বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ,২০১৯

Bangla Version
SHARE

মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯, ০৮:৪১:২৮

জনবল সংকটের বরকলের সমাজ সেবা অফিসঃ সুপারভাইজারকে কর্মকর্তার দায়িত্ব, মানুষের দূর্ভোগ

জনবল সংকটের বরকলের সমাজ সেবা অফিসঃ সুপারভাইজারকে কর্মকর্তার দায়িত্ব, মানুষের দূর্ভোগ

পুলিন বিহারী চাকমা, বরকলঃ-রাঙ্গামটির বরকল উপজেলায় সমাজ সেবা অফিসে জনবল না থাকায় দাপ্তরিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে সরকারের এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছ উপজেলার সাধারন মানুষ। অন্যদিকে আর্থিক মানসিক ভাবে হয়রানি হচ্ছে বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা,শিক্ষা প্রতিবন্ধী ভাতা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, রাজস্ব খাতে ঋণ, বিশেষ বরাদ্দ ঋণ,পঞ্চম ও ৬ষ্ঠ পর্বের ঋণ, পল্লী সমাজ সেবা (আরএসএস) ও এসিড দগ্ধ মহিলা ও শারিরীক প্রতিবন্ধীদের ঋণ সেবা দেয়া হয়। এ সমন্ত কার্যক্রম তৃনমুল পর্যায়ে শতভাগ পৌঁছে দিতে হলে এ দুর্গম অঞ্চলে যথেষ্ট জনবলের প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের এসব সেবা জনগনের দোর গড়ায় পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট অফিসে যেমনি জনবল নেই তেমনি দক্ষ কর্মীরও অভাব রয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের অধিক সময় ধরে বরকল উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে কর্মকর্তার পদটি শুন্য রয়েছে। এ ছাড়াও অফিস সহকারি, ইউনিয়ন সমাজ কর্মীর পদগুলোও শুন্য। উপজেলার ৫ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ে ইউনিয়ন সমাজ কর্মী রয়েছে মাত্র দুইজন। একজন তনুশ্রী চাকমা বরকল সদর ইউনিয়নের দায়িত্বে আর অন্য জন বিমল জ্যোতি চাকমা সীমান্তবর্তী  বড় হরিনা ইউনিয়ন ও আইমাছড়া ইউনিয়নের দায়িত্বে রয়েছেন। বাকী সুভলং ইউনিয়ন ও ভুষণছড়া ইউনিয়নে ২জন কারিগরি প্রশিক্ষককে ইউনিয়ন সমাজ কর্মীর দায়িত্ব দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।
বড়হরিনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিলাময় চাকমা ও আইমাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অমর কুমার চাকমা জানান, অন্য উপজেলা থেকে বরকল উপজেলায় বদলী হয়ে আসার ২বছরেও বড়হরিনা ইউনিয়ন ও আইমাছড়া ইউনিয়নে দায়িত্বরত বিমল জ্যোতি চাকমা একবার ও তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মস্থলে যাননি। অথচ প্রতিমাসে ভূঁয়া পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাঝে মধ্যে দায়িত্ব প্রাপ্ত এলাকায় যান বলে জানান বিমল জ্যোতি চাকমা। তিনি একজন মাঠ কর্মী মাঠে তার কাজ কিন্তু
দুটি ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকেও ২বছরে একবার ও কর্মস্থলে না গিয়ে ভূঁয়া পরিদর্শন দাখিল করে প্রতি মাসে বেতন ভাতা সহ সরকারি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন ইউনিয়ন সমাজ কর্মী বিমল জ্যোতি চাকমা। এছাড়াও বরকল সদর ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা তনুশ্রী চাকমার অবস্থাও একই। মাসের শেষে অফিসে এসে বেতন ভাতা নেয়া ছাড়া তাদের আর কোন কাজ নেই। অফিসে কর্মকর্তা না থাকায় এসব দেখার ও কেউ নেই। ফলে একদিকে সরকারের টাকা কাজ না করে নিচ্ছে অন্য দিকে সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন মানুষ।
জানা যায়, মোঃ ফজলুর রহমান। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজ কর্মী থেকে পদোন্নতি পেয়ে সুপারভাইজার হয়েছেন। সম্প্রতি তাকে জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে উপজেলার সমাজ সেবা কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে নাম মাত্র তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার পদটি একজন প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তার পদ। সেই পদে কিভাবে একজন সুপারভাইজার কে দায়িত্ব দেয়া হয় এবংদাপ্তরিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা কি সম্ভব তা জানতে চাইলে সুপারভাইজার থেকে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার দায়িত্ব পাওয়া মোঃ ফজলুররহমান জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কর্মকর্তার পদটি শুন্য থাকায় দাপ্তরিক কর্মকান্ডে সমস্যা হচ্ছে। জেলা সদরে গিয়ে কাজ গুলো করে আনতে হয়। সেই সমস্যার কথা চিন্তা করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১বৎসর হচ্ছে জেলা সমাজ সেবা অফিসের উপ- পরিচালক তাকে এ  দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই যতোটুকু সম্ভব দাপ্তরিক কাজ গুলো করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
তার সাথে আলোচনা করে জানা যায়, সবচাইতে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে তাকে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হলেও তার বেতন ভাতা হয় সুপারভাইজার পদের। একজন কর্মকর্তার যে বেতন ভাতা ও সরকারি সুযোগ সুবিধা কোনটা সেই পায় না। ফলে নামে কর্মকর্তা হলেও কাজে নয়। একজন প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তার কাজের যে দক্ষতা অভিজ্ঞতা কিন্তু ফজলুররহমানের দাপ্তরিক কর্মকান্ডে তা নেই। যার কারনে উপজেলার সাধারন মানুষ সরকারের এ জন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সেবা থেকে যেমনি বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ফলে বর্তমান সরকারের টেকসই সামাজিক সেবা প্রকল্পের আওতায় তেমন সুবিধা দিতে পারছেনা সরকারের জন গুরুত্বপূর্ণ এ সমাজ সেবা দপ্তরটি।
এসবের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ওমর ফারুক জানান, দূর্গম এ উপজেলায় কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেও তারা সেখানে থাকতে চাইনা। নানা সমস্যার অজুহাতে বদলী হয়ে চলে যায়। ফলে বার বার কর্মকর্তার পদটি শুন্য থাকে। সামনে কর্মকর্তা নিয়োগ হলে সংকট দুর করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

 

  রাঙ্গামাটির হোটেল ‘সুফিয়া’কে অর্থদন্ড করেছে ভোক্তা অধিদপ্তর

  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর

  রাঙ্গামাটিতে মাদকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরো কঠোর হতে হবে-বৃষ কেতু চাকমা

  সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে আবারো হরতাল-অবরোধ

  কেআরসি স্কুলের টিউবওয়েল চুরি ছাত্রছাত্রীর পানীয় জলের কষ্ট

  বরকল খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় অফিস নয় যেন গোয়াল ঘর

  দুর্গম পাহাড়ে বেসরকারী শিক্ষকরা যা করে যাচ্ছেন তা অনুকরণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে-মোঃ খোরশেদ আলম

  রাঙ্গামাটি রেড ক্রিসেন্টের প্রাথমিক চিকিৎসা, সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের ছয়দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

  রাঙ্গামাটিতে আওয়ামীলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

  ওয়ার্ল্ড পীস এন্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটি রাঙ্গামাটির উদ্যোগে গুণিজন সংবর্ধনা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির সমালোচনার জবাবে দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এতে প্রমাণিত হয়েছে যে দেশে বিচার বিভাগ স্বাধীন। আপনি কি তার যুক্তিতে সন্তুষ্ট?