ে  রাজস্ব খাতে প্রতি বিদ্যালয়ে ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে মেরামতে বিভিন্ন খাতে ৯৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা সরকারি ভাবে ববরাদ্দ দেয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে চলতি অর্থ বছর মানে ৩০জুন শেষ হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কোন কাজ না করে প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বরাদ্দের টাকা গুলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান পাটোয়ারী সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ও হিসাব রক্ষন অফিস ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামতের জন্য স্লীপ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান্ট) রুটিন মেইনন্টেন্যান্স, মাইনর মেরামত ও রাজস্ব খাতে ৯৭লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অধিক চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ দেয়া হয়।
উপজেলার শিক্ষা কমিটির স্মারক নং- ৩৮.০১.০০০০.১৫২.০২০.১০.২০১৮ (অংশ-১)-৯৫৬/২৮৭ আর ৩৮.০১.০০০০.৭০০.১৪.০১৭.১৮.২৪১/৫৮০ এর নির্দেশনা রয়েছে ১৩. ০৬. ২০১৯ থেকে ১৬ জুনের মধ্যে এলজিইডি প্রাক্কলন তৈরী করে ১৭ জুনে কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আর্থিক ফান্ড থেকে ৫০% কাজ করার পর কমিটির রেজুলেশনসহ বিল ভাউচার করে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেবে। এর পরে উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রতিনিধি বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিদর্শন শেষে কাজের উপর প্রতিবেদন দেবেন। সেই প্রতিবেদনের উপর শিক্ষা কর্মকর্তা অথবা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে কাজের অগ্রগতি ও গুনগত মান যাছাই করে যতোটুকু কাজ হয়েছে তার বিল ছাড় দেবেন।
কিন্তু অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নিজস্ব অর্থ তহবিল না থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গতমাসের প্রথম সপ্তাহে কমিটির রেজুলেশন সহ কাজের বিল ভাউচার জমা দিয়েছেন। কিন্তু জুন মাসের মধ্যে কোন বরাদ্দের টাকা দেয়া হয়নি। জুন মাস ক্লোজিংয়ের পরে চলতি মাসের জুলাই ২তারিখে সোনালী ব্যাংক থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একাউন্টে জমা হয়েছে এবং ওই টাকাগুলো বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক উত্তোলন করেছেন। অথচ চলতি অর্থ বছরের জুন ক্লোজিংয়ে কাজ শেষ হওয়ার কথা কিন্তু জুন মাস শেষ হওয়ার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান পাটোয়ারী বরাদ্দের টাকা ছাড় দিয়েছেন। এতে দেখা গেছে যে বিদ্যালয়ে ২ লক্ষ টাকা অথবা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেখানে টাকা পেয়েছে মাত্র ১লক্ষ ২০ হাজার থেকে ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। আর যে বিদ্যালয়ে ৪০হাজার টাকা সেখানে দেয়া হয়েছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। বরাদ্দের বাকি টাকা গুলো ভ্যাট কর্তন করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, একাউন্ট অফিস ও ব্যাংকের খরচের নামে পার্সেন্টিজ রাখা হয়েছে বলে সুয়ারী পাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিমলেশ্বর চাকমা ও মহালছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিপো চাকমা।
বরকল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোজ চাকমা বিরো জানান, গত অর্থ বছরে তার বিদ্যালয়ে মেরামতের জন্য ১লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই বরাদ্দ থেকে ২০হাজার টাকা দিতে হয়  উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক নেতা জানান, চলতি বছরের বিদ্যালয় মেরামতের বরাদ্দ ছাড়া ও ৮২টি বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের খেলাধুলা ও শিখন সামগ্রি ক্রয় করার জন্য ১০হাজার টাকা করে দেয়া হয়। ওই টাকা থেকে শিক্ষা অফিসে ১হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে প্রতি বিদ্যালয় থেকে। এ ছাড়া ও বিদ্যালয়ের বিপিএড পাস করা শিক্ষকদের বেতন স্কেল পরিবর্তন করতে প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা। আর অভ্যন্তরীন বদলীর প্রস্তাব দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতি শিক্ষক কে ৫ থেকে ১৫হাজার টাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষক নেতা।
উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিরালা কান্তি চাকমাা জানান, বিদ্যালয় গুলোর মেরামতের ব্যাপারে তিনি কোন কিছু জানেন না বলে তিনি জানান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তিনি এ সবের ব্যাপারে জানেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিতির ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত আছেন বলে সহকারি কর্মকর্তা জানান।
এসব অনিয়ম দূর্নীতির ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান পাটোয়ারী বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পুর্ন ষড়যন্ত্র  মিথ্যা ও বানোয়াট। তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এ অভিযোগ করা হয়েছে। বিদ্যালয় গুলোর মেরামতের কাজ নিয়ম মেনে করা হয়েছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান চাকমা বলেন, চলতি অর্থ বছরে বিদ্যালয় গুলোর সংস্কার বা মেরামতের জন্য যে বরাদ্দ এসেছে তা সংশ্লিষ্টরা জানেন। তবে বিদ্যালয়গুলোর মেরামতের কাজ হয়েছে কিনা তা সরেজমিনে দেখা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

  রাজস্থলীতে সেনা টহল দলের উপর সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণঃ স্থল মাইন বিষ্ফোরণ ও গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ সেনা সদস্য আহত

  তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করতে জনবল বৃদ্ধিসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে-সচিব

  রাঙ্গামাটিতে মাদক বিরোধী সচেতনতামুলক ডিজিটাল কিওস্ক এলইডি ডিসপ্লের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক

  দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে একটি ব্রিজের দাবি বাস্তবায়িত করেনি কেউঃ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে এলাকাবাসী

  রাঙ্গামাটিতে জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন শৃংখলা সভা অনুষ্ঠিত

  জনগনের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের যা করার দরকার তাই করবে-বীর বাহাদুর ঊশৈসিং

  পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন কৃষদের মিশ্র ফল চাষ পরিদর্শনে পার্বত্য সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম

  পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চিন্তার ফলশ্রুতি-নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা

  কাপ্তাই ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০টি মোটরযান এর বিরুদ্ধে মামলা

  জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদন, শোক র‌্যালী ও আলোচনা সভা

  বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে-বৃষ কেতু চাকমা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?