বুধবার, ১৭ জুলাই ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯, ০২:৩৩:৪৮

৭২ঘন্টা বিদ্যুৎ নেই রাঙ্গামাটির তিন উপজেলায়, গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি

৭২ঘন্টা বিদ্যুৎ নেই রাঙ্গামাটির তিন উপজেলায়, গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি

পুলিন বিহারী চাকমা, বরকলঃ-৭২ ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই রাঙ্গামাটির বরকল জুরাইছড়ি ও বিলাইছড়ির তিন উপজেলায়। এতে করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা কেরোসিনের বাতি অথবা মোবাবাতি জ্বালিয়ে পড়ালেখা ও হোটেল ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে বিদ্যুৎ চলে যায়। সামান্য বৃষ্টি ঝড়ো বাতাস হলে ও বিদ্যুৎ থাকেনা এ তিন উপজেলায়। আবার প্রায় সময় যান্ত্রিক ক্রটির কারনে তিন পেইজের বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনে এক পেইজে থাকলেও দুটি পেইজে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকেনা। এছাড়া ঘন ঘন লোড শেডিং ও লো- ভোল্টেজের কারনে অতিষ্ঠ সাধারন গ্রাহকরা। এসব দেখার মত কেউ না থাকায় বিদ্যুতের এমন অবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে তিন উপজেলার ভূক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ।
এ তিন দূর্গম প্রত্যন্ত উপজেলায় গেল ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর  ১১ কেভি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দেয়া হয়। এ বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নসরুল হামিদ বিপু এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।
কাপ্তাই জল বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ৫৫ বছর পরে বরকল জুরাইছড়ি বিলাইছড়ির তিন উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে ও বিদ্যুতের সত্যিইকারের সুবিধা পাচ্ছেনা এসব উপজেলার হতভাগ্য মানুষরা।
জানা যায়, বরকল উপজেলায় বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৩শতাধিক। জুরাইছড়ি উপজেলায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার গ্রাহক আর বিলাইছড়ি উপজেলায় রয়েছে ১হাজার ৫শ পরিবার।
তিন উপজেলায় প্রায় তিন হাজার বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী পরিবার গেল ৩দিন ধরে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা কেরোসিনের বাতি ও মোমবাতি জ্বালিয়ে কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। আর ব্যবসায়ীদের ও একই অবস্থা। বর্তমানে ইলেকট্রনিক্স মালামালগুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্রিজে রাখা মাছ মাংস, সবজি ও ফলমুল নষ্ট হয়ে অনেক গ্রাহক আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন। এ রির্পোট লেখার পরেও উপজেলা গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ আসেনি।
জুরাইছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা ও বিলাইছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনির্মল দেওয়ান বলেন, তাদের  উপজেলায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এ দু উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার  গ্রাহক চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
বরকল উপজেলা বিদ্যুৎ গ্রাহক উন্নয়ন সমিতির আহবায়ক মোঃ আবু বক্কর ও বড় হরিনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিলাময় চাকমা জানান, বরকল ও জুরাইছড়িতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লাইন ম্যান থাকলেও বিলাইছড়িতে এখনো পর্যন্ত কোন লাইনম্যান নিয়োগ দেইনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ।
ফলে বিলাইছড়ি থেকে ফিউজ কেটে গেলে সেটা না লাগালে জুরাইছড়ি ও বরকল উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিলাইছড়িতে বেতন ভুক্ত কোন কর্মচারী না থাকায় ফিউজ কেটে গেলে প্রায় সময় ফিউজ লাগানোর মানুষ থাকেনা। ওই এলাকার বাসিন্দা জামাল নামে একজন কে বিকাশে কিছু টাকা দিলে সেই ফিউজ লাগালেই বরকল জুরাইছড়ি গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সংযোগ পায়। আর না লাগালে অন্ধকারে থাকতে হয়। এ দূটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ আসার পর থেকে এ অবস্থা বিরাজ করছে।
তারা আরো বলেন, আকাশে কালো মেঘ দেখা দিলে, সামান্য বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যদি ভাগ্যেক্রমে বিদ্যুৎ আসলেও ঘন্টার পর ঘন্টা ঘন ঘন লোড শেডিং, লো-ভোল্টেজের কারনে এ প্রচন্ড গরমে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। বিদ্যুতের এ নির্মম নিষ্ঠুর আচরন দেখার বা বলার কেউ নেই।
ভূক্তভোগী গ্রাহকরা আক্ষেপ করে জানান, সরকারের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এমন এক প্রতিষ্ঠান যার বিরুদ্ধে অভিযোগ কিংবা লেখালিখি করলেও কোন সমাধান হয়না। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে দেখার ও কেউ নেই। ফলে তাদের বিরুদ্ধে বললেও কি না বললেও কি।
এ ব্যাপারে কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ মজিবুর রহমান মজিদ জানান, কাপ্তাই লিচু বাগান ও চন্দ্রঘোনা এলাকায় ৩৩কেভি লাইনটির যান্ত্রিক ক্রটি হওয়ায় তিন উপজেলায় আপাতত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজ চলছে। যতো দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের ব্যাপারে জানতে চাইলে আবাসিক প্রকৌশলী বলেন, বিলাইছড়ি জুরাইছড়ি ও বরকল দূর্গম উপজেলায় যে ১১কেভি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনটি দেয়া হয়েছে তা গ্রাহকদের চাহিদার চাইতে অপ্রতুল। যার কারনে সন্ধ্যার সময় এক সাথে সমস্ত বিদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। যার কারনে ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজ হয় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার তিন উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কাপ্তাইয়ের ৩৩কেভি লাইনটি নষ্ট হওয়ায় কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। দূর্গম পাহাড়ী উপজেলা গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দেয়ায় রাস্তাঘাট না থাকায় লাইনে সমস্যা দেখা দিলেও যখন তখন যাওয়া যায়না। ফলে লাইনের ক্রুটি ছাড়তে একটু সময় লাগে। তাছাড়াও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) যথেষ্ট জনবল সংকট রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জনবল নিয়োগ দিলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

  ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে জ্ঞানের ভান্ডার অর্জন করতে পারে সে জন্য শিক্ষকদের আরো মনোযোগী হতে হবে-সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার

  কাপ্তাইয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

  ভারী বৃষ্টিতে কর্ণফুলী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে বন্ধ হয় লিচুবাগান ফেরী পারাপার, দূর্ভোগে পড়ে হাজারো মানুষ

  পাহাড়ী ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির চার উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

  কাপ্তাই পাহাড় ধ্বসে নিহত পরিবারকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেক প্রদান

  বরকলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে চিকিৎসা সেবা ও ত্রান সামগ্রী বিতরন

  লংগদুতে কৃষক মাঠ স্কুলের সদস্যদেরকে কৃষি সরঞ্জামাদি বিতরণ

  পাহাড়ী ঢলে বিলাইছড়িতে বন্যার অবনতি ফারুয়া বাজারসহ ৭টি গ্রাম প্লাবিত

  বিলাইছড়ি দূর্গম ফারুয়া বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শণে জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, আর্থিক সহায়তা প্রদান

  লংগদুতে আরো ৩জনকে অর্থদন্ডসহ জাল ও নৌকা জব্দ

  বাঘাইছড়িতে বন্যা দুর্গতদের মাঝে মারিশ্যা বিজিবির ত্রাণ সহায়তা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে এখন টাকা থাকলে সব রকম অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। আপনি কি তা ঠিক মনে করেন?