বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১৩ মে, ২০১৯, ০৮:৫১:১১

বৌদ্ধ পূর্ণিমায় আইএসের জঙ্গী হামলার হুমকিঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা

বৌদ্ধ পূর্ণিমায় আইএসের জঙ্গী হামলার হুমকিঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা

ডেস্ক রিপোর্টঃ-বাংলাদেশ ও ভারতে বৌদ্ধ পূর্ণিমায় আইএসের হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে এই হামলা মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসন সতর্ক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। বিশেস করে পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ও বৌদ্ধ মন্দিরের সংখ্যা বেশী থাকায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পূর্ব সতর্কতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পুলিশ সুপারদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ১৮ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মোহা, আহমার উজ্জামান জানান, হুমকির প্রেক্ষিতে জেলার সকল গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এসব ধর্র্মীয় প্রতিষ্ঠানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকের টহল রয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইএস কর্তৃক হামলার হুমকির সতর্কতার বিষয়ে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, আগামী ১৮ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মন্দিরগুলোতে সতর্কতামূলক নজরদারির পাশাপাাশি পূর্ণশক্তি নিয়োগ করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, জেলার যে কোন স্থানে যে কোন সময় তল্লাশির চেক পোষ্ট বসানো হবে। তিনি বলেন, কাউকে সন্দেহের বাইরে রাখা হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যা যা করণীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাই করা হবে। সকল ধরনের মানুষকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে। এজন্য ধর্মীয় গুরুরা বাদ যাবে না। যাকে সন্দেহ হবে তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রমাণ পেলে শাস্তি অবধারিত। দেশের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সব কিছু করতে প্রস্তুত। রাঙ্গামাটির ৫শত বৌদ্ধ মন্দিরের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, এধরনের একটা হামলার ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য আমাদের কাছে আসার পর আমরা সম্ভাব্য সকল ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। অন্যান্য বারের তুলনায় এবারে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ প্যাগোডা, কিয়াং, মন্দির ও গির্জাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করেছি। কিছু জায়গায় আমরা পেট্রোলের ব্যবস্থা করেছি। আর যেগুলো একটু কম গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোতে মোবাইল টিমের মাধ্যমে একটা নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করেছি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে আমরা বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত, ভিক্ষু, ফাদারদের নিয়ে মতবিনিময় করেছি। এসব বৈঠকে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য কিছু পরামর্শ প্রদান করেছি। আমাদের মোবাইল নম্বরগুলো তাদেরকে দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন থানা থেকে কোনো না কোন অফিসার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিজিট করছেন। যারা সন্ত্রাসী হামলা করতে পারে তারা কোন কোন ছদ্মবেশে আসতে পারে সে বিষয়ে তাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। ভান্তেদের ছদ্মবেশে, ফাদারদের ছদ্মবেশে, গর্ভবতী মহিলাদের ছদ্মবেশে, বিভিন্নভাবে তারা আসতে পারে সে বিষয়ে তাদের সচেতন করা হয়েছে। তারাও নিজস্ব চেকিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং আমরাও বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত চেক পোষ্ট করছি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গে এই সতর্কতার কথা জানিয়েছেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)। এই সম্ভাব্য হামলা চালাতে পারে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) বা ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
বুদ্ধ পুর্ণিমায় হামলার আশংকা পাশাপাশি আইবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু বা বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালানো হতে পারে। শুক্রবার এই সতর্ক বার্তা পশ্চিম বঙ্গ সরকার জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। গত মাসে ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার পর পশ্চিমবঙ্গে সতর্কতামূলক পদেক্ষপ নেওয়া হয়। হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
এর আগে ২৭ এপ্রিল আইএস পন্থী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে বাংলায় প্রকাশিত একটি বার্তায় গোষণা দেওযা হয়েছিল, ‘শিগগিরই আসছি’। শ্রীলঙ্কায় হামলার জন্য ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে)-কে দায়ী করে আসছেন শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ। এনটিজে’র সঙ্গে জামাতুল মুজাহিদিন ইন্ডিয়ার (জে এমআই) ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। শ্রীলংকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধনে এর আগে বলেছিলেন, শ্রীলংকা সিরিজ হামলায় জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জে এমবি) ভারতীয় শাখা জে এমআই জড়িত থাকতে পারে। খবরে বলা হয়েছে, ভারতে জেএমআই’র কর্মকান্ড সর্ম্পকে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক খবরে ভারতে তাদের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারীতে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে জেএমবি’র দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এই বিভাগের আরও খবর

  উন্নতশীল দেশ গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে-বৃষ কেতু চাকমা

  শারদীয় দূর্গোৎসব আনন্দঘন পরিবেশে পালন করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে প্রশাসনের-এ,কে,এম মামুনুর রশিদ

  রাঙ্গামাটি শহরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জেল হাজতে

  রাঙ্গামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশ সফর, ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল উদ্দিন

  মাইনীমুখ বাজারে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন লংগদু জোন কমান্ডার

  বাঘাইছড়িতে দূর্বৃত্তদের গুলিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এমএন লারমা গ্রুপের দুই কর্মী নিহত

  দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে চলছে-সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার

  কাপ্তাই থেকে উৎপাদিত পরিবেশ বান্ধব সৌর বিদ্যুৎ সারা দেশে সঞ্চলিত যাচ্ছে

  সরকার কর্মজীবি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে-এ কে এম মামুনুর রশিদ

  প্রশাসন আইনের শাসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে ন্যায় ও সমতা ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান-এ্যাড.দীপেন দেওয়ান

  রাঙ্গামাটির খাদ্য অফিসে প্রতি সিডিউল ৩শ টাকা বেশী নেয়ার অভিযোগ!

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?