বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯, ০৩:০৭:২১

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি হিসেবে পার্বত্য গুর্খাদের সরকারী স্বীকৃতি প্রদানঃ সরকারের প্রতি গুর্খা সম্প্রদায়ের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি হিসেবে পার্বত্য গুর্খাদের সরকারী স্বীকৃতি প্রদানঃ সরকারের প্রতি গুর্খা সম্প্রদায়ের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন

রাঙ্গামাটিঃ-পার্বত্য চট্টগ্রামে গুর্খাদের আগমন ১৮৭১ সনে। তখন ব্রিটিশ শাসনামল। পার্বত্য চট্টগ্রামের কুকী জনগন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করলে তাদের বিদ্রোহ দমনের জন্য অবিভূক্ত ভারত থেকে গুর্খা রেজিমেন্টের সৈন্যদের পার্বত্য চট্টগ্রামে আনা হয়। বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ সরকার গুর্খা সেনাদের মধ্যে যারা পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী ভাবে বসবাসে আগ্রহী তাদেরসহ নেপাল থেকে গুর্খা পরিবারদের এনে মাইনী ভ্যালী এলাকায় পূনর্বাসন করে ও সেখানে গুর্খা কলোনী স্থাপন করা হয়। যাতে দুর্ধর্ষ কুকীরা গুর্খাদের কলোনী ডিঙিয়ে এপারে মং রাজার এলাকায় আসতে না পারে। (তথ্য সুত্র-এ ফ্লাই অন দ্য হুইল লেখক টি এইচ লুইন)।
পরবর্তীতে ১৯৪৭ সনে দেশ ভাগের পর এসব গুর্খা পরিবারের অনেকেই ভারতে ও নেপালে ফিরে যায়। বাকীরা পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন সমতল জেলায় জীবিকার তাগিদে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে গুর্খারা রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলাসহ সমতলের বিভিন্ন জেলায় বসবাস করছে। আর জীবিকার তাগিদে তারা ভিন্ন ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে তাদের জীবন অতিবাহিত করছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন বিধিতে গুর্খাদের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কিছু লেখা হয়নি। সে কারনে গুর্খারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক  সকল পর্যায়ে অবহেলিত। গুর্খাদের মধ্যে নেতৃত্ব না থাকার কারনে তারা তাদের কথা কারোর কাছে বলতে পারছেনা। যাদের উপর তারা ভরসা করেছিল সময় বলে দিচ্ছে যে তারা গুর্খাদের জন্য কতটুকু কি করেছে। তবে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত গুর্খাদের, কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই। সময়ের ব্যবধানে এবং সকলের সহযোগিতায় পার্বত্য গুর্খাদের জন্য সুখবর আসতে শুরু করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-২ বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকার ”ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি বিশেষ পেশাজীবি বর্সাশ্রিত গোষ্টি ও অনগ্রসর জনগোষ্টির তালিকা প্রনয়ণ” শিরোনমে গত ৩ জুলাই ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় (পত্র নং-৪৩.০০.০০০০.১২৯.৯৯.০৮৬.১৭.২৫৫ তারিখ-০৭ আগষ্ট ২০১৮) ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির তালিকা সরকারীভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, এবং ৩০নং ক্রমিকে গুর্খাদের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। আর এ এব্যাপারে পাহাড়ে ও সমতলের বিভিন্ন জেলায় বসবাসরত গুর্খা সম্প্রদায় এর জন্য সদাশয় সরকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন।
এব্যাপারে রাঙ্গামাটি জেলা গুর্খা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দরা বলেন, এটি সত্য যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও এ যাবৎ যারা তিন পার্বত্য জেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউটের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সমুহের সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে তারা গুর্খা সম্প্রদায়কে তাদের কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন বা অংশগ্রহনের সুযোগ কমেই দিয়ে থাকে। এতে করে গুর্খাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নিজেদের মধ্যেই রয়ে গেছে। সরকারের নিম্ন স্তরে সরকারী সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত কর্তৃপক্ষদের উদাসীনতার ফলে সরকারের বহু ভালো কাজের সুফল গুর্খা সম্প্রদায়ের সাধারণ জনগন পাইনা। এতে করে তাদের জীবন জীবিকার নিবার্হ করতে অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন কর্মকান্ডে গুর্খা সম্প্রদায় অবহেলিত হয়ে জীবন যাপন করছে। তাই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের সুদৃষ্টি দিয়ে এগিয়ে আসা দরকার।
তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ আইন সমুহে গুর্খাদের অর্ন্তভুক্তি করা এখন সময়ের দাবী। জেলা পরিষদ সমুহের আগামী সদস্য নির্বাচনে গুর্খারা তাদের প্রতিনিধিত্ব দেখতে চায়। তারা আশা করে আগামীতে চির অবহেলিত এই গুর্খা জনগোষ্ঠির প্রতি সদাশয় সরকার বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন গুর্খা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা।

এই বিভাগের আরও খবর

  উন্নতশীল দেশ গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে-বৃষ কেতু চাকমা

  শারদীয় দূর্গোৎসব আনন্দঘন পরিবেশে পালন করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে প্রশাসনের-এ,কে,এম মামুনুর রশিদ

  রাঙ্গামাটি শহরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জেল হাজতে

  রাঙ্গামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশ সফর, ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল উদ্দিন

  মাইনীমুখ বাজারে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন লংগদু জোন কমান্ডার

  বাঘাইছড়িতে দূর্বৃত্তদের গুলিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এমএন লারমা গ্রুপের দুই কর্মী নিহত

  দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে চলছে-সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার

  কাপ্তাই থেকে উৎপাদিত পরিবেশ বান্ধব সৌর বিদ্যুৎ সারা দেশে সঞ্চলিত যাচ্ছে

  সরকার কর্মজীবি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে-এ কে এম মামুনুর রশিদ

  প্রশাসন আইনের শাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে ন্যায় ও সমতা ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান-এ্যাড.দীপেন দেওয়ান

  রাঙ্গামাটির খাদ্য অফিসে প্রতি সিডিউল ৩শ টাকা বেশী নেয়ার অভিযোগ!

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?